১২:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকার পানিদূষণ কমাতে বাংলাদেশকে ৩৭ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

ঢাকা ও আশপাশের এলাকার পানিদূষণ হ্রাস, স্যানিটেশন উন্নয়ন এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদারে বাংলাদেশকে ৩৭ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক। এই অর্থ দিয়ে নদী ও খাল পুনরুদ্ধার, পরিবেশগত অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকদের বোর্ড সভায় ঋণ প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। পরদিন সকালে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি।

পানিনিরাপত্তা ও সহনশীলতা কর্মসূচি

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ‘ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ কর্মসূচির আওতায় বৃহত্তর ঢাকায় পানিদূষণ কমাতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

সংস্থাটির তথ্যমতে, দেশের আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের প্রায় অর্ধেক এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) এক-তৃতীয়াংশ আসে বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চল থেকে। ফলে এ এলাকার পরিবেশগত সুরক্ষা শুধু জনস্বাস্থ্য নয়, জাতীয় অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উপকারভোগী লাখো মানুষ

এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ নিরাপদ স্যানিটেশন সুবিধা পাবে এবং আরও ৫ লাখ মানুষ উন্নত কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবার আওতায় আসবে। দূষণ ও সেবার ঘাটতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম বলেন, দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং শিল্পায়নের ফলে ঢাকার বর্জ্যপানি ও দূষণ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা ব্যাপক চাপে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

তিনি আরও বলেন, “এই কর্মসূচি সময়ের সঙ্গে ঢাকার নদী ও খালের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।”

ভয়াবহ দূষণ পরিস্থিতি

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বর্তমানে তীব্র বর্জ্যপানি ও পানিদূষণ সংকটে রয়েছে। শহরের মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ বাসিন্দার পাইপলাইনভিত্তিক পয়োনিষ্কাশন সংযোগ রয়েছে। অপরিশোধিত বর্জ্যপানি ও পয়োনিষ্কাশনের ৮০ শতাংশেরও বেশি আশপাশের নদী ও জলাশয়ে গিয়ে পড়ছে।

এছাড়া রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানার প্রায় ৮০ শতাংশ ঢাকায় অবস্থিত। সাত হাজারের বেশি কারখানা থেকে প্রতিদিন আনুমানিক ২৪০ কোটি লিটার অপরিশোধিত বর্জ্যপানি নির্গত হচ্ছে, যা আশপাশের জলাশয়ে গিয়ে মিশছে। এর ফলে ত্বকজনিত রোগ, ডায়রিয়া, স্নায়বিক সমস্যাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এই ঋণ কর্মসূচি ঢাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি

ঢাকার পানিদূষণ কমাতে বাংলাদেশকে ৩৭ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

আপডেট সময় : ০২:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা ও আশপাশের এলাকার পানিদূষণ হ্রাস, স্যানিটেশন উন্নয়ন এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদারে বাংলাদেশকে ৩৭ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক। এই অর্থ দিয়ে নদী ও খাল পুনরুদ্ধার, পরিবেশগত অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকদের বোর্ড সভায় ঋণ প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। পরদিন সকালে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি।

পানিনিরাপত্তা ও সহনশীলতা কর্মসূচি

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ‘ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ কর্মসূচির আওতায় বৃহত্তর ঢাকায় পানিদূষণ কমাতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

সংস্থাটির তথ্যমতে, দেশের আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের প্রায় অর্ধেক এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) এক-তৃতীয়াংশ আসে বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চল থেকে। ফলে এ এলাকার পরিবেশগত সুরক্ষা শুধু জনস্বাস্থ্য নয়, জাতীয় অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উপকারভোগী লাখো মানুষ

এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ নিরাপদ স্যানিটেশন সুবিধা পাবে এবং আরও ৫ লাখ মানুষ উন্নত কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবার আওতায় আসবে। দূষণ ও সেবার ঘাটতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম বলেন, দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং শিল্পায়নের ফলে ঢাকার বর্জ্যপানি ও দূষণ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা ব্যাপক চাপে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

তিনি আরও বলেন, “এই কর্মসূচি সময়ের সঙ্গে ঢাকার নদী ও খালের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।”

ভয়াবহ দূষণ পরিস্থিতি

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বর্তমানে তীব্র বর্জ্যপানি ও পানিদূষণ সংকটে রয়েছে। শহরের মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ বাসিন্দার পাইপলাইনভিত্তিক পয়োনিষ্কাশন সংযোগ রয়েছে। অপরিশোধিত বর্জ্যপানি ও পয়োনিষ্কাশনের ৮০ শতাংশেরও বেশি আশপাশের নদী ও জলাশয়ে গিয়ে পড়ছে।

এছাড়া রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানার প্রায় ৮০ শতাংশ ঢাকায় অবস্থিত। সাত হাজারের বেশি কারখানা থেকে প্রতিদিন আনুমানিক ২৪০ কোটি লিটার অপরিশোধিত বর্জ্যপানি নির্গত হচ্ছে, যা আশপাশের জলাশয়ে গিয়ে মিশছে। এর ফলে ত্বকজনিত রোগ, ডায়রিয়া, স্নায়বিক সমস্যাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এই ঋণ কর্মসূচি ঢাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শু/সবা