প্রতিটি নির্বাচনের আগে ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি মিললেও ভোট শেষ হলেই তা আর বাস্তবায়ন হয় না-এমন অভিযোগ লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের শিবেরকুটি এলাকার বাসিন্দাদের।
দীর্ঘদিনেও রত্নাই নদীর ওপর স্থায়ী ব্রিজ না হওয়ায় অন্তত ৪টি গ্রামের প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ নৌকা ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করে চলাচল করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শিবেরকুটি সরেয়ারতল ঘাটে নদীর পানি কমে গেলে স্থানীয়ভাবে নির্মিত নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই পারাপারের একমাত্র মাধ্যম হয়ে ওঠে। প্রতিদিন নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধরা ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন। বর্ষা মৌসুমে নৌকা ছাড়া বিকল্প পথ থাকে না।
স্থানীয়দের দাবি, শিবেরকুটি, দক্ষিণ শিবেরকুটি, বনগ্রাম ও ধাইরখাতাসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াত এই ঘাটের ওপর নির্ভরশীল। ব্রিজ না থাকায় কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ছেন কৃষকরা। শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াতেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
শিবেরকুটি গ্রামের বাসিন্দা মো. রেজাউল করিম জানান, বড় যানবাহন চলাচল করতে না পারায় বাধ্য হয়ে কম দামে ফসল বিক্রি করতে হয়। অন্যদিকে, কোদালখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তারিকুল ইসলাম জানান, অতীতে বর্ষাকালে নৌকায় পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন, যা এখনো আতঙ্ক তৈরি করে।
কুলাঘাট ইউনিয়নের সাবেক সদস্য মোশাররফ হোসেন মুকুল বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে প্রায় ২০ হাজার মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীব জানান, “দেশব্যাপী গ্রামীণ সড়কে গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ নির্মাণ” প্রকল্পের আওতায় শিবেরকুটি সরেয়ারতল ঘাটে ব্রিজ নির্মাণের লক্ষ্যে ডিপিপি চূড়ান্ত করতে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। পরিদর্শন প্রতিবেদনে ব্রিজ নির্মাণকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট জেলার পাঁচ উপজেলায় মোট ৮২টি ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
শু/সবা






















