০৩:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাঙ্গুনিয়ার সড়কে বেপরোয়া চাঁদের গাড়ি প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে

রাঙ্গুনিয়ায় ফিটনেসবিহীন অবৈধ চাঁদের গাড়ি (জীপ) বেপরোয়া গতির কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। অনুমোদনহীন এসব গাড়ি ইটভাটায় সরকারী রিজার্ভ ফরেষ্টের চোরাই জ্বালানি কাঠ ও  নদী থেকে অবৈধ ভাবে তোলা বালি পরিবহনের কাজেই বেশি ব্যবহৃত হয়। কম খরচে এসব গাড়ীতে চোরাই জ্বালানী কাঠ পরিবহন করার সুযোগে এসব অবৈধ গাড়ী বীরদর্পে রাঙ্গুনিয়াজুড়ে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এসব গাড়ির চালকদের মধ্যে অধিকাংশই অদক্ষ এবং কম বয়সী। ফলে চাঁদের গাড়ির কারণে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিনই দুর্ঘটনায় লোকজনের প্রাণহানি ও অঙ্গহানির মতো ঘটনা ঘটেই চলছে। প্রশাসনের লোকজনকে ম্যানেজ করে এসব গাড়ীর চালক ও মালিকরা রাস্তায় চালাচ্ছে অবাধে এমন অভিযোগ এলাকাবাসির। এলাকার ভুক্তভোগিদের অভিযোগ, রাঙ্গুনিয়ার শতাধিক ব্রিকফিল্ড মালিকের নিয়ন্ত্রণে সড়কে এসব গাড়ী চলছে অবাধে। বিভিন্ন ব্রিকফিল্ড মালিকরা কম খরচে চোরাই জ্বালানী কাঠ পরিবহন ও ইট পরিবহনের জন্য এসব অবৈধ গাড়ী ব্যবহার করছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। অদক্ষ চালক ও হেলপার দিয়েই রাস্তায় চালানো হচ্ছে এসব দ্রুতগতির গাড়ী। দিনের বেলায় এসব গাড়ী সড়কে কম দেখা গেলেও সন্ধ্যার পর থেকে রাতভর বিভিন্ন সড়কে চলাচল করে এসব ভয়ংকর চাঁদের গাড়ী। রাঙ্গুনিয়া ও তার আশেপাশের এলাকার লোকজনের কাছে চাঁদের গাড়ী মানেই আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।  ২০২৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরেই দ্রুতগামী চাঁদের গাড়ীর ধাক্কায় রাঙ্গুনিয়ায়  ৭ জন জন প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন   অন্ততঃ ২০ জন। প্রতিদিন দুর্ঘটনায় এসব গাড়ী দায়ী বলে চিহ্নিত হলেও সড়কে এসব গাড়ি চলাচল বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের। এতে ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে ভুক্তভোগীরা। গত ২৯ ডিসেম্বর শুক্রবার দিবাগত রাতে রাঙ্গুনিয়ার সংবাদকর্মী মোঃ ইমরান হোসেন কর্মস্থল থেকে নিজের মোটরসাইকেল যোগে নিজ বাড়ী সরফভাটায় ফেরার পথে রোয়াজারহাট এলাকায় বিপরীত দিকে আসা একটি জ্বালানী কাঠ বোঝাই চাঁদের গাড়ী তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সাংবাদিক ইমরান হোসেন। এর বেশ কয়েকদিন আগে পারুয়া ডিসি সড়কের উত্তর ঘাটচেক এলাকায় জ্বালানি কাঠভর্তি বেশকিছু চাঁদের গাড়ি আটকে রাখেন বিক্ষুব্ধ জনসাধারণ। সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা এসব গাড়ির কারণে নানা অসুবিধার কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এসময় ঘটনাস্থলে আসা পৌর কাউন্সিলর আবুল কাশেম বলেন, গাড়িগুলো অনেক উঁচু করে জ্বালানি কাঠ নিয়ে যাওয়ার সময় দীর্ঘদিন ধরে ডিস লাইন, বৈদ্যুতিক তার,ওয়াফাই তার ছিড়ে ফেলছে। দ্রুতগামী  একটি কাঠ বোঝাই চাঁদের গাড়ি  এলাকার বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী গাড়িটিকে দাঁড়াতে বললে তারা অগ্রাহ্য করে তাদের চাপা দিয়ে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এলাকার লোকজন ক্ষীপ্ত হয়ে রাস্তায় চাঁদের গাড়ী আটক করছে। এভাবে সড়কে গাড়িগুলো কাউকে পরোয়া না করেই বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে রাঙ্গুনিয়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ব্রিকফিল্ড গুলোতে। রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার স্থানীয় কাউন্সিলর আবুল কাশেম জানান, বিষয়টি আমি পুলিশকে জানিয়েছি। অনুসন্ধানে উঠে আসে, রাঙ্গুনিয়ায় সড়কগুলোতে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক চাঁদের গাড়ি চলাচল করে। এসব গাড়ির চালকদের নেই কোনো লাইসেন্স,নেই সড়ক সম্পর্কে কোন ধরনের প্রাথমিক সচেতনতা। অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালকের সংখ্যাও কম নয়। কম খরচে ব্রিকফিল্ডের ইট আর ব্রিকফিল্ডের ইটভাটায় পোড়ানোর জন্য জ্বালানী কাঠ বোঝাইয়ের কাজে এই গাড়ি ব্যবহৃত হয়। ইট ভাটার মৌসুমে এসব গাড়ি অবৈধ জ্বালানি কাঠ পরিবহনে রাস্তায় বেশি চলাচল করতে দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় লাইসেন্স বিহীন যে কেউ চালাচ্ছে এসব গাড়ি। ফলে নিত্য দুর্ঘটনায় ঘটছে প্রাণহানির মতো ঘটনা। গত ২৩ অক্টোবর সড়ক উপজেলার পদুয়া বটতল এলাকায় দ্রুতগামী চাঁদের গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান পদুয়া যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুন্নবী (৪০) ও বান্দরবান সদর উপজেলার মো. হেলাল উদ্দিন (৩৮) নামে একজন ইউপি সদস্য। এর আগে প্রাণ হারান মোটরসাইকেল আরোহী পদুয়া ছাত্রলীগ নেতা ওবাইদুল হক জাহেদ (২৫)। গত ২১ জানুয়ারি রাঙ্গামাটি সড়কের রাঙ্গুনিয়ার কাউখালী রাস্তার মাথা এলাকায় বেপরোয়া চাঁদের গাড়ির সাথে মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. মিজান (২২) নামে এক বাইক আরোহী নিহত ও মো. আবদুল্লাহ (১৮) নামে আরও এক আরোহী আহত হন। এর দুদিন আগে ১৯ জানুয়ারি পদুয়া ইউনিয়নের রাজারহাট মহাজন পাড়া এলাকায় দুর্ঘটনায় মো. রাজা মিয়া (৫২) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়। গত বছরের ২ অক্টোবর দ্রুতগামী চাঁদের গাড়ির সাথে শ্যামলী পরিবহন বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে স্যং প্রো মারমা (২৫) নামে এক চাঁদের গাড়ির হেলপারের মৃত্যু হয় এবং আহত হয় বাসের অন্তত ১৫ জন যাত্রী। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সাহেবনগর এলাকায় সড়কে বেপরোয়া ইটবোঝায় চাঁদের গাড়ির চাপায় মো. মাসুদ (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। চাঁদের গাড়ীর সবচেয়ে ভয়াবহ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে ২০১৯ সালে। ভোরের দিকে ইটভাটা শ্রমিকেরা রাস্তার পাশে অস্থায়ী ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। একটি চাঁদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই ঘরে ঢুকে পড়ে চাপা দেয় ঘুমন্ত শ্রমিকদের। এতে চারজন শ্রমিক ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান। এর কয়েক মাস আগে উপজেলা সদর থেকে সিএনজি অটোরিক্সায় চড়ে চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান যাওয়ার পথে আধুরপাড়া এলাকায় চাঁদের গাড়ির চাপায় যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিক্সার যাত্রী মোহাম্মদ শাকিল (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই অনেকটা প্রকাশ্যে চলাচল করছে রাঙ্গুনিয়াজুড়ে ভয়ংকর চাঁদের  গাড়িগুলো। এলাকাবাসী জোর প্রতিবাদী হলে প্রশাসন সাময়িক গাড়িগুলোকে আটক করলেও মাত্র কয়েক দিন যেতে না যেতেই এসব গাড়ী  সড়কে চলাচল করে বীরদর্পে। গাড়িগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্টদের। বরং প্রশাসনের নাকের ডগায় অবাধে চষে বেড়াচ্ছে এসব গাড়ি।  ভুক্তভোগিরা অবাক চোখে  এসব গাড়ীর চাপায় আপণ জনের প্রাণ ঝরতে দেখলেও এদের থামানোর যেন কেউ নেই। এই বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, ঘাটচেক এলাকায় জব্দকৃত চাঁদের গাড়িগুলোর বিষয়ে পুলিশ যাওয়ার আগেই তারা নিজেরা কথা বলে সমাধান করেছে। চাঁদের গাড়ির চলাচল বন্ধে বিভিন্ন সময় নানা অভিযান চালিয়ে থাকি। তারপরও এসব অবৈধ গাড়ি স্থায়ীভাবে বন্ধে আমরা পদক্ষেপ নেয়া হবে শীঘ্রই।

শীতের রাতে পায়ে মোজা পরে ঘুমানো ভালো নাকি খারাপ, জানুন

রাঙ্গুনিয়ার সড়কে বেপরোয়া চাঁদের গাড়ি প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে

আপডেট সময় : ০৮:৩০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩
রাঙ্গুনিয়ায় ফিটনেসবিহীন অবৈধ চাঁদের গাড়ি (জীপ) বেপরোয়া গতির কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। অনুমোদনহীন এসব গাড়ি ইটভাটায় সরকারী রিজার্ভ ফরেষ্টের চোরাই জ্বালানি কাঠ ও  নদী থেকে অবৈধ ভাবে তোলা বালি পরিবহনের কাজেই বেশি ব্যবহৃত হয়। কম খরচে এসব গাড়ীতে চোরাই জ্বালানী কাঠ পরিবহন করার সুযোগে এসব অবৈধ গাড়ী বীরদর্পে রাঙ্গুনিয়াজুড়ে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এসব গাড়ির চালকদের মধ্যে অধিকাংশই অদক্ষ এবং কম বয়সী। ফলে চাঁদের গাড়ির কারণে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিনই দুর্ঘটনায় লোকজনের প্রাণহানি ও অঙ্গহানির মতো ঘটনা ঘটেই চলছে। প্রশাসনের লোকজনকে ম্যানেজ করে এসব গাড়ীর চালক ও মালিকরা রাস্তায় চালাচ্ছে অবাধে এমন অভিযোগ এলাকাবাসির। এলাকার ভুক্তভোগিদের অভিযোগ, রাঙ্গুনিয়ার শতাধিক ব্রিকফিল্ড মালিকের নিয়ন্ত্রণে সড়কে এসব গাড়ী চলছে অবাধে। বিভিন্ন ব্রিকফিল্ড মালিকরা কম খরচে চোরাই জ্বালানী কাঠ পরিবহন ও ইট পরিবহনের জন্য এসব অবৈধ গাড়ী ব্যবহার করছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। অদক্ষ চালক ও হেলপার দিয়েই রাস্তায় চালানো হচ্ছে এসব দ্রুতগতির গাড়ী। দিনের বেলায় এসব গাড়ী সড়কে কম দেখা গেলেও সন্ধ্যার পর থেকে রাতভর বিভিন্ন সড়কে চলাচল করে এসব ভয়ংকর চাঁদের গাড়ী। রাঙ্গুনিয়া ও তার আশেপাশের এলাকার লোকজনের কাছে চাঁদের গাড়ী মানেই আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।  ২০২৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরেই দ্রুতগামী চাঁদের গাড়ীর ধাক্কায় রাঙ্গুনিয়ায়  ৭ জন জন প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন   অন্ততঃ ২০ জন। প্রতিদিন দুর্ঘটনায় এসব গাড়ী দায়ী বলে চিহ্নিত হলেও সড়কে এসব গাড়ি চলাচল বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের। এতে ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে ভুক্তভোগীরা। গত ২৯ ডিসেম্বর শুক্রবার দিবাগত রাতে রাঙ্গুনিয়ার সংবাদকর্মী মোঃ ইমরান হোসেন কর্মস্থল থেকে নিজের মোটরসাইকেল যোগে নিজ বাড়ী সরফভাটায় ফেরার পথে রোয়াজারহাট এলাকায় বিপরীত দিকে আসা একটি জ্বালানী কাঠ বোঝাই চাঁদের গাড়ী তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সাংবাদিক ইমরান হোসেন। এর বেশ কয়েকদিন আগে পারুয়া ডিসি সড়কের উত্তর ঘাটচেক এলাকায় জ্বালানি কাঠভর্তি বেশকিছু চাঁদের গাড়ি আটকে রাখেন বিক্ষুব্ধ জনসাধারণ। সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা এসব গাড়ির কারণে নানা অসুবিধার কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এসময় ঘটনাস্থলে আসা পৌর কাউন্সিলর আবুল কাশেম বলেন, গাড়িগুলো অনেক উঁচু করে জ্বালানি কাঠ নিয়ে যাওয়ার সময় দীর্ঘদিন ধরে ডিস লাইন, বৈদ্যুতিক তার,ওয়াফাই তার ছিড়ে ফেলছে। দ্রুতগামী  একটি কাঠ বোঝাই চাঁদের গাড়ি  এলাকার বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী গাড়িটিকে দাঁড়াতে বললে তারা অগ্রাহ্য করে তাদের চাপা দিয়ে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এলাকার লোকজন ক্ষীপ্ত হয়ে রাস্তায় চাঁদের গাড়ী আটক করছে। এভাবে সড়কে গাড়িগুলো কাউকে পরোয়া না করেই বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে রাঙ্গুনিয়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ব্রিকফিল্ড গুলোতে। রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার স্থানীয় কাউন্সিলর আবুল কাশেম জানান, বিষয়টি আমি পুলিশকে জানিয়েছি। অনুসন্ধানে উঠে আসে, রাঙ্গুনিয়ায় সড়কগুলোতে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক চাঁদের গাড়ি চলাচল করে। এসব গাড়ির চালকদের নেই কোনো লাইসেন্স,নেই সড়ক সম্পর্কে কোন ধরনের প্রাথমিক সচেতনতা। অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালকের সংখ্যাও কম নয়। কম খরচে ব্রিকফিল্ডের ইট আর ব্রিকফিল্ডের ইটভাটায় পোড়ানোর জন্য জ্বালানী কাঠ বোঝাইয়ের কাজে এই গাড়ি ব্যবহৃত হয়। ইট ভাটার মৌসুমে এসব গাড়ি অবৈধ জ্বালানি কাঠ পরিবহনে রাস্তায় বেশি চলাচল করতে দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় লাইসেন্স বিহীন যে কেউ চালাচ্ছে এসব গাড়ি। ফলে নিত্য দুর্ঘটনায় ঘটছে প্রাণহানির মতো ঘটনা। গত ২৩ অক্টোবর সড়ক উপজেলার পদুয়া বটতল এলাকায় দ্রুতগামী চাঁদের গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান পদুয়া যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুন্নবী (৪০) ও বান্দরবান সদর উপজেলার মো. হেলাল উদ্দিন (৩৮) নামে একজন ইউপি সদস্য। এর আগে প্রাণ হারান মোটরসাইকেল আরোহী পদুয়া ছাত্রলীগ নেতা ওবাইদুল হক জাহেদ (২৫)। গত ২১ জানুয়ারি রাঙ্গামাটি সড়কের রাঙ্গুনিয়ার কাউখালী রাস্তার মাথা এলাকায় বেপরোয়া চাঁদের গাড়ির সাথে মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. মিজান (২২) নামে এক বাইক আরোহী নিহত ও মো. আবদুল্লাহ (১৮) নামে আরও এক আরোহী আহত হন। এর দুদিন আগে ১৯ জানুয়ারি পদুয়া ইউনিয়নের রাজারহাট মহাজন পাড়া এলাকায় দুর্ঘটনায় মো. রাজা মিয়া (৫২) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়। গত বছরের ২ অক্টোবর দ্রুতগামী চাঁদের গাড়ির সাথে শ্যামলী পরিবহন বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে স্যং প্রো মারমা (২৫) নামে এক চাঁদের গাড়ির হেলপারের মৃত্যু হয় এবং আহত হয় বাসের অন্তত ১৫ জন যাত্রী। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সাহেবনগর এলাকায় সড়কে বেপরোয়া ইটবোঝায় চাঁদের গাড়ির চাপায় মো. মাসুদ (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। চাঁদের গাড়ীর সবচেয়ে ভয়াবহ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে ২০১৯ সালে। ভোরের দিকে ইটভাটা শ্রমিকেরা রাস্তার পাশে অস্থায়ী ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। একটি চাঁদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই ঘরে ঢুকে পড়ে চাপা দেয় ঘুমন্ত শ্রমিকদের। এতে চারজন শ্রমিক ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান। এর কয়েক মাস আগে উপজেলা সদর থেকে সিএনজি অটোরিক্সায় চড়ে চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান যাওয়ার পথে আধুরপাড়া এলাকায় চাঁদের গাড়ির চাপায় যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিক্সার যাত্রী মোহাম্মদ শাকিল (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই অনেকটা প্রকাশ্যে চলাচল করছে রাঙ্গুনিয়াজুড়ে ভয়ংকর চাঁদের  গাড়িগুলো। এলাকাবাসী জোর প্রতিবাদী হলে প্রশাসন সাময়িক গাড়িগুলোকে আটক করলেও মাত্র কয়েক দিন যেতে না যেতেই এসব গাড়ী  সড়কে চলাচল করে বীরদর্পে। গাড়িগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্টদের। বরং প্রশাসনের নাকের ডগায় অবাধে চষে বেড়াচ্ছে এসব গাড়ি।  ভুক্তভোগিরা অবাক চোখে  এসব গাড়ীর চাপায় আপণ জনের প্রাণ ঝরতে দেখলেও এদের থামানোর যেন কেউ নেই। এই বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, ঘাটচেক এলাকায় জব্দকৃত চাঁদের গাড়িগুলোর বিষয়ে পুলিশ যাওয়ার আগেই তারা নিজেরা কথা বলে সমাধান করেছে। চাঁদের গাড়ির চলাচল বন্ধে বিভিন্ন সময় নানা অভিযান চালিয়ে থাকি। তারপরও এসব অবৈধ গাড়ি স্থায়ীভাবে বন্ধে আমরা পদক্ষেপ নেয়া হবে শীঘ্রই।