০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুই মাসের প্রতিশ্রুতি, ১১মাস পেরিয়েও চালু হয়নি নোবিপ্রবির কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া প্রায় এক বছর আগে সংস্কার ও মান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুই মাসের মধ্যে ক্যাফেটেরিয়া পুনরায় চালু করার প্রতিশ্রুতি দিলেও ১১ মাস পেরিয়েও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খাবারের সংকটে পড়েছেন এবং ক্যাম্পাসের বাইরের টং দোকান ও হোটেলগুলোতে খাবার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৩ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়াটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তখন প্রশাসন জানিয়েছিল, ক্যাফেটেরিয়ার সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ শেষ করে দ্রুতই শিক্ষার্থীদের জন্য এটি চালু করা হবে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই প্রতিশ্রুতির কোনো বাস্তবায়ন হয়নি।
ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে ক্যাম্পাসের বাইরের দোকান ও হোটেলগুলোর ওপর, যার ফলে অতিরিক্ত অর্থ খরচ হচ্ছে এবং মানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের জন্য উদ্বেগও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শীতকালীন ছুটি শেষে যখন ক্যাম্পাস খুলেছে, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সবচেয়ে বড় আবাসিক হল, মালেক উকিল হলের ডাইনিং কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। ফলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের আরও বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তারা বাধ্য হয়ে পাশের আবদুস সালাম হলের ডাইনিংয়ে গিয়ে খাবার খাচ্ছেন, যার ফলে সেখানে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে এবং খাবারের মান নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম বলেন, “কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ থাকায় প্রতিদিনই আমাদের বাইরের দোকান থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে। সেখানে খাবারের দাম অনেক বেশি, আবার তা স্বাস্থ্যসম্মত কিনা তাও নিশ্চিত নয়। প্রশাসন দুই মাসের মধ্যে ক্যাফেটেরিয়া চালু করার কথা বলেছিল, কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও এটি চালু হয়নি, যা আমাদের জন্য হতাশাজনক।”
এ বিষয়ে শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া এতদিন বন্ধ থাকা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। বারবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কিছুই হয়নি। প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ক্যাফেটেরিয়া চালু করার জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজওয়ানুল হক বলেন, “কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া চালু করার পথে কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিল, তবে এখন কিছু সরঞ্জাম কেনার বাকি রয়েছে। আশা করছি, এ মাসের শেষে অথবা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ক্যাফেটেরিয়া চালু করতে পারব। এছাড়া হলগুলোর ডাইনিং কার্যক্রম শিগগিরই চালু করতে হল প্রভোস্টদের সঙ্গে আলোচনা করব।”
এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, যার প্রতিকার খুব শিগগিরই হওয়া প্রয়োজন বলে অভিমত সংশ্লিষ্টরা।
শু/সবা
জনপ্রিয় সংবাদ

দুই মাসের প্রতিশ্রুতি, ১১মাস পেরিয়েও চালু হয়নি নোবিপ্রবির কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া

আপডেট সময় : ০৪:৪২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া প্রায় এক বছর আগে সংস্কার ও মান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুই মাসের মধ্যে ক্যাফেটেরিয়া পুনরায় চালু করার প্রতিশ্রুতি দিলেও ১১ মাস পেরিয়েও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খাবারের সংকটে পড়েছেন এবং ক্যাম্পাসের বাইরের টং দোকান ও হোটেলগুলোতে খাবার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৩ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়াটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তখন প্রশাসন জানিয়েছিল, ক্যাফেটেরিয়ার সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ শেষ করে দ্রুতই শিক্ষার্থীদের জন্য এটি চালু করা হবে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই প্রতিশ্রুতির কোনো বাস্তবায়ন হয়নি।
ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে ক্যাম্পাসের বাইরের দোকান ও হোটেলগুলোর ওপর, যার ফলে অতিরিক্ত অর্থ খরচ হচ্ছে এবং মানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের জন্য উদ্বেগও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শীতকালীন ছুটি শেষে যখন ক্যাম্পাস খুলেছে, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সবচেয়ে বড় আবাসিক হল, মালেক উকিল হলের ডাইনিং কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। ফলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের আরও বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তারা বাধ্য হয়ে পাশের আবদুস সালাম হলের ডাইনিংয়ে গিয়ে খাবার খাচ্ছেন, যার ফলে সেখানে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে এবং খাবারের মান নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম বলেন, “কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ থাকায় প্রতিদিনই আমাদের বাইরের দোকান থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে। সেখানে খাবারের দাম অনেক বেশি, আবার তা স্বাস্থ্যসম্মত কিনা তাও নিশ্চিত নয়। প্রশাসন দুই মাসের মধ্যে ক্যাফেটেরিয়া চালু করার কথা বলেছিল, কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও এটি চালু হয়নি, যা আমাদের জন্য হতাশাজনক।”
এ বিষয়ে শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া এতদিন বন্ধ থাকা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। বারবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কিছুই হয়নি। প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ক্যাফেটেরিয়া চালু করার জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজওয়ানুল হক বলেন, “কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া চালু করার পথে কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিল, তবে এখন কিছু সরঞ্জাম কেনার বাকি রয়েছে। আশা করছি, এ মাসের শেষে অথবা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ক্যাফেটেরিয়া চালু করতে পারব। এছাড়া হলগুলোর ডাইনিং কার্যক্রম শিগগিরই চালু করতে হল প্রভোস্টদের সঙ্গে আলোচনা করব।”
এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, যার প্রতিকার খুব শিগগিরই হওয়া প্রয়োজন বলে অভিমত সংশ্লিষ্টরা।
শু/সবা