০২:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নারী টানাবাজ চক্র সক্রিয়

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালকে ঘিরে নারী টানাবাজ চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা গ্রাম থেকে আসা সহজ সরল রোগীদের টার্গেট করে লুফে নিচ্ছে টাকা, মোবাইল ও সোনার গহনা। । তিনি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকার মৃত মকবুল শেখের মেয়ে। এই নিয়ে গত ১ সপ্তাহে  হাসপাতালের বর্হিঃবিভাগ থেকে চক্রের দুই নারী সদস্যকে আটকের পর পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তারা হলেন  ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকার মৃত মকবুল শেখের মেয়ে শিউলী খাতুন (৪০) ও হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতেন গ্রামের সালাউদ্দিনের স্ত্রী শেফালী (৩৫)।
জানা গেছে, রোববার  শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের মীর আব্দুল লতিফের ছেলে মোশারফ হোসেন জেনারেল হাসপাতালের বর্হিঃবিভাগে ডাক্তার দেখাতে আসেন। এসময় রোগীর ভিড়ে নারী টানাবাজ শিউলী তার পকেট থেকে তিন হাজার ২২২ টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় আরেক রোগী তাকে হাতে নাতে ধরে ফেলেন। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট যশোর সদর উপজেলার আরবপুর গ্রামের আবু সিদ্দিকের মেয়ে  নাসিমা খাতুন জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে আসেন। এসময় টানাবাজ চক্রের সদস্য শেফালী  তার গলা থেকে সোনার চেইন ছিড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তার চিৎকারে অন্য রোগী ও স্বজনেরা শেফালীকে (৩০) আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

কিছুদিন আগে  চুড়ামনকাটি গ্রামের সুলতান মীরের স্ত্রী জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে আসেন। সহজ সরল দেখতে ওই নারীর সহজেই ফাঁদে ফেলেন নারী টানাবাজ চক্রের এক সদস্য। পূর্ব পরিচিত বলে তাকে ডাক্তার দেখানতে  সহায়তার নামে কানের দুল নিয়ে লাপাত্তা হয়।

সম্প্রতি হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে শাহনাজ নামে এক নারী হাউমাউ করে কাঁদছিলেন। তার সন্তানকে হাসপাতালের বর্হিঃবিভাগে ডাক্তার দেখানোর জন্য এসেছিলেন। তিনি জানালেন ভিড়ের মধ্যে রোগীর বেশে থাকা অজ্ঞাত এক নারী তার ব্যাগে থাকা সাড়ে ৩ হাজার টাকা ও একটি দামি মোবাইল ফোন নিয়ে চম্পট দিয়েছে।

সূত্র জানায়, জেনারেল হাসপাতালকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নারী টানাবাজ চক্র সক্রিয়। তারা হাসপাতালের বর্হিঃবিভাগে রোগীর সাথে মিশে গিয়ে ধান্দাবাজিতে লিপ্ত থাকেন। সহজ সরল নারীদের টার্গেট করে সোনার গহনা, মোবাইল, পার্টসের টাকা হাতিয়ে নেয়াটা তাদের মূল লক্ষ্য।

হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য সোহেল রানা জানান, গত কয়েক মাসে হাসপাতালে একাধিক রোগী টানাবাজ চক্রের কবলে পড়ে মোবাইল, টাকা ও সোনার গহনা খুইয়েছেন। ইতিমধ্যে চক্রের দুই সদস্য আটক হয়েছে। বর্হিঃবিভাগে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, হাসপাতালকে ঘিরে নারী টানাবাজ চক্রটি সক্রিয়। তারা সরল রোগীদের টার্গেট করে সোনার গহনা ও টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের কবল থেকে রক্ষা পেতে রোগীদের সচেতন হতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নারী টানাবাজ চক্র সক্রিয়

আপডেট সময় : ০২:৫৩:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালকে ঘিরে নারী টানাবাজ চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা গ্রাম থেকে আসা সহজ সরল রোগীদের টার্গেট করে লুফে নিচ্ছে টাকা, মোবাইল ও সোনার গহনা। । তিনি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকার মৃত মকবুল শেখের মেয়ে। এই নিয়ে গত ১ সপ্তাহে  হাসপাতালের বর্হিঃবিভাগ থেকে চক্রের দুই নারী সদস্যকে আটকের পর পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তারা হলেন  ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকার মৃত মকবুল শেখের মেয়ে শিউলী খাতুন (৪০) ও হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতেন গ্রামের সালাউদ্দিনের স্ত্রী শেফালী (৩৫)।
জানা গেছে, রোববার  শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের মীর আব্দুল লতিফের ছেলে মোশারফ হোসেন জেনারেল হাসপাতালের বর্হিঃবিভাগে ডাক্তার দেখাতে আসেন। এসময় রোগীর ভিড়ে নারী টানাবাজ শিউলী তার পকেট থেকে তিন হাজার ২২২ টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় আরেক রোগী তাকে হাতে নাতে ধরে ফেলেন। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট যশোর সদর উপজেলার আরবপুর গ্রামের আবু সিদ্দিকের মেয়ে  নাসিমা খাতুন জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে আসেন। এসময় টানাবাজ চক্রের সদস্য শেফালী  তার গলা থেকে সোনার চেইন ছিড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তার চিৎকারে অন্য রোগী ও স্বজনেরা শেফালীকে (৩০) আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

কিছুদিন আগে  চুড়ামনকাটি গ্রামের সুলতান মীরের স্ত্রী জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে আসেন। সহজ সরল দেখতে ওই নারীর সহজেই ফাঁদে ফেলেন নারী টানাবাজ চক্রের এক সদস্য। পূর্ব পরিচিত বলে তাকে ডাক্তার দেখানতে  সহায়তার নামে কানের দুল নিয়ে লাপাত্তা হয়।

সম্প্রতি হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে শাহনাজ নামে এক নারী হাউমাউ করে কাঁদছিলেন। তার সন্তানকে হাসপাতালের বর্হিঃবিভাগে ডাক্তার দেখানোর জন্য এসেছিলেন। তিনি জানালেন ভিড়ের মধ্যে রোগীর বেশে থাকা অজ্ঞাত এক নারী তার ব্যাগে থাকা সাড়ে ৩ হাজার টাকা ও একটি দামি মোবাইল ফোন নিয়ে চম্পট দিয়েছে।

সূত্র জানায়, জেনারেল হাসপাতালকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নারী টানাবাজ চক্র সক্রিয়। তারা হাসপাতালের বর্হিঃবিভাগে রোগীর সাথে মিশে গিয়ে ধান্দাবাজিতে লিপ্ত থাকেন। সহজ সরল নারীদের টার্গেট করে সোনার গহনা, মোবাইল, পার্টসের টাকা হাতিয়ে নেয়াটা তাদের মূল লক্ষ্য।

হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য সোহেল রানা জানান, গত কয়েক মাসে হাসপাতালে একাধিক রোগী টানাবাজ চক্রের কবলে পড়ে মোবাইল, টাকা ও সোনার গহনা খুইয়েছেন। ইতিমধ্যে চক্রের দুই সদস্য আটক হয়েছে। বর্হিঃবিভাগে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, হাসপাতালকে ঘিরে নারী টানাবাজ চক্রটি সক্রিয়। তারা সরল রোগীদের টার্গেট করে সোনার গহনা ও টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের কবল থেকে রক্ষা পেতে রোগীদের সচেতন হতে হবে।