মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সিরিয়ায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর দুই মার্কিন সেনা ও এক দোভাষী নিহত হওয়ার পর দেশটিতে আইএসআইএলকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানায়, ৩ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সিরিয়ায় আইএসআইএলের ৩০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। নির্ভুল নির্দেশিত অস্ত্র ব্যবহার করে সংগঠনটির অবকাঠামো ও অস্ত্রাগার ধ্বংস করা হয়। সেন্টকম বলেছে, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের অবশিষ্ট অংশের ওপর কঠোর সামরিক চাপ বজায় রাখতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে ঐতিহাসিক নগরী পালমিরার কাছে মার্কিন ও সিরীয় বাহিনীর ওপর হামলায় সার্জেন্ট এডগার ব্রায়ান তোরেস-তোভার, সার্জেন্ট উইলিয়াম ন্যাথানিয়েল হাওয়ার্ড এবং বেসামরিক দোভাষী আয়াদ মানসুর সাকাত নিহত হন। এ ঘটনার পর ‘অপারেশন হকআই’ শুরু হয়। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে এ অভিযানে ৫০ জনের বেশি যোদ্ধা নিহত বা আটক হয়েছে এবং প্রায় ১০০টি অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার মার্কিন সেনাবাহিনী সিরিয়া থেকে হাজারো আইএসআইএল বন্দিকে ইরাকে হস্তান্তর সম্পন্ন করেছে। বাগদাদের অনুরোধে বন্দিদের সেখানে পাঠানো হয়, যেখানে তাদের বিচার হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে।
অন্যদিকে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলের আল-তানফ সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ সরকারি বাহিনী নিয়েছে। বহু বছর ধরে আইএসআইএলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এ ঘাঁটি ব্যবহার করছিল মার্কিন সেনারা।
২০১৯ সালে সিরিয়ায় আইএসআইএলের ভৌগোলিক পরাজয় নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছিল। তবে বর্তমানে ওয়াশিংটন সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে এবং জানিয়েছে, এসডিএফের সঙ্গে তাদের জোটের মূল উদ্দেশ্য প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।
আল-তানফ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানো এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন দামেস্ক কর্তৃপক্ষ পুরো সিরিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
শু/সবা
সূত্র: আল জাজিরা


























