০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে মাদ্রাসায় নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম প্রশ্নবিদ্ধ

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার পাঁচপীর কেরামতিয়া দ্বিমুখী আলিম মাদ্রাসায় অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, একই পরিবারের চারজনসহ প্রায় কোটি টাকার বিনিময়ে একাধিক পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে মাদ্রাসার সুনাম ও এলাকার শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, নৈশপ্রহরী পদে থাকা আব্দুল মজিদ টাকার বিনিময়ে অফিস সহকারী পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি নিজের পরিবারের চারজনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগে প্রভাব খাটান। এর মধ্যে তাঁর মেয়ে, ভাতিজা ও ভাতিজার স্ত্রী রয়েছেন। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে মমতা বেগমকে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে হিসাব রক্ষক, রাকিব হোসেনকে ১২ লাখ টাকায় হিসাব সরকারি পদে এবং সোমা আক্তারকে ১০ লাখ টাকায় আয়া পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একইসঙ্গে অধ্যক্ষ পদেও মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, আহাম্মদ আলী নামের একজনকে ১৬ লাখ টাকার বিনিময়ে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল মজিদ স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় সদস্য। তিনি সংগঠনের জন্য আর্থিক যোগানদাতা হিসেবেও পরিচিত। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক প্রভাব এবং টাকার জোরে প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। ফলে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং প্রতিষ্ঠানটি ক্রমেই স্বচ্ছতা হারাচ্ছে।

অভিভাবক সদস্য খায়রুল ইসলাম বলেন, “আমি অভিভাবক সদস্য হয়েও কিভাবে নিয়োগ সম্পন্ন হলো তা জানি না।” অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ গোপনে এবং অস্বচ্ছ উপায়ে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এলাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, তিনি বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন এবং নির্বাচনে অবৈধ ভোট গ্রহণে জড়িত ছিলেন। এছাড়া উলিপুরের ধরণীবাড়ি ইউনিয়নের একটি মাদ্রাসায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছিল।
অভিযোগ ওঠার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উলিপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, “নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমি নিয়োগ বোর্ডের সদস্যও নই।”

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের নিয়োগ বাণিজ্য শুধু শিক্ষার মানকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে—কিভাবে এতগুলো নিয়োগ প্রক্রিয়া বিনা বাধায় সম্পন্ন হলো? প্রশাসন বা শিক্ষা বোর্ডের নজরদারির বাইরে এ প্রক্রিয়া কেন রয়ে গেল? অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হলে কি আসল সত্য উন্মোচিত হবে?

পাঁচপীর কেরামতিয়া দ্বিমুখী আলিম মাদ্রাসার এই নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সুনামকেই কলঙ্কিত করছে না, বরং গোটা অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহলের মতে, অবিলম্বে এ বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির এই চক্র আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপিএলে শেষের নাটকীয়তার পর ৫ রানে জিতল রাজশাহী

কুড়িগ্রামে মাদ্রাসায় নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম প্রশ্নবিদ্ধ

আপডেট সময় : ০৪:১৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার পাঁচপীর কেরামতিয়া দ্বিমুখী আলিম মাদ্রাসায় অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, একই পরিবারের চারজনসহ প্রায় কোটি টাকার বিনিময়ে একাধিক পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে মাদ্রাসার সুনাম ও এলাকার শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, নৈশপ্রহরী পদে থাকা আব্দুল মজিদ টাকার বিনিময়ে অফিস সহকারী পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি নিজের পরিবারের চারজনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগে প্রভাব খাটান। এর মধ্যে তাঁর মেয়ে, ভাতিজা ও ভাতিজার স্ত্রী রয়েছেন। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে মমতা বেগমকে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে হিসাব রক্ষক, রাকিব হোসেনকে ১২ লাখ টাকায় হিসাব সরকারি পদে এবং সোমা আক্তারকে ১০ লাখ টাকায় আয়া পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একইসঙ্গে অধ্যক্ষ পদেও মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, আহাম্মদ আলী নামের একজনকে ১৬ লাখ টাকার বিনিময়ে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল মজিদ স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় সদস্য। তিনি সংগঠনের জন্য আর্থিক যোগানদাতা হিসেবেও পরিচিত। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক প্রভাব এবং টাকার জোরে প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। ফলে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং প্রতিষ্ঠানটি ক্রমেই স্বচ্ছতা হারাচ্ছে।

অভিভাবক সদস্য খায়রুল ইসলাম বলেন, “আমি অভিভাবক সদস্য হয়েও কিভাবে নিয়োগ সম্পন্ন হলো তা জানি না।” অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ গোপনে এবং অস্বচ্ছ উপায়ে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এলাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, তিনি বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন এবং নির্বাচনে অবৈধ ভোট গ্রহণে জড়িত ছিলেন। এছাড়া উলিপুরের ধরণীবাড়ি ইউনিয়নের একটি মাদ্রাসায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছিল।
অভিযোগ ওঠার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উলিপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, “নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমি নিয়োগ বোর্ডের সদস্যও নই।”

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের নিয়োগ বাণিজ্য শুধু শিক্ষার মানকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে—কিভাবে এতগুলো নিয়োগ প্রক্রিয়া বিনা বাধায় সম্পন্ন হলো? প্রশাসন বা শিক্ষা বোর্ডের নজরদারির বাইরে এ প্রক্রিয়া কেন রয়ে গেল? অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হলে কি আসল সত্য উন্মোচিত হবে?

পাঁচপীর কেরামতিয়া দ্বিমুখী আলিম মাদ্রাসার এই নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সুনামকেই কলঙ্কিত করছে না, বরং গোটা অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহলের মতে, অবিলম্বে এ বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির এই চক্র আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।