ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে কেন্দ্র করে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান নাকি সৌদি আরব ও ওমানকে জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাত হলে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা তাদের বিবেচনায় রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, এই বার্তার মাধ্যমে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বিভাজনকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করতে চাইছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব–এর মধ্যকার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ইরান নিজের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে দেখছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার এক পর্যায়ে ইরানি কর্মকর্তারা সৌদি পক্ষকে আবুধাবির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন এবং আঞ্চলিক রাজনীতির বিভাজনকে সামনে এনে নিজেদের কৌশল ব্যাখ্যা করেন। তবে এসব আলোচনার নির্দিষ্ট সময় ও প্রেক্ষাপট প্রকাশ করা হয়নি।
একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলমান থাকলেও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে ইরান ও ইসরায়েল–এর মধ্যকার বিরোধও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে অবস্থান করছে। আব্রাহাম চুক্তির পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ায় আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন পরিবর্তন এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বার্তা মূলত রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক বিভাজনকে কাজে লাগানোর একটি কৌশল। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের কূটনৈতিক আলোচনার ওপর।
শু/সবা
সবুজ বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক 



















