১২:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাতীয় পার্টির ঘাঁটিতে বিএনপি–জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

 ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন পক্ষের উদ্যোগে একাধিক জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে নানা হিসাব-নিকাশ করছে রাজনৈতিক দলগুলো। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশ পাচ্ছে সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে বিশ্লেষণ।

জরিপের তথ্য ও সাধারণ ভোটারদের মতামত পর্যালোচনায় দেখা যায়, রংপুর বিভাগের আট জেলার ৩৩টি সংসদীয় আসনের অধিকাংশেই বিএনপির সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। তবে কয়েকটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী চমক দেখাতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। কিছু আসনে ত্রিমুখী ও চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।

জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুর বিভাগের বিভিন্ন আসনে এবার মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির এগিয়ে রয়েছেন। সেখানে জামায়াতের প্রার্থীর সঙ্গে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। পঞ্চগড়-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের সফিউল আলমের সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ঠাকুরগাঁও-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী আব্দুল হাকিম এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে, যেখানে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী জাহিদুর রহমান জাহিদের নাম আলোচনায় রয়েছে।

দিনাজপুরের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি এগিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দিনাজপুর-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা বেশি। দিনাজপুর-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) এ কে এম কামরুজ্জামান এগিয়ে থাকতে পারেন।

নীলফামারীর চারটি আসনের মধ্যে একটি করে আসনে বিএনপি ও জামায়াতের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। একটি আসনে বিএনপি-জামায়াতের সরাসরি লড়াই এবং অন্য আসনে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।

লালমনিরহাটের তিনটি আসনের মধ্যে দুটি বিএনপির ঝুলিতে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপর আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।

রংপুর জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপি, দুটিতে জামায়াত এবং একটি আসনে জাতীয় পার্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে।

কুড়িগ্রামের চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপি এগিয়ে থাকতে পারে। কুড়িগ্রাম-১ আসনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত ও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস রয়েছে।

গাইবান্ধার পাঁচটি আসনের মধ্যে একটিতে বিএনপি এবং দুটিতে জামায়াত এগিয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। একটি আসনে জামায়াত অথবা জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়ী হতে পারেন। অপর আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আলোচনায় রয়েছেন।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে যতই হিসাব-নিকাশ করা হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ই নির্ধারণ করবে প্রকৃত ফলাফল। তাই চূড়ান্ত ফল জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটগ্রহণ ও গণনার দিন পর্যন্ত।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি

জাতীয় পার্টির ঘাঁটিতে বিএনপি–জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

আপডেট সময় : ০৫:৫২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন পক্ষের উদ্যোগে একাধিক জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে নানা হিসাব-নিকাশ করছে রাজনৈতিক দলগুলো। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশ পাচ্ছে সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে বিশ্লেষণ।

জরিপের তথ্য ও সাধারণ ভোটারদের মতামত পর্যালোচনায় দেখা যায়, রংপুর বিভাগের আট জেলার ৩৩টি সংসদীয় আসনের অধিকাংশেই বিএনপির সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। তবে কয়েকটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী চমক দেখাতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। কিছু আসনে ত্রিমুখী ও চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।

জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুর বিভাগের বিভিন্ন আসনে এবার মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির এগিয়ে রয়েছেন। সেখানে জামায়াতের প্রার্থীর সঙ্গে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। পঞ্চগড়-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের সফিউল আলমের সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ঠাকুরগাঁও-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী আব্দুল হাকিম এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে, যেখানে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী জাহিদুর রহমান জাহিদের নাম আলোচনায় রয়েছে।

দিনাজপুরের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি এগিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দিনাজপুর-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা বেশি। দিনাজপুর-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) এ কে এম কামরুজ্জামান এগিয়ে থাকতে পারেন।

নীলফামারীর চারটি আসনের মধ্যে একটি করে আসনে বিএনপি ও জামায়াতের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। একটি আসনে বিএনপি-জামায়াতের সরাসরি লড়াই এবং অন্য আসনে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।

লালমনিরহাটের তিনটি আসনের মধ্যে দুটি বিএনপির ঝুলিতে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপর আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।

রংপুর জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপি, দুটিতে জামায়াত এবং একটি আসনে জাতীয় পার্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে।

কুড়িগ্রামের চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপি এগিয়ে থাকতে পারে। কুড়িগ্রাম-১ আসনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত ও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস রয়েছে।

গাইবান্ধার পাঁচটি আসনের মধ্যে একটিতে বিএনপি এবং দুটিতে জামায়াত এগিয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। একটি আসনে জামায়াত অথবা জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়ী হতে পারেন। অপর আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আলোচনায় রয়েছেন।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে যতই হিসাব-নিকাশ করা হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ই নির্ধারণ করবে প্রকৃত ফলাফল। তাই চূড়ান্ত ফল জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটগ্রহণ ও গণনার দিন পর্যন্ত।

শু/সবা