জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দূর-দূরান্তের রোগী আনা-নেয়ার জন্য সরকারি চারটি অ্যাম্বুলেন্সের মাঝে তিনটি দীর্ঘদিন
ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপেক্সে একটি অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকলেও এক সপ্তাহ পর পর করতে হয় মেরামত। স্বাস্থ্য কমপেক্সের অ্যাম্বুলেন্স সংকটের কারণে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন গরীব রোগীরা। বেশির ভাগ সময় নির্ভর করতে হয় ভাড়া করা অ্যাম্বুলেন্সে। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে রোগী বহনে অর্থের সঙ্গে বেড়েছে ভোগান্তিও।
বছরের পর বছর ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনটি অ্যাম্বুলেন্স অযত্নে অবহেলায় অকেজো হয়ে পড়ে থাকলেও সংস্কারে আগ্রহ নেই কর্তৃপক্ষের। এতে এলাকার লোকজন বঞ্চিত হচ্ছেন অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে।, অথচ একটু রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে একদিকে যেমন এসব অ্যাম্বুলেন্স অচল হওয়া থেকে রক্ষা পেত, রোগীরাও পেত জরুরি সেবা।
সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে গিয়ে দেখা যায়, তিনটি অ্যাম্বুলেন্স অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। এর মধ্যে দুটি মরচে ধরে মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যটিও ধুলার আস্তরণে বিবর্ণ হতে চলেছে।
স্বাস্থ্য কমপেক্স সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ ও ২০১০ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে রোগী বহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়। ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আরো একটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়। ১৯৯৫ ও ২০১০ সালের দুই অ্যাম্বুলেন্স প্রায় ১১ বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ২০১৫ সালের প্রধানমন্ত্রীর উপহারের অ্যাম্বুলেন্স টি ৩ বছর ধরে বিকল হয়েছে। বর্তমানে ২০১৭ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি সচল রয়েছে। সেটাও প্রতি সপ্তাহে মেরামত করতে হয়।
স্বাস্থ্য কমপেক্সে ভর্তি হওয়া রাশেদ মিয়া নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, আসলে আমাদের প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের উপর বেশিরভাগ সময় নির্ভর করে চলতে হচ্ছে। কেননা রোগীদের একটু খারাপ অবস্থা দেখলে পাঠানো হয় জামালপুর সদর হাসপাতালে, তখন জরুরি ভাবে প্রয়োজন হয় অ্যাম্বুলেন্স। হাসপাতালে একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও তা ঠিক সময়ে পাওয়া যায় না। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে রোগী বহনে রোগী পর্যায়ে সীমিত ব্যয় হয়। কিন্তু বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে সেই ব্যয় আরও তিনগুন বাড়ে।
আব্দুল গফুর নামে আরেকজন বলেন, মেলান্দহ থেকে জামালপুর সদর হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে রোগী নিয়ে গেলে ভাড়া দিতে হয় এক হাজার টাকা। তাই গরীব মানুষেরা সিএনজি বা অটো রিকশা দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে রোগী যায়। অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে আশঙ্কাজনক রোগীদের জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিতে দেরি হওয়ায় অনেক রোগী পথেই মারা যান ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক মোঃ রহিম বলেন, দুই টি অ্যাম্বুলেন্স একদম নষ্ট হয়ে গেছে। আর একটি অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করলে কোনরকম চালানো যাবে। বর্তমানে যে অ্যাম্বুলেন্সটি চালাচ্ছি এটাও প্রতিদিন ঠিক করতে হয় কমবেশি। দূরে কোথাও যাওয়া যায় না, যেকোনো সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই অ্যাম্বুলেন্সটি যেকোনো সময় বিকল হতে পারে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গাজী রফিকুল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে অ্যাম্বুলেন্স। তিনটি গাড়ীর মধ্যে দুটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের গাড়িটি মেরামত করলে চালানোর উপযোগী হবে। বর্তমানে একটি অ্যাম্বুলেন্সের রয়েছে এটি যেকোন সময় বিকল হয়ে যেতে পারে। নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্স ও প্রধানমন্ত্রীর উপহারের অ্যাম্বুলেন্স মেরামত করার জন্য চিঠি তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।























