9:57 pm, Thursday, 25 June 2026

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বেপরোয়া প্রধান শিক্ষিকা, সরকারী নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী 

বেলা ৩ টায় প্রধান শিক্ষিকাকে পাওয়া যায়নি স্কুলে। সহকারী শিক্ষিকা মাসুদা আক্তার অফিসে বসে মোবাইলে ফেসবুক চালাচ্ছেন। অন্যান্য শিক্ষকরা ক্লাসে পাঠদানে ব্যস্ত। ৭ শিক্ষকের মধ্যে ৫ জন স্কুলে আছেন। প্রধান শিক্ষিকা উম্মে মাহজুবা লাবনী কোথায় গেছেন জানে না কেউ। সহকারী শিক্ষিকা সাজিনা আক্তার স্কুলে স্বাক্ষর করে ছুটি নিয়ে চলে গেছেন বাড়িতে। প্রধান শিক্ষিকার অনুপস্থিতিতে কে আছেন দায়িত্বে তার জবাব দিতে পারেনি সহকারী শিক্ষিকা মাসুদা আক্তারসহ অন্যান্য সহকারী শিক্ষিকারা। স্কুলের টেবিলে মুভমেন্ট রেজিস্ট্রার থাকার কথা থাকলেও সেটা রেখেছেন টেবিলের ড্রয়ারে। আর এসব অনিয়মের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়টি চলছে কোন ভাবে। অভিযোগ আছে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে স্কুলের ইট বিক্রিসহ আরো অনেক বিষয়ে।
কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের বাহাগিলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসব অনিয়ম অহরহ চললেও শিক্ষা প্রশাসনের কোন মাথা ব্যাথা নেই। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারী ভাবে প্রতিটি স্কুলে ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর দেয়া হয়। সেই ল্যাপটপ দিয়ে শিক্ষামূলক কনটেইনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে আনন্দ দিয়ে স্কুলমুখী করে তোলা হচ্ছে সরকারের উদ্দেশ্য। কিন্তু তা না করে বাহাগিলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা উম্মে মাহজুবা লাবনী ল্যাপটপ বাসায় নিয়ে রেখেছে। সরকারী ভাবে প্রতিটি বিদ্যালয়ে একটি করে রাউটার দেয়া হলেও সেই রাউটার ব্যবহার করেন প্রধান শিক্ষিকা তার বাসায়। রাউটার ব্যবহার না করেও সরকারী কোষাগার থেকে প্রতিমাসে ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে
 এক হাজার করে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে আসছেন প্রধান শিক্ষিকা। স্কুলের উন্নয়ন কাজের টাকা উত্তোলন করে কোন কাজ না করেই সব টাকা আত্মসাৎ করেন প্রধান শিক্ষিকা উম্মে মাহজুবা লাবনী। চলতি বছরের ৬ মাস অতিবাহিত হলেও কোন ক্লাসেই দেখানো হয়নি প্রজেক্টরের মাধ্যমে কোন কনটেন্ট ও শিক্ষামূলক কোন ভিডিও। আর এসব বিষয়ে সহকারী শিক্ষকরাও অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। প্রধান শিক্ষিকা তার ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন স্কুলের ল্যাপটপ। ল্যাপটপ নষ্ট হলে সরকারী টাকায় তা মেরামত দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন। গত বছরের ১২ জুন বাহাগিলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেণী কক্ষ ভেঙে ফেলে ইট,লোহা,এঙ্গেল গোপনে বিক্রি করে দেন প্রধান শিক্ষিকা লাবনী। পরে এলাকাবাসী ইটসহ দুটি গাড়ী আটক করে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ীসহ ইট আটক করে স্কুলে নিয়ে আসেন। এ নিয়ে শিক্ষা প্রশাসন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেলেও ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত নেয়নি কোন ব্যবস্থা। সেই কারণে ওই শিক্ষিকা এখন অনিয়ম করতে ভয় পায় না বলে দাবী করছেন স্কুলের অন্যান্য শিক্ষিকাসহ এলাকাবাসী। স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ডালিম কুমার রায়, অনামিকা মোহন্ত,তমাসহ শিক্ষার্থীরা বলেন,আমরা প্রজেক্টর কোনদিন দেখি নাই। স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা মাসুদা আক্তার ও সুফলা রানীও বললেন একই কথা।
বিকাল ৪ টা ৪ মিনিটে স্কুলে আসেন শিক্ষিকা উম্মে মাহজুবা লাবনী। কোথায় ছিলেন এতোক্ষণ, স্কুলের মুভমেন্ট রেজিস্ট্রার কোথায় এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি স্কুলের শ্রেণী কক্ষ বন্ধ করে চলে যান বাড়িতে।
এ বিষয়ে একাধিকবার কল করা হলেও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ফিরোজুল আলম ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ডক্টর মাহমুদা খাতুন বলেন,ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অনেক অভিযোগ আমার কাছে আসছে। পূর্বের অভিযোগ নিয়ে কাজ করছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ বিষয় নিয়ে আপনারা লেখালেখি করেন আমরা ব্যবস্থা নিব।
শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

10 + twelve =

About Author Information

এক টাকার দুর্নীতিও প্রমাণ হলে সংসদ থেকে পদত্যাগ করব: হাসনাত আবদুল্লাহ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বেপরোয়া প্রধান শিক্ষিকা, সরকারী নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী 

Update Time : ০৯:৪৩:৩৯ pm, Thursday, ২৫ জুন ২০২৬
বেলা ৩ টায় প্রধান শিক্ষিকাকে পাওয়া যায়নি স্কুলে। সহকারী শিক্ষিকা মাসুদা আক্তার অফিসে বসে মোবাইলে ফেসবুক চালাচ্ছেন। অন্যান্য শিক্ষকরা ক্লাসে পাঠদানে ব্যস্ত। ৭ শিক্ষকের মধ্যে ৫ জন স্কুলে আছেন। প্রধান শিক্ষিকা উম্মে মাহজুবা লাবনী কোথায় গেছেন জানে না কেউ। সহকারী শিক্ষিকা সাজিনা আক্তার স্কুলে স্বাক্ষর করে ছুটি নিয়ে চলে গেছেন বাড়িতে। প্রধান শিক্ষিকার অনুপস্থিতিতে কে আছেন দায়িত্বে তার জবাব দিতে পারেনি সহকারী শিক্ষিকা মাসুদা আক্তারসহ অন্যান্য সহকারী শিক্ষিকারা। স্কুলের টেবিলে মুভমেন্ট রেজিস্ট্রার থাকার কথা থাকলেও সেটা রেখেছেন টেবিলের ড্রয়ারে। আর এসব অনিয়মের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়টি চলছে কোন ভাবে। অভিযোগ আছে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে স্কুলের ইট বিক্রিসহ আরো অনেক বিষয়ে।
কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের বাহাগিলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসব অনিয়ম অহরহ চললেও শিক্ষা প্রশাসনের কোন মাথা ব্যাথা নেই। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারী ভাবে প্রতিটি স্কুলে ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর দেয়া হয়। সেই ল্যাপটপ দিয়ে শিক্ষামূলক কনটেইনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে আনন্দ দিয়ে স্কুলমুখী করে তোলা হচ্ছে সরকারের উদ্দেশ্য। কিন্তু তা না করে বাহাগিলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা উম্মে মাহজুবা লাবনী ল্যাপটপ বাসায় নিয়ে রেখেছে। সরকারী ভাবে প্রতিটি বিদ্যালয়ে একটি করে রাউটার দেয়া হলেও সেই রাউটার ব্যবহার করেন প্রধান শিক্ষিকা তার বাসায়। রাউটার ব্যবহার না করেও সরকারী কোষাগার থেকে প্রতিমাসে ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে
 এক হাজার করে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে আসছেন প্রধান শিক্ষিকা। স্কুলের উন্নয়ন কাজের টাকা উত্তোলন করে কোন কাজ না করেই সব টাকা আত্মসাৎ করেন প্রধান শিক্ষিকা উম্মে মাহজুবা লাবনী। চলতি বছরের ৬ মাস অতিবাহিত হলেও কোন ক্লাসেই দেখানো হয়নি প্রজেক্টরের মাধ্যমে কোন কনটেন্ট ও শিক্ষামূলক কোন ভিডিও। আর এসব বিষয়ে সহকারী শিক্ষকরাও অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। প্রধান শিক্ষিকা তার ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন স্কুলের ল্যাপটপ। ল্যাপটপ নষ্ট হলে সরকারী টাকায় তা মেরামত দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন। গত বছরের ১২ জুন বাহাগিলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেণী কক্ষ ভেঙে ফেলে ইট,লোহা,এঙ্গেল গোপনে বিক্রি করে দেন প্রধান শিক্ষিকা লাবনী। পরে এলাকাবাসী ইটসহ দুটি গাড়ী আটক করে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ীসহ ইট আটক করে স্কুলে নিয়ে আসেন। এ নিয়ে শিক্ষা প্রশাসন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেলেও ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত নেয়নি কোন ব্যবস্থা। সেই কারণে ওই শিক্ষিকা এখন অনিয়ম করতে ভয় পায় না বলে দাবী করছেন স্কুলের অন্যান্য শিক্ষিকাসহ এলাকাবাসী। স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ডালিম কুমার রায়, অনামিকা মোহন্ত,তমাসহ শিক্ষার্থীরা বলেন,আমরা প্রজেক্টর কোনদিন দেখি নাই। স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা মাসুদা আক্তার ও সুফলা রানীও বললেন একই কথা।
বিকাল ৪ টা ৪ মিনিটে স্কুলে আসেন শিক্ষিকা উম্মে মাহজুবা লাবনী। কোথায় ছিলেন এতোক্ষণ, স্কুলের মুভমেন্ট রেজিস্ট্রার কোথায় এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি স্কুলের শ্রেণী কক্ষ বন্ধ করে চলে যান বাড়িতে।
এ বিষয়ে একাধিকবার কল করা হলেও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ফিরোজুল আলম ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ডক্টর মাহমুদা খাতুন বলেন,ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অনেক অভিযোগ আমার কাছে আসছে। পূর্বের অভিযোগ নিয়ে কাজ করছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ বিষয় নিয়ে আপনারা লেখালেখি করেন আমরা ব্যবস্থা নিব।
শু/সবা