11:30 pm, Monday, 6 July 2026

কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে মুখোমুখি ব্রাজিল-নরওয়ে

শুরুটা কিছুটা অনিশ্চিত হলেও সময়ের সঙ্গে নিজেদের ছন্দ ফিরে পেয়েছে ব্রাজিল। অন্যদিকে, ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে স্বপ্নময় যাত্রা করছে আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে। এবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল।

রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ব্রাজিল ও আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে।

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দল ব্রাজিল এখনো নরওয়ের বিপক্ষে জয় পায়নি। দুই জয় ও দুই ড্রয়ে চার দেখায় অপরাজিত স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। পঞ্চম সাক্ষাতে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল ধীরে ধীরে নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরলেও একাধিক চোটের কারণে কিছুটা চিন্তায় রয়েছে দলটি। শেষ ৩২-এর ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে অল্পের জন্য বিদায় এড়িয়ে যাওয়া সেলেসাওদের নরওয়ের বিপক্ষে আরও পরিণত ফুটবল খেলতে হবে।

এবারের টুর্নামেন্টে অন্যতম ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে বিবেচিত নরওয়ে ইতোমধ্যেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। গ্রুপ পর্বে ইরাক ও সেনেগালকে হারিয়ে এবং ফ্রান্সের কাছে হেরে দ্বিতীয় হয়ে নকআউটে ওঠে দলটি। পরে শেষ ৩২-এর ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয়।

নরওয়ের আক্রমণের প্রধান ভরসা আর্লিং হালান্ড। চলতি বিশ্বকাপে দলের করা ১০ গোলের মধ্যে পাঁচটিই এসেছে ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের পা থেকে। তার সঙ্গে মাঝমাঠে মার্টিন ওডেগার্ডের উপস্থিতিও দলটিকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। এছাড়া ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারানোর স্মৃতিও অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছে নরওয়ে। সেই দলের সদস্য ছিলেন বর্তমান কোচ স্টালে সোলবাক্কেন।

অন্যদিকে, ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ভরসা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। চলতি আসরে চার গোল করে তিনি দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করে ২০০২ সালের রোনালদো নাজারিও ও রিভালদোর পর প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে এমন কীর্তি গড়েছেন তিনি। উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই ২০০২ সালেই ব্রাজিল তাদের সর্বশেষ বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল।

অপ্টা সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৩.৬ শতাংশ। নরওয়ের জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২২.৪ শতাংশ, আর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ২৪ শতাংশ।

পরিসংখ্যান অবশ্য নরওয়ের পক্ষেই কথা বলছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে চার দেখায় তারা অপরাজিত। এর মধ্যে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ২-১ গোলের স্মরণীয় জয় রয়েছে। দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০০৬ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে, যা ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল।

এদিকে, ২০০২ বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানিকে হারানোর পর ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলা টানা ছয়টি বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচেই বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। এবার সেই হতাশার ধারাও ভাঙতে চাইবে সেলেসাওরা।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

15 + 9 =

About Author Information

Popular Post

প্রায় দুই দশক পর গাজায় শাসন কমিটি বিলুপ্ত করল হামাস

কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে মুখোমুখি ব্রাজিল-নরওয়ে

Update Time : ০৫:৩৮:২৫ pm, Sunday, ৫ জুলাই ২০২৬

শুরুটা কিছুটা অনিশ্চিত হলেও সময়ের সঙ্গে নিজেদের ছন্দ ফিরে পেয়েছে ব্রাজিল। অন্যদিকে, ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে স্বপ্নময় যাত্রা করছে আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে। এবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল।

রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ব্রাজিল ও আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে।

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দল ব্রাজিল এখনো নরওয়ের বিপক্ষে জয় পায়নি। দুই জয় ও দুই ড্রয়ে চার দেখায় অপরাজিত স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। পঞ্চম সাক্ষাতে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল ধীরে ধীরে নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরলেও একাধিক চোটের কারণে কিছুটা চিন্তায় রয়েছে দলটি। শেষ ৩২-এর ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে অল্পের জন্য বিদায় এড়িয়ে যাওয়া সেলেসাওদের নরওয়ের বিপক্ষে আরও পরিণত ফুটবল খেলতে হবে।

এবারের টুর্নামেন্টে অন্যতম ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে বিবেচিত নরওয়ে ইতোমধ্যেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। গ্রুপ পর্বে ইরাক ও সেনেগালকে হারিয়ে এবং ফ্রান্সের কাছে হেরে দ্বিতীয় হয়ে নকআউটে ওঠে দলটি। পরে শেষ ৩২-এর ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয়।

নরওয়ের আক্রমণের প্রধান ভরসা আর্লিং হালান্ড। চলতি বিশ্বকাপে দলের করা ১০ গোলের মধ্যে পাঁচটিই এসেছে ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের পা থেকে। তার সঙ্গে মাঝমাঠে মার্টিন ওডেগার্ডের উপস্থিতিও দলটিকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। এছাড়া ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারানোর স্মৃতিও অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছে নরওয়ে। সেই দলের সদস্য ছিলেন বর্তমান কোচ স্টালে সোলবাক্কেন।

অন্যদিকে, ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ভরসা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। চলতি আসরে চার গোল করে তিনি দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করে ২০০২ সালের রোনালদো নাজারিও ও রিভালদোর পর প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে এমন কীর্তি গড়েছেন তিনি। উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই ২০০২ সালেই ব্রাজিল তাদের সর্বশেষ বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল।

অপ্টা সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৩.৬ শতাংশ। নরওয়ের জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২২.৪ শতাংশ, আর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ২৪ শতাংশ।

পরিসংখ্যান অবশ্য নরওয়ের পক্ষেই কথা বলছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে চার দেখায় তারা অপরাজিত। এর মধ্যে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ২-১ গোলের স্মরণীয় জয় রয়েছে। দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০০৬ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে, যা ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল।

এদিকে, ২০০২ বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানিকে হারানোর পর ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলা টানা ছয়টি বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচেই বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। এবার সেই হতাশার ধারাও ভাঙতে চাইবে সেলেসাওরা।

শু/সবা