9:18 pm, Wednesday, 8 July 2026

ম্যাক্রোঁর সিরিয়া সফরকালে দামেস্কে বিস্ফোরণ, অল্পের জন্য রক্ষা ফরাসি প্রেসিডেন্ট

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সিরিয়া সফর চলাকালে রাজধানী দামেস্কে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে বিস্ফোরণে ম্যাক্রোঁর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বিস্ফোরণটি তার অবস্থানরত হোটেলের খুব কাছেই ঘটেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

একটি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, ম্যাক্রোঁ যে হোটেলে অবস্থান করছিলেন, তার কাছাকাছি একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। তবে ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এলিসি প্রাসাদ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বিস্ফোরণের শব্দই শুনতে পাননি। ঘটনার পর তিনি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠক করেন।

রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ শোনার পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখেছেন তিনি। নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পরপরই আশপাশের সড়ক বন্ধ করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

এলিসি প্রাসাদের দাবি, প্রেসিডেন্টের গাড়িবহর থেকে কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়নি। ম্যাক্রোঁর সফরসঙ্গী গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে থাকা রয়টার্সের এক সাংবাদিকও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের সকালের কর্মসূচির সময় কোনো বিস্ফোরণের শব্দ কিংবা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তারা টের পাননি।

ঘটনার পর সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা রাজধানীর প্রেসিডেন্ট ভবনে বৈঠক করেছেন।

ম্যাক্রোঁর এই সফরকে সিরিয়ার নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালে আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীরা সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনিই প্রথম সিরিয়া সফর করছেন।

আহমেদ আল-শারা, যিনি একসময় আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন, বর্তমানে পশ্চিমা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে দীর্ঘ ১৩ বছরের যুদ্ধে বিধ্বস্ত সিরিয়াকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

তবে দেশটিতে এখনো নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল। ইসলামিক স্টেটসহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর তৎপরতা এবং সরকারপন্থি বাহিনী ও ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে সংঘর্ষে গত বছরও শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন। এই বাস্তবতায় ম্যাক্রোঁর সফর চলাকালে বিস্ফোরণের ঘটনাটি সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সূত্র: রয়টার্স

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

2 × three =

About Author Information

Popular Post

সংগঠনের আদর্শ রক্ষায় যুবদলের ৩০০ নেতা–কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে: যুবদল সভাপতি

ম্যাক্রোঁর সিরিয়া সফরকালে দামেস্কে বিস্ফোরণ, অল্পের জন্য রক্ষা ফরাসি প্রেসিডেন্ট

Update Time : ০৫:১২:০৫ pm, Tuesday, ৭ জুলাই ২০২৬

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সিরিয়া সফর চলাকালে রাজধানী দামেস্কে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে বিস্ফোরণে ম্যাক্রোঁর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বিস্ফোরণটি তার অবস্থানরত হোটেলের খুব কাছেই ঘটেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

একটি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, ম্যাক্রোঁ যে হোটেলে অবস্থান করছিলেন, তার কাছাকাছি একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। তবে ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এলিসি প্রাসাদ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বিস্ফোরণের শব্দই শুনতে পাননি। ঘটনার পর তিনি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠক করেন।

রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ শোনার পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখেছেন তিনি। নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পরপরই আশপাশের সড়ক বন্ধ করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

এলিসি প্রাসাদের দাবি, প্রেসিডেন্টের গাড়িবহর থেকে কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়নি। ম্যাক্রোঁর সফরসঙ্গী গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে থাকা রয়টার্সের এক সাংবাদিকও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের সকালের কর্মসূচির সময় কোনো বিস্ফোরণের শব্দ কিংবা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তারা টের পাননি।

ঘটনার পর সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা রাজধানীর প্রেসিডেন্ট ভবনে বৈঠক করেছেন।

ম্যাক্রোঁর এই সফরকে সিরিয়ার নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালে আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীরা সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনিই প্রথম সিরিয়া সফর করছেন।

আহমেদ আল-শারা, যিনি একসময় আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন, বর্তমানে পশ্চিমা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে দীর্ঘ ১৩ বছরের যুদ্ধে বিধ্বস্ত সিরিয়াকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

তবে দেশটিতে এখনো নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল। ইসলামিক স্টেটসহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর তৎপরতা এবং সরকারপন্থি বাহিনী ও ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে সংঘর্ষে গত বছরও শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন। এই বাস্তবতায় ম্যাক্রোঁর সফর চলাকালে বিস্ফোরণের ঘটনাটি সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সূত্র: রয়টার্স