9:57 pm, Wednesday, 24 June 2026

সবচেয়ে বড় বাজেট নয়, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট: নাজিবুর রহমান

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট’ হিসেবে মানতে নারাজ বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান। স্বর্ণের দামের সঙ্গে তুলনা করে তিনি দাবি করেছেন, মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় বাজেটের প্রকৃত আকার বাড়েনি; বরং এটি দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট।

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

নাজিবুর রহমান বলেন, ১৯৭২ সালে দেশের বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা এবং তখন প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। বর্তমানে স্বর্ণের দাম বেড়ে প্রায় ২ লাখ ৪২ হাজার টাকায় পৌঁছেছে, অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ৪০০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ বাজেট বেড়েছে মাত্র ১ হাজার ২০০ গুণ। তাই মুদ্রাস্ফীতির হিসাব করলে বাজেটের প্রকৃত পরিমাণ বাড়েনি।

বাজেট প্রণয়নে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষায়, “আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শুধু রাবার স্ট্যাম্পের মতো বাজেট পাস করি। উন্নত দেশগুলোতে অর্থবিল স্থায়ী কমিটিতে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর সংসদে আসে। কিন্তু এখানে আমলারা বাজেট তৈরি করেন, আর আমরা কয়েক মিনিটের আলোচনা করি মাত্র।”

ঘাটতি পূরণে দেশীয় ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতিতে এত বড় অঙ্কের ঋণ অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী ব্যাংক থেকে মাত্র সাত দিনে ৪ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে এবং সরকার টাকা ছাপিয়ে ব্যাংকগুলোকে সহায়তা করছে।

বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে নাজিবুর রহমান বলেন, দেশের মাত্র ২৪ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ কর দিলেও ভ্যাটের বোঝা বহন করছেন সাধারণ মানুষ। একজন ভিক্ষুক ও একজন কোটিপতি একই হারে ভ্যাট দেন, যা বৈষম্যমূলক। ২০টি পণ্যে ভ্যাটের আওতা বাড়ানোকে তিনি গরিববান্ধব নীতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।

আবাসন খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর ফলে মধ্যবিত্ত শ্রেণি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

দুর্নীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ অপচয়ের প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দের অর্ধেকও উন্নয়ন কাজে ব্যয় হয় না। জবাবদিহিতা ও সক্ষমতা যাচাই ছাড়া বড় বরাদ্দ দেওয়া হলে তা ‘হরিলুটে’ পরিণত হয়।

সুদের বোঝা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাজেটের বড় অংশ সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। দুর্নীতি বন্ধ করা গেলে ঋণ ও সুদের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। তিনি যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালুর প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে যাকাত ব্যবস্থাপনা চালু হলে বছরে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা সংগ্রহ সম্ভব এবং দারিদ্র্য বিমোচন সহজ হবে।

এ সময় তিনি নদী ও জলাশয় রক্ষায় ‘জাল যার, জলা তার’ নীতিকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার পাশাপাশি বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

one × two =

About Author Information

সবচেয়ে বড় বাজেট নয়, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট: নাজিবুর রহমান

সবচেয়ে বড় বাজেট নয়, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট: নাজিবুর রহমান

Update Time : ০৯:৩৫:২৫ pm, Wednesday, ২৪ জুন ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট’ হিসেবে মানতে নারাজ বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান। স্বর্ণের দামের সঙ্গে তুলনা করে তিনি দাবি করেছেন, মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় বাজেটের প্রকৃত আকার বাড়েনি; বরং এটি দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট।

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

নাজিবুর রহমান বলেন, ১৯৭২ সালে দেশের বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা এবং তখন প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। বর্তমানে স্বর্ণের দাম বেড়ে প্রায় ২ লাখ ৪২ হাজার টাকায় পৌঁছেছে, অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ৪০০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ বাজেট বেড়েছে মাত্র ১ হাজার ২০০ গুণ। তাই মুদ্রাস্ফীতির হিসাব করলে বাজেটের প্রকৃত পরিমাণ বাড়েনি।

বাজেট প্রণয়নে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষায়, “আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শুধু রাবার স্ট্যাম্পের মতো বাজেট পাস করি। উন্নত দেশগুলোতে অর্থবিল স্থায়ী কমিটিতে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর সংসদে আসে। কিন্তু এখানে আমলারা বাজেট তৈরি করেন, আর আমরা কয়েক মিনিটের আলোচনা করি মাত্র।”

ঘাটতি পূরণে দেশীয় ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতিতে এত বড় অঙ্কের ঋণ অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী ব্যাংক থেকে মাত্র সাত দিনে ৪ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে এবং সরকার টাকা ছাপিয়ে ব্যাংকগুলোকে সহায়তা করছে।

বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে নাজিবুর রহমান বলেন, দেশের মাত্র ২৪ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ কর দিলেও ভ্যাটের বোঝা বহন করছেন সাধারণ মানুষ। একজন ভিক্ষুক ও একজন কোটিপতি একই হারে ভ্যাট দেন, যা বৈষম্যমূলক। ২০টি পণ্যে ভ্যাটের আওতা বাড়ানোকে তিনি গরিববান্ধব নীতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।

আবাসন খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর ফলে মধ্যবিত্ত শ্রেণি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

দুর্নীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ অপচয়ের প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দের অর্ধেকও উন্নয়ন কাজে ব্যয় হয় না। জবাবদিহিতা ও সক্ষমতা যাচাই ছাড়া বড় বরাদ্দ দেওয়া হলে তা ‘হরিলুটে’ পরিণত হয়।

সুদের বোঝা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাজেটের বড় অংশ সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। দুর্নীতি বন্ধ করা গেলে ঋণ ও সুদের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। তিনি যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালুর প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে যাকাত ব্যবস্থাপনা চালু হলে বছরে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা সংগ্রহ সম্ভব এবং দারিদ্র্য বিমোচন সহজ হবে।

এ সময় তিনি নদী ও জলাশয় রক্ষায় ‘জাল যার, জলা তার’ নীতিকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার পাশাপাশি বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

শু/সবা