9:51 pm, Sunday, 14 June 2026

একটি দলকে লক্ষ্য করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ায় সংসদে হট্টগোল

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা মোহাম্মদ জিসান মিয়া প্রধানকে ঘিরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জেরে জাতীয় সংসদে তীব্র হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল–এর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিখোঁজ হওয়া ছাত্রশিবির নেতা মোহাম্মদ জিসান মিয়া প্রধানের বিষয়ে তদন্তে জানা গেছে, এক নারীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিয়ের নির্ধারিত তারিখের আগেই জিসান আত্মগোপন করেছিলেন এবং পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাহের তীব্র আপত্তি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, একটি অনিষ্পন্ন ও বিতর্কিত বিষয়কে সংসদে এনে একটি রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিন্দা করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জিসান বর্তমানে কোথায় আছেন এবং কেন তার বা অভিযোগকারী নারীর সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না।

এরপর সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে সংসদ কক্ষে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার বারবার সদস্যদের নিজ নিজ আসনে বসার আহ্বান জানান।

পরে রুলিং দিয়ে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদীয় রীতিনীতির বাইরে বা অসংসদীয় কোনো শব্দ বা বক্তব্য থাকলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজন হলে সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

স্পিকারের এই রুলিংয়ের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং এরপর সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

sixteen − 13 =

About Author Information

জান্নাতের টিকিট বিলাইয়া কেমনে ধর্ষণ করলা?’

একটি দলকে লক্ষ্য করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ায় সংসদে হট্টগোল

Update Time : ০৬:২২:৫৪ pm, Sunday, ১৪ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা মোহাম্মদ জিসান মিয়া প্রধানকে ঘিরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জেরে জাতীয় সংসদে তীব্র হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল–এর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিখোঁজ হওয়া ছাত্রশিবির নেতা মোহাম্মদ জিসান মিয়া প্রধানের বিষয়ে তদন্তে জানা গেছে, এক নারীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিয়ের নির্ধারিত তারিখের আগেই জিসান আত্মগোপন করেছিলেন এবং পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাহের তীব্র আপত্তি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, একটি অনিষ্পন্ন ও বিতর্কিত বিষয়কে সংসদে এনে একটি রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিন্দা করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জিসান বর্তমানে কোথায় আছেন এবং কেন তার বা অভিযোগকারী নারীর সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না।

এরপর সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে সংসদ কক্ষে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার বারবার সদস্যদের নিজ নিজ আসনে বসার আহ্বান জানান।

পরে রুলিং দিয়ে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদীয় রীতিনীতির বাইরে বা অসংসদীয় কোনো শব্দ বা বক্তব্য থাকলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজন হলে সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

স্পিকারের এই রুলিংয়ের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং এরপর সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়।

শু/সবা