১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জবির প্রশাসনিক ভবনে তালা দিল আন্দোলনকারীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) গত কয়েকদিন ধরে সম্পূরক বৃত্তি ও জকসু নির্বাচনের ২ দফা দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। তারই পরিপ্রেক্ষিতে “ব্রেক দ্য সাইলেন্স” কর্মসূচি পালন করে তারা। এদিকে এই কর্মসূচির মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন উপাচার্যসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

রবিবার (২৪ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর আগে সকাল ১০টা থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে এতেও পদক্ষেপ গৃহীত না হওয়ায় পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী দুপুর ১২টায় উপাচার্যের কক্ষের সামনে অবস্থান করে “ব্রেক দ্য সাইলেন্স” আন্দোলনের মাধ্যমে ২ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ভিসি ভবনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘ভিসি স্যার জানেন না নাকি, আমরা এখানে বসে গেছি’, ‘আটটা টু আটটা, বাজায় কার ঘণ্টা’, ‘হচ্ছে হবে বাদ দাও, কবে হবে বলে দাও’, ‘করছি করছি বাদ দাও, কবে হবে বলে দাও’ সহ বিভিন্ন স্লোগান তেলেন। পরে উপাচার্য এসে তাদের সাথে কথা বললেও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি চালিয়ে যান। পরে বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন।

আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী জবির ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শফিক খান হাসিব বলেন, হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে মেস বা ভাড়া বাসায় থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়, যা ঢাকার মতো শহরে ভীষণ ব্যয়বহুল। ফলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটে ভোগেন। আবাসন বৃত্তি চালু হলে অন্তত ভাড়া ও জীবনযাপনের চাপ কিছুটা কমে আমরা পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারবো। আর জকসু আমাদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বরের প্রতীক। আমাদের দুটি দাবি-ই ন্যায্য। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা উচিত।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ জগন্নাথ শাখার আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, লং মার্চ টু যমুনার মাধ্যমে আমাদের আদায়কৃত দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। তাই সম্পূরক বৃত্তি ও জকসুর দাবিতে আমাদের এই কর্মসূচি গ্রহণ করতে হয়েছে। দাবি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ছাড়া আমরা আমাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।

জবি শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি আবাসন বৃত্তি ও জকসু বাস্তবায়নে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রিতা ও বড় ধরনের গাফিলতি দেখতে পাচ্ছি। ব্রেক দ্য সাইলেন্স কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা এই দীর্ঘসূত্রিতার অবসান ঘটাতে চাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি আমরা চালিয়ে যাবো।

ছাত্র অধিকার পরিষদের জবি শাখার সভাপতি এ কে এম রাকিব বলেন, “প্রশাসন ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের যে আশ্বাস দিয়েছে, তা “প্রহসন”। তারা ভাবছে জাতীয় নির্বাচনের আগে জকসু নির্বাচন না হলে তা আর কখনোই হবে না। আমরা তা হতে দিবো না। সম্পূরক বৃত্তি ও জকসুর সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষনার দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ভিসি ভবন ছাড়বো না। দরকার হলে আমরা আরো কঠোর অবস্থানের ঘোষনা দিবো।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আমার যা বক্তব্য তা বলে দিয়েছি। এরপরেও তারা কেন তালা দিয়েছে তা জানিনা।

প্রসঙ্গত, সম্পূরক বৃত্তি ও জকসুর এই দুই দফা দাবিতে গত ১৯ তারিখ থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন শিক্ষার্থীরা। আজকের এই তালাবদ্ধ করার মধ্যে একটি সুষ্ঠ সমাধানের প্রত্যাশা সাধারণ শিক্ষার্থীদের।

এমআর/সবা

জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

জবির প্রশাসনিক ভবনে তালা দিল আন্দোলনকারীরা

আপডেট সময় : ০৬:১১:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) গত কয়েকদিন ধরে সম্পূরক বৃত্তি ও জকসু নির্বাচনের ২ দফা দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। তারই পরিপ্রেক্ষিতে “ব্রেক দ্য সাইলেন্স” কর্মসূচি পালন করে তারা। এদিকে এই কর্মসূচির মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন উপাচার্যসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

রবিবার (২৪ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর আগে সকাল ১০টা থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে এতেও পদক্ষেপ গৃহীত না হওয়ায় পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী দুপুর ১২টায় উপাচার্যের কক্ষের সামনে অবস্থান করে “ব্রেক দ্য সাইলেন্স” আন্দোলনের মাধ্যমে ২ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ভিসি ভবনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘ভিসি স্যার জানেন না নাকি, আমরা এখানে বসে গেছি’, ‘আটটা টু আটটা, বাজায় কার ঘণ্টা’, ‘হচ্ছে হবে বাদ দাও, কবে হবে বলে দাও’, ‘করছি করছি বাদ দাও, কবে হবে বলে দাও’ সহ বিভিন্ন স্লোগান তেলেন। পরে উপাচার্য এসে তাদের সাথে কথা বললেও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি চালিয়ে যান। পরে বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন।

আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী জবির ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শফিক খান হাসিব বলেন, হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে মেস বা ভাড়া বাসায় থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়, যা ঢাকার মতো শহরে ভীষণ ব্যয়বহুল। ফলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটে ভোগেন। আবাসন বৃত্তি চালু হলে অন্তত ভাড়া ও জীবনযাপনের চাপ কিছুটা কমে আমরা পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারবো। আর জকসু আমাদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বরের প্রতীক। আমাদের দুটি দাবি-ই ন্যায্য। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা উচিত।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ জগন্নাথ শাখার আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, লং মার্চ টু যমুনার মাধ্যমে আমাদের আদায়কৃত দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। তাই সম্পূরক বৃত্তি ও জকসুর দাবিতে আমাদের এই কর্মসূচি গ্রহণ করতে হয়েছে। দাবি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ছাড়া আমরা আমাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।

জবি শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি আবাসন বৃত্তি ও জকসু বাস্তবায়নে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রিতা ও বড় ধরনের গাফিলতি দেখতে পাচ্ছি। ব্রেক দ্য সাইলেন্স কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা এই দীর্ঘসূত্রিতার অবসান ঘটাতে চাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি আমরা চালিয়ে যাবো।

ছাত্র অধিকার পরিষদের জবি শাখার সভাপতি এ কে এম রাকিব বলেন, “প্রশাসন ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের যে আশ্বাস দিয়েছে, তা “প্রহসন”। তারা ভাবছে জাতীয় নির্বাচনের আগে জকসু নির্বাচন না হলে তা আর কখনোই হবে না। আমরা তা হতে দিবো না। সম্পূরক বৃত্তি ও জকসুর সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষনার দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ভিসি ভবন ছাড়বো না। দরকার হলে আমরা আরো কঠোর অবস্থানের ঘোষনা দিবো।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আমার যা বক্তব্য তা বলে দিয়েছি। এরপরেও তারা কেন তালা দিয়েছে তা জানিনা।

প্রসঙ্গত, সম্পূরক বৃত্তি ও জকসুর এই দুই দফা দাবিতে গত ১৯ তারিখ থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন শিক্ষার্থীরা। আজকের এই তালাবদ্ধ করার মধ্যে একটি সুষ্ঠ সমাধানের প্রত্যাশা সাধারণ শিক্ষার্থীদের।

এমআর/সবা