মঙ্গলবার, ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা ৭টায়। কিন্তু বিকেল ৪টার মধ্যেই ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামের আশেপাশে হাজার হাজার ফুটবল অনুরাগীদের ভিড়। জ্যেষ্ঠ মাসের আকাশটা মেঘলা। তবে বেশ ভ্যাপসা গরম। কয়েকজন ব্ল্যাকাররা সুযোগ বুঝে উচ্চমূল্যে বিক্রি করছে টিকেট। কেউ কেউ তা কিনছেও। বায়তুল মোকাররমের গেট দিয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকতে হবে। একটু এগুতেই দেখা গেল দর্শকরা কয়েকটি লাইনে ভাগ হয়ে স্টেডিয়াম চত্ত্বরে ঢোকার জন্য দাঁড়িয়ে গেছে। তাদের বেশির ভাগই তরুণ। এদের মধ্যে আবার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শক আবার বিদেশীও। লাইনের পাশেই অবস্থান নিয়েছেন টিভি সাংবাদিক, ইউটিউবাররা। উদ্দেশ্য দর্শকদের ঢল ও তাদের মতামত নিয়ে সার্বিক একটা চিত্র তুলে ধরা। গত ৪ জুন এই স্টেডিয়ামেই দীর্ঘ ৫৫ মাস পর আবারও ফুটবল ফিরেছিল বাংলাদেশ বনাম ভুটান প্রীতি ম্যাচ দিয়ে। ভুটানকে সহজেই ২-০ গোলে হারিয়ে স্বাগতিক বাংলাদেশ জিতেছিল। হামজার প্রথম আন্তর্জাতিক গোল ম্যাচটাকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছিল। তার কারণেই আজ বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল পরিণত হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী দলে। ফলে দেশের ফুটবলের পালে লেগেছে সুবাতাস। যার প্রমাণ প্রচুর দর্শক সমাগম।
গরম তো ছিলই, কিন্তু বাড়তি ঝামেলা হিসেবে কিছুক্ষণের মধ্যেই আবির্ভূত হলো ‘আকাশের কান্না’! অর্থাৎ অঝোর বর্ষণ। বেশিরভাগই সঙ্গে করে ছাতা নিয়ে আসেননি। ফলে তাদের পড়তে হলো বিড়ম্বনায়। ভিজে-নিয়ে একাকার। কিন্তু অবাক বিষয়Ñতাদের কারোর মুখেই নেই কোন বিরক্তি বা অস্বস্তির চিহ্ন। কারণটা অনুমেয়, এত কষ্টের পরেই কিছুক্ষণের পরেই যে তারা তাদের প্রিয় লাল-সবুজ বাহিনীর ফুটবলারদের খেলা উপভোগ করতে পারবেন, গলা ফাটিয়ে তাদের নিয়ে জয়ধ্বনি দিতে পারবেন। কাজেই এমন অনুভূতির কাছে গরম বা বৃষ্টি পরাজিত হতে বাধ্য। আর এভাবেই ২২ হাজার দর্শক বৃষ্টি মাথায় নিয়ে এক এক করে ঢুকে পড়লেন স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে।

























