10:39 pm, Wednesday, 8 July 2026

আরব সাগরে পাঁচ ক্রুসহ পাকিস্তানের মালবাহী উড়োজাহাজ নিখোঁজ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে পাকিস্তানের করাচিগামী কে২ এয়ারওয়েজের একটি মালবাহী বোয়িং ৭৩৭-৪০০ উড়োজাহাজ নিখোঁজ হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে করাচি থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পশ্চিমে আরব সাগরের ওপর রাডারের সঙ্গে উড়োজাহাজটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (পিএএ) জানিয়েছে, উড়োজাহাজটিতে পাঁচজন ক্রু ছিলেন। ফ্লাইট চলাকালে পাইলট নেভিগেশন ব্যবস্থায় ত্রুটির কথা জানিয়ে করাচি এরিয়া কন্ট্রোল সেন্টারের (এসিসি) কাছে সহায়তা চান।

রাত ৯টা ১৮ মিনিটে সমস্যার কথা জানানোর পর এসিসি থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে রাত ৯টা ২১ মিনিটে রাডারে দেখা যায়, উড়োজাহাজটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করেছে এবং হঠাৎ দিক পরিবর্তন করছে। কিছুক্ষণ পর করাচি থেকে প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার পশ্চিমে রাডারের সঙ্গে এর যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ফ্লাইট-ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, প্রাথমিক এডিএস-বি তথ্য অনুযায়ী উড়োজাহাজটি প্রথমে উচ্চতা হারায়, পরে কিছুটা ওপরে উঠলেও অল্প সময়ের মধ্যে আবার দ্রুত নিচে নেমে যায়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বিমানটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১ হাজার ১০০ ফুট উচ্চতায় ছিল এবং প্রতি মিনিটে প্রায় ২২ হাজার ৪০০ ফুট গতিতে নিচে নামছিল।

ফ্লাইটরাডার২৪ আরও জানায়, উড্ডয়নের পরপরই ওই অঞ্চলে অন্যান্য উড়োজাহাজের মতো এটিও জিএনএসএস সিগন্যালবিভ্রাটের মুখে পড়েছিল। পরে সিগন্যাল স্বাভাবিক হলে কিছু সময়ের জন্য আবার উড়োজাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

ঘটনার পরপরই উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র সক্রিয় করা হয়েছে। নিখোঁজ উড়োজাহাজটির সন্ধানে বিভিন্ন সংস্থার অংশগ্রহণে আরব সাগরে সমন্বিত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত করবে ব্যুরো অব এয়ার সেফটি ইনভেস্টিগেশন।

ফ্লাইটরাডারের তথ্য অনুযায়ী, এপি-বিওআই নিবন্ধিত উড়োজাহাজটি বোয়িং ৭৩৭-৪০০ (বিডিএসএফ) মডেলের, যা ২০২৪ সালে কে২ এয়ারওয়েজের বহরে যুক্ত হয়। ১৯৯৯ সালে এটি প্রথমে রাশিয়ার অ্যারোফ্লট-এর যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ হিসেবে পরিচালিত হয়। পরে গারুডা ইন্দোনেশিয়ার বহরে যুক্ত হওয়ার পর ২০১২ সালে এটিকে মালবাহী উড়োজাহাজে রূপান্তর করা হয়। পরবর্তীতে এটি টিএনটি এয়ারওয়েজ ও এএসএল এয়ারলাইন্স-এর অধীনেও পরিচালিত হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

three × 3 =

About Author Information

Popular Post

সংগঠনের আদর্শ রক্ষায় যুবদলের ৩০০ নেতা–কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে: যুবদল সভাপতি

আরব সাগরে পাঁচ ক্রুসহ পাকিস্তানের মালবাহী উড়োজাহাজ নিখোঁজ

Update Time : ০৪:৩২:০৪ pm, Wednesday, ৮ জুলাই ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে পাকিস্তানের করাচিগামী কে২ এয়ারওয়েজের একটি মালবাহী বোয়িং ৭৩৭-৪০০ উড়োজাহাজ নিখোঁজ হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে করাচি থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পশ্চিমে আরব সাগরের ওপর রাডারের সঙ্গে উড়োজাহাজটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (পিএএ) জানিয়েছে, উড়োজাহাজটিতে পাঁচজন ক্রু ছিলেন। ফ্লাইট চলাকালে পাইলট নেভিগেশন ব্যবস্থায় ত্রুটির কথা জানিয়ে করাচি এরিয়া কন্ট্রোল সেন্টারের (এসিসি) কাছে সহায়তা চান।

রাত ৯টা ১৮ মিনিটে সমস্যার কথা জানানোর পর এসিসি থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে রাত ৯টা ২১ মিনিটে রাডারে দেখা যায়, উড়োজাহাজটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করেছে এবং হঠাৎ দিক পরিবর্তন করছে। কিছুক্ষণ পর করাচি থেকে প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার পশ্চিমে রাডারের সঙ্গে এর যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ফ্লাইট-ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, প্রাথমিক এডিএস-বি তথ্য অনুযায়ী উড়োজাহাজটি প্রথমে উচ্চতা হারায়, পরে কিছুটা ওপরে উঠলেও অল্প সময়ের মধ্যে আবার দ্রুত নিচে নেমে যায়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বিমানটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১ হাজার ১০০ ফুট উচ্চতায় ছিল এবং প্রতি মিনিটে প্রায় ২২ হাজার ৪০০ ফুট গতিতে নিচে নামছিল।

ফ্লাইটরাডার২৪ আরও জানায়, উড্ডয়নের পরপরই ওই অঞ্চলে অন্যান্য উড়োজাহাজের মতো এটিও জিএনএসএস সিগন্যালবিভ্রাটের মুখে পড়েছিল। পরে সিগন্যাল স্বাভাবিক হলে কিছু সময়ের জন্য আবার উড়োজাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

ঘটনার পরপরই উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র সক্রিয় করা হয়েছে। নিখোঁজ উড়োজাহাজটির সন্ধানে বিভিন্ন সংস্থার অংশগ্রহণে আরব সাগরে সমন্বিত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত করবে ব্যুরো অব এয়ার সেফটি ইনভেস্টিগেশন।

ফ্লাইটরাডারের তথ্য অনুযায়ী, এপি-বিওআই নিবন্ধিত উড়োজাহাজটি বোয়িং ৭৩৭-৪০০ (বিডিএসএফ) মডেলের, যা ২০২৪ সালে কে২ এয়ারওয়েজের বহরে যুক্ত হয়। ১৯৯৯ সালে এটি প্রথমে রাশিয়ার অ্যারোফ্লট-এর যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ হিসেবে পরিচালিত হয়। পরে গারুডা ইন্দোনেশিয়ার বহরে যুক্ত হওয়ার পর ২০১২ সালে এটিকে মালবাহী উড়োজাহাজে রূপান্তর করা হয়। পরবর্তীতে এটি টিএনটি এয়ারওয়েজ ও এএসএল এয়ারলাইন্স-এর অধীনেও পরিচালিত হয়েছে।