‘ভাইয়া আমাকে ধরো’ » দৈনিক সবুজ বাংলা
০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ভাইয়া আমাকে ধরো’

রোবাইদা নূর আলবিরা মাইলস্টোনের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী। পোড়া শরীর নিয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসে শিশুটি। আলবিরা এমন অবস্থা থেকে ওকে বাঁচাতে এগিয়ে যায় একাদশ শ্রেণির ছাত্র সায়েম খান। সোমবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সায়েম খান বলেন, ‘হঠাৎ বিকট শব্দ। দেখি আগুন জ্বলছে। এতো আগুন যে কাছে যাওয়ার মতো অবস্থা ছিল না। এর মধ্যে একটা বাচ্চাকে এগিয়ে আসতে দেখি। আমাকে দেখে ও বলছিল–ভাইয়া আমাকে ধরো। কাছে এগিয়ে যেতেই আমার কাঁধের ওপর পড়ে যায়। ওর আইডি কার্ড আমি আমার কাছে রাখি। রিকশায় উঠে যখন হাসপাতালে রওনা দিই, তখন আরেক আন্টি বলছিলেন– বাবা আমার মেয়েকে হাসপাতালে নেও। দু’জন রিকশায় নিয়ে উত্তরায় একাধিক হাসপাতাল ঘুরতে থাকি। কোথাও তেমন চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেনি। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে আলবিরাকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে আসি।’

ঢাকা মেডিকেলে আলবিরার মা রওশন ইয়াসমিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি সমকালকে বলেন, সায়েম না বাঁচালে আমার মেয়ের কী হতো জানি না। ওকে আগে থেকে চিনি না। স্কুলের বড় ভাই হিসেবে সায়েম যে উদাহরণ তৈরি করেছে তা আমাদের পরিবারের জন্য আশর্বীদ।

ঢামেকের বার্ন ইউনিটের পঞ্চম তলায় চিকিৎসাধীন আলবিরা। শিশুটির মায়ের কাছ থেকে ‘বিদায়’ নিচ্ছিলেন সায়েম। এসময় আলবিরার স্কুলের আইডি কার্ড তার মায়ের হাতে তুলে দেন। সায়েম বললেন–‘আন্টি এখন বাসায় যাচ্ছি। আবার আলবিরার খোঁজ নিতে আসব।’ এসময় চোখের কোনা অশ্রুসিক্ত আলবিরার মায়ের।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে পাস ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ বিল-২০২৬

‘ভাইয়া আমাকে ধরো’

আপডেট সময় : ১১:০৭:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

রোবাইদা নূর আলবিরা মাইলস্টোনের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী। পোড়া শরীর নিয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসে শিশুটি। আলবিরা এমন অবস্থা থেকে ওকে বাঁচাতে এগিয়ে যায় একাদশ শ্রেণির ছাত্র সায়েম খান। সোমবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সায়েম খান বলেন, ‘হঠাৎ বিকট শব্দ। দেখি আগুন জ্বলছে। এতো আগুন যে কাছে যাওয়ার মতো অবস্থা ছিল না। এর মধ্যে একটা বাচ্চাকে এগিয়ে আসতে দেখি। আমাকে দেখে ও বলছিল–ভাইয়া আমাকে ধরো। কাছে এগিয়ে যেতেই আমার কাঁধের ওপর পড়ে যায়। ওর আইডি কার্ড আমি আমার কাছে রাখি। রিকশায় উঠে যখন হাসপাতালে রওনা দিই, তখন আরেক আন্টি বলছিলেন– বাবা আমার মেয়েকে হাসপাতালে নেও। দু’জন রিকশায় নিয়ে উত্তরায় একাধিক হাসপাতাল ঘুরতে থাকি। কোথাও তেমন চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেনি। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে আলবিরাকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে আসি।’

ঢাকা মেডিকেলে আলবিরার মা রওশন ইয়াসমিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি সমকালকে বলেন, সায়েম না বাঁচালে আমার মেয়ের কী হতো জানি না। ওকে আগে থেকে চিনি না। স্কুলের বড় ভাই হিসেবে সায়েম যে উদাহরণ তৈরি করেছে তা আমাদের পরিবারের জন্য আশর্বীদ।

ঢামেকের বার্ন ইউনিটের পঞ্চম তলায় চিকিৎসাধীন আলবিরা। শিশুটির মায়ের কাছ থেকে ‘বিদায়’ নিচ্ছিলেন সায়েম। এসময় আলবিরার স্কুলের আইডি কার্ড তার মায়ের হাতে তুলে দেন। সায়েম বললেন–‘আন্টি এখন বাসায় যাচ্ছি। আবার আলবিরার খোঁজ নিতে আসব।’ এসময় চোখের কোনা অশ্রুসিক্ত আলবিরার মায়ের।