০৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

 ভোলায় কেন্দ্রে ঢুকতে পারলো না ৪ পরীক্ষার্থী

টাইম আউটে আটকে গেলো শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ভঙ্গ

ভোলা প্রতিনিধি 

পরীক্ষা শুরু সকাল ১০টায়। কিন্তু সড়কে পরীক্ষাকালীন সময়ে যানজটের কারণে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে সময় লাগে ৯.৪০ মিনিট। ১০ মিনিট দেরি হওয়ায় এবছর সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত (এমসিকিউ) পরীক্ষা দেওয়া হলো ভোলার ৪ পরীক্ষার্থীর। দেরিতে আসায় দায়িত্বরত পরীক্ষা কমিটির শিক্ষকরা আপত্তিতে তাদের পরীক্ষা কেন্দ্র প্রবেশ করলেও আবার বের করে দেয়। এতে করে ঐ পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রের বাইরে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এবছরই বয়সের কারণে অনেকরই শেষ বারের মতো এই সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিলো। এযেন ক্রিকেটের টাইম আউট এর মতো, অনেকটা পরীক্ষার হল থেকেই আউট হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভোলা জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান।
ভোলা চরফ্যাশন উপজেলার নজরুলনগর ইউনিয়ন থেকে সকাল ৬.৩০ মিনিটের বাসে রওয়ানা দেন নাজনিন নাহার ঝুমু।  লক্ষ্য সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চাকরী পেয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করার। কিন্তু সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেলো। পরীক্ষাকালীন সময়ে শহরে হঠাৎ যানজটের কারণে ভোলার সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে সময় লাগে ৯.৪০ মিনিট। পরীক্ষার হলেও পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রবেশ করেন। কিন্তু হলে প্রবেশ করার আগেই পরীক্ষা কেন্দ্রর দায়িত্বে থাকা শিক্ষক ও কর্মকর্তারা ১০ মিনিট দেরিতে আসায় তাকে বের করে দেন। এতে করে নাজনীনের আর পরীক্ষা দেওয়া হলোনা।

শুধু নাজনিন নয় একই সময় বোরহানউদ্দিনের হাবিবা, জেরিন ও দৌলতখান থেকে পরীক্ষা দিতে আসা লিপি আক্তারকে পরীক্ষা দিতে হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে সবাই পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এদের মধ্যে অনেকেরই এবারই শেষ বারের মতো প্রাইমারী পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছিলো। ১০ মিনিটের আক্ষেপ থেকে যাবে তাদের আজীবন।
পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে থাকা অভিভাবক আফজাল হোসেন বলেন, মানবিক কারণে দেরি করে আশা শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া সুযোগ দেওয়া উচিত ছিলো। কারণ গ্রামের মেয়েদের এমনিতেই অভিভাবকরা পড়াশোনা করাতে চায়না। অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেয়। এখন সেখানে যদি মেয়েরা প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একটি চাকরী পায় সেক্ষেত্র অন্য মেয়েদের বাল্যবিয়ে থেকে বেচেঁ যাওয়া কিংবা স্বামীর বাড়িতে সম্মান কিছুটা বৃদ্ধি পায়। আজকে এই মেয়েদের সাথে যেটা ঘটলো সেটা অমানবিক ঘটনা ঘটছে। এমন ঘটনা হলের দায়িত্বরত স্যারদেরও বোন কিংবা মেয়েদের  সাথে যদি এমনটা ঘটতো তাহলে তারা কি করতো?

ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সফিকুল ইসলাম জানায়, চার জন না, দুজন না একজন তা আমাদের দেখার বিষয়না। আমাদের সরকারি নির্দেশনা আছে পরীক্ষা শুরুর ১ ঘন্টা আগে আসন গ্রহণ করতে হবে। এবং সকাল সাড়ে নয়টার পরে ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া কেউ পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেনা বের হতে পারবেনা। সুতরাং কেউ পরীক্ষা দিতে আসছে বের করে দেওয়া হয়েছে এমন কোন তথ্য নেই বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভোলা জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান। তিনি বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে ২০ মিনিট দেরি করে এলেও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া উচিত ছিলো। আমাকে যদি আগে বিষয়টি জানানো হতো, তাহলে কোনো কিছু করা যেত। যেহেতু আমাকে পরে জানানো হয়েছে, সেহেতু এখন আর দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া কিছু করার নেই।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ভোলা জেলার সাতটি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে প্রায় ৩৫০টি শূন্য পদের বিপরীতে প্রায় ১৬ হাজার চাকরি প্রত্যাশী ৩০টি কেন্দ্রে লিখিত (এমসিকিউ) নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

 ভোলায় কেন্দ্রে ঢুকতে পারলো না ৪ পরীক্ষার্থী

আপডেট সময় : ১২:১৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৩

টাইম আউটে আটকে গেলো শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ভঙ্গ

ভোলা প্রতিনিধি 

পরীক্ষা শুরু সকাল ১০টায়। কিন্তু সড়কে পরীক্ষাকালীন সময়ে যানজটের কারণে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে সময় লাগে ৯.৪০ মিনিট। ১০ মিনিট দেরি হওয়ায় এবছর সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত (এমসিকিউ) পরীক্ষা দেওয়া হলো ভোলার ৪ পরীক্ষার্থীর। দেরিতে আসায় দায়িত্বরত পরীক্ষা কমিটির শিক্ষকরা আপত্তিতে তাদের পরীক্ষা কেন্দ্র প্রবেশ করলেও আবার বের করে দেয়। এতে করে ঐ পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রের বাইরে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এবছরই বয়সের কারণে অনেকরই শেষ বারের মতো এই সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিলো। এযেন ক্রিকেটের টাইম আউট এর মতো, অনেকটা পরীক্ষার হল থেকেই আউট হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভোলা জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান।
ভোলা চরফ্যাশন উপজেলার নজরুলনগর ইউনিয়ন থেকে সকাল ৬.৩০ মিনিটের বাসে রওয়ানা দেন নাজনিন নাহার ঝুমু।  লক্ষ্য সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চাকরী পেয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করার। কিন্তু সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেলো। পরীক্ষাকালীন সময়ে শহরে হঠাৎ যানজটের কারণে ভোলার সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে সময় লাগে ৯.৪০ মিনিট। পরীক্ষার হলেও পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রবেশ করেন। কিন্তু হলে প্রবেশ করার আগেই পরীক্ষা কেন্দ্রর দায়িত্বে থাকা শিক্ষক ও কর্মকর্তারা ১০ মিনিট দেরিতে আসায় তাকে বের করে দেন। এতে করে নাজনীনের আর পরীক্ষা দেওয়া হলোনা।

শুধু নাজনিন নয় একই সময় বোরহানউদ্দিনের হাবিবা, জেরিন ও দৌলতখান থেকে পরীক্ষা দিতে আসা লিপি আক্তারকে পরীক্ষা দিতে হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে সবাই পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এদের মধ্যে অনেকেরই এবারই শেষ বারের মতো প্রাইমারী পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছিলো। ১০ মিনিটের আক্ষেপ থেকে যাবে তাদের আজীবন।
পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে থাকা অভিভাবক আফজাল হোসেন বলেন, মানবিক কারণে দেরি করে আশা শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া সুযোগ দেওয়া উচিত ছিলো। কারণ গ্রামের মেয়েদের এমনিতেই অভিভাবকরা পড়াশোনা করাতে চায়না। অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেয়। এখন সেখানে যদি মেয়েরা প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একটি চাকরী পায় সেক্ষেত্র অন্য মেয়েদের বাল্যবিয়ে থেকে বেচেঁ যাওয়া কিংবা স্বামীর বাড়িতে সম্মান কিছুটা বৃদ্ধি পায়। আজকে এই মেয়েদের সাথে যেটা ঘটলো সেটা অমানবিক ঘটনা ঘটছে। এমন ঘটনা হলের দায়িত্বরত স্যারদেরও বোন কিংবা মেয়েদের  সাথে যদি এমনটা ঘটতো তাহলে তারা কি করতো?

ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সফিকুল ইসলাম জানায়, চার জন না, দুজন না একজন তা আমাদের দেখার বিষয়না। আমাদের সরকারি নির্দেশনা আছে পরীক্ষা শুরুর ১ ঘন্টা আগে আসন গ্রহণ করতে হবে। এবং সকাল সাড়ে নয়টার পরে ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া কেউ পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেনা বের হতে পারবেনা। সুতরাং কেউ পরীক্ষা দিতে আসছে বের করে দেওয়া হয়েছে এমন কোন তথ্য নেই বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভোলা জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান। তিনি বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে ২০ মিনিট দেরি করে এলেও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া উচিত ছিলো। আমাকে যদি আগে বিষয়টি জানানো হতো, তাহলে কোনো কিছু করা যেত। যেহেতু আমাকে পরে জানানো হয়েছে, সেহেতু এখন আর দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া কিছু করার নেই।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ভোলা জেলার সাতটি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে প্রায় ৩৫০টি শূন্য পদের বিপরীতে প্রায় ১৬ হাজার চাকরি প্রত্যাশী ৩০টি কেন্দ্রে লিখিত (এমসিকিউ) নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।