০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উত্তেজনার মধ্যে কাতারে মোবাইল মিসাইল লঞ্চার মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশ কাতারে মোবাইল মিসাইল লঞ্চার মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদরদপ্তর পেন্টাগনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত আটটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। দেশগুলো হলো— ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং তুরস্ক। এর মধ্যে কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি অঞ্চলটির সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সময় ইরানের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রে এই ঘাঁটির কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। নতুন করে মোবাইল মিসাইল লঞ্চার মোতায়েনের জন্য আল-উদেইদ ঘাঁটিকেই বেছে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে প্রায় দুই দশক ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর উত্তেজনা আরও বাড়ে। ২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যায়।

পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িয়ে পড়ে। যদিও পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তবুও কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনো স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরেনি।

এরই মধ্যে গত ডিসেম্বরে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনা আবারও তীব্র হয়। গত জানুয়ারির মাঝামাঝি আরব সাগরের মধ্যপ্রাচ্য অংশে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিশাল আকারের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে। বর্তমানে আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত রণতরী টহল দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কাতারে মোবাইল মিসাইল লঞ্চার মোতায়েনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করছে, অন্যদিকে ইরানকে কৌশলগত বার্তাও দিচ্ছে।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি

উত্তেজনার মধ্যে কাতারে মোবাইল মিসাইল লঞ্চার মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট সময় : ১১:৫৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশ কাতারে মোবাইল মিসাইল লঞ্চার মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদরদপ্তর পেন্টাগনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত আটটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। দেশগুলো হলো— ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং তুরস্ক। এর মধ্যে কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি অঞ্চলটির সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সময় ইরানের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রে এই ঘাঁটির কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। নতুন করে মোবাইল মিসাইল লঞ্চার মোতায়েনের জন্য আল-উদেইদ ঘাঁটিকেই বেছে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে প্রায় দুই দশক ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর উত্তেজনা আরও বাড়ে। ২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যায়।

পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িয়ে পড়ে। যদিও পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তবুও কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনো স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরেনি।

এরই মধ্যে গত ডিসেম্বরে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনা আবারও তীব্র হয়। গত জানুয়ারির মাঝামাঝি আরব সাগরের মধ্যপ্রাচ্য অংশে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিশাল আকারের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে। বর্তমানে আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত রণতরী টহল দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কাতারে মোবাইল মিসাইল লঞ্চার মোতায়েনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করছে, অন্যদিকে ইরানকে কৌশলগত বার্তাও দিচ্ছে।

শু/সবা