বাংলাদেশ এখন আর শুধু মাদকের ভোক্তা নয়, বরং আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের নিরাপদ রুট হয়ে উঠছে। প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশের ভূ-খণ্ড ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার মাদক ঢুকছে দেশে এবং একই সঙ্গে বের হয়ে যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশি-বিদেশি মাদক পাচারকারীরা নিত্য নতুন কৌশলে মাদকের বড় বড় চালান আনা-নেওয়া করছে। দেশের সীমান্ত এলাকা দিয়ে এ দেশে গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিল আনা হলেও, দেশি-বিদেশি আরেকটি চক্র এখন বিমানবন্দর ও স্থল বন্দরগুলোকে ব্যবহার করে আসছে। চক্রের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এমনকি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিতে কুরিয়ার বা লাগেজের মাধ্যমে লুকিয়ে আফ্রিকার ভয়ঙ্কর মাদক কোকেন-কিটামিন মধ্যপ্রাচ্যের আইস নামক ভয়ংকর সব মাদক ঢুকানো হচ্ছে বাংলাদেশে। যাত্রীবেশে লাগেজের মধ্যে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে দিচ্ছে। এছাড়া সমুদ্র ও স্থলবন্দর দিয়ে বিদেশ থেকে আমদানি করা বৈধ পণ্যের আড়ালেও ভয়ঙ্কর মাদকের বড় বড় চালান দেশে আনা হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ কোটি টাকার মাদক বেচাকেনা হয়। সম্প্রতি ভয়ঙ্কর এসব মাদকের কয়েকটি চালান ধরার পর গোয়েন্দা প্রতিবেদনেও এসব তথ্য উঠে এসেছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে মাদক পাচারে আন্তর্জাতিক মাফিয়া সিন্ডিকেটের কবলে পড়ছে বাংলাদেশ। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার শিকার হতে পারে বাংলাদেশ। সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হকের মতে, বাংলাদেশ যদি আন্তর্জাতিক মাদক রুটে পরিণত হয়, তাহলে শুধু দেশ নয়, সারা বিশ্বে মাদকের প্রবাহ বাড়বে। এটি থামাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক সমন্বয়, এবং সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে হবে। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) মহাপরিচালক হাসান মাহমুদ বলছেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে মাদক ঠেকানো যাবে না। অভিভাবকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। সন্তানরা কার সঙ্গে মিশছে, কী করছে, অনলাইন বা বন্ধুদের সঙ্গে কী ধরনের সময় কাটাচ্ছে, এগুলো পর্যবেক্ষণ করাও জরুরি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে মাদক পাচারকারীরা এখন নতুন কৌশল নিয়েছে। দেশি-বিদেশি মাদক পাচারকারীরা নিত্য নতুন কৌশলে মাদকের বড় বড় চালান আনা-নেওয়া করছে। মাদক কারবারে জড়িত একটি চক্র প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে সীমান্ত দিয়ে গাঁজা ও ফেনসিডিল এবং বাংলাদেশকে টার্গেট করে মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যের বেশকিছু এলাকায় গড়ে ওঠা মাদকের কারখানা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে জল-স্থলপথে মাছ ধরার ট্রলার বা অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে লুকিয়ে এ দেশে মাদক আনছে। তবে আরেকটি চক্র যাত্রী বা আমদানিকারক সেজে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইয়াবা, আফ্রিকার ভয়ঙ্কর মাদক কোকেন-কিটামিন এবং মধ্যপ্রাচ্যের আইস বৈধ পণ্যের চালান, কুরিয়ার সার্ভিস এবং বিমানবন্দরের লাগেজের মধ্যে লুকিয়ে এমনকি আমদানিকৃত পণ্যের ভেতর লুকিয়ে সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে মাদকের বড় বড় চালান আনছে। আবার তা হাত বদল হয়ে যাত্রীবেশে লাগেজে লুকিয়ে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে দিচ্ছে। এসব মাদক সিন্ডিকেট চক্রের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও জড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে এখন তারা বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক নিরাপদ রুট বা ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানী ঢাকার সন্নিকটে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি বড় বড় ভয়ঙ্কর মাদকের চালান জব্দ করা হয়। এসব ঘটনায় জড়িতদের আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মাফিয়া সিন্ডিকেটের মাদকচক্র দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ রুট বা ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে আসছে বলে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য দিয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শুধু লাগেজ বা কুরিয়ারে নয়, আমদানিকৃত বৈধ পণ্যের কন্টেইনার, ফলের ঝুড়ি, প্রসাধনীর চালানসহ বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে বিশেষভাবে লুকিয়ে রেখে পাচার করা হচ্ছে ভয়ঙ্কর এসব মাদকদ্রব্য। বাংলাদেশে প্রবেশের পর তা ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বড় অভিযানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার মাদক বেচাকেনা হয়। এই টাকার উৎস, পাচার রুট, ব্যবস্থাপনা সবকিছুই এখন অনেক বেশি সুসংগঠিত। শুধু অভ্যন্তরীণ নয়, এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ও মাফিয়া সিন্ডিকেটের সদস্যরা সরাসরি যুক্ত রয়েছে।
ডিএনসি জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদে রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষ একটি দল। তখন পাচারের সময় সাড়ে ৬ কেজি ভয়ংকর মাদক ‘কিটামিন’ উদ্ধার করেছে সংস্থাটি। টাওয়ালের মধ্যে বিশেষ কৌশলে (Chemical Impregnation) পেঁচিয়ে এই মাদক পাঠানো হচ্ছিল ইতালিতে। ওই ঘটনায় মাসুদুর রহমান জিলানি (২৮) এবং আরিফুর রহমান খোকা (৪৩) নামে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক পাচারে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যে রীতিমতো হতভম্ব হয়ে যান অভিযানিক দল।
ওই ঘটনায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মহাপরিচালক হাসান মাহমুদ জানান, কিটামিন মূলত একটি অ্যানেস্থেটিক ওষুধ, যেটা একসময় গুরুতর অপারেশনের জন্য চিকিৎসায় ব্যবহার করা হতো। তবে এখন এটি একটি ‘পার্টি ড্রাগ’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন, শারীরিক জটিলতা এবং আসক্তির মতো ভয়ংকর প্রভাব দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি কিডনি ও মূত্রথলিতে ক্ষতি, মানসিক অসুস্থতা এবং মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরির পাশাপাশি মানবদেহে মারাত্নক ক্ষতিসাধন করছে বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, এই ধরনের চক্রে বিদেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরাও জড়িত। যদিও অনেক সময় গ্রেফতারকৃতরা প্রবাসী নন, তবে তারা বিদেশে থাকা পরিচিতদের মাধ্যমে চক্রের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছেন। এই মাদক পাচারকারীরা ঢাকায় স্থায়ীভাবে থাকে না। তারা মাদক সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করে এবং কুরিয়ারে বুকিং দিয়ে চলে যায়। চক্রের মূল পরিকল্পনা হয় দেশের বাইরে থেকে।
গোয়েন্দা তথ্য বলছে, কিটামিন-কোকেন ছাড়াও প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মাদক দেশে প্রবেশ করছে। ভারত, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, এমনকি মধ্যপ্রাচ্য থেকেও এইসব মাদক বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। একই সঙ্গে তা হাত বদল হয়ে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশেও পাঠানো হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমদানিকার ও যাত্রীবেশে নিজেদের লাগেজে বিশেষভাকে লুুিকয়ে এমনকি পণ্যের কন্টেইনারে বা কুরিয়ারের মাধ্যমে পৌূঁছে দেওয়া হচ্ছে মাদকের এসব চালান।

এর আগে চলতি বছরের গত ২৬ আগস্ট হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আফ্রিকার ভয়ঙ্কর মাদক কোকেনের সবচেয়ে বড় চালান জব্দ করা হয়। আফ্রিকার দেশ গায়ানার নাগরিক এমএস পেটুলা স্টাফেল এর লাগেজ থেকে উদ্ধার করা হয় ১৩০ কোটি টাকার কোকেন, যার পরিমাণ ছিল সাড়ে ৮ কেজির বেশি। এই কোকেন চালানকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চালান হিসেবে আখ্যা দিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।
ডিএনসি ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে এবং টঙ্গীতে জব্দ করা মাদকের বড় দুটি চালানের ঘটনা একসাথে প্রমাণ করে, বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক মাদক ও মাফিয়া সিন্ডিকেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মাদকের এসব ভয়ঙ্কর চালান চিহ্নিত করতে না পারলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মাদক প্রবাহ ঠেকানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে। এই প্রবণতা শুধু দেশীয় নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক মাদক পরিস্থিতিকেও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। নইলে, বাংলাদেশ হয়ে উঠবে ‘সাউথ এশিয়ার নতুন মাদক হাব’, যেখান থেকে মাদকের ছায়া ছড়িয়ে পড়বে সারাবিশ্বে। এ জন্য এখনই কঠোর পদক্ষেপ, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ও আন্তর্জাতিক সমন্বয় জরুরি।
বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, চলতি বছরের গত আগস্ট মাসে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার-ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিজিবি’র বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন কর্তৃক চলমান অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- ১২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৯৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪ কেজি ৬০১ গ্রাম হেরোইন, ৭ হাজার ৮৮৮ বোতল ফেনসিডিল, ৯ হাজার ৫২৫ বোতল বিদেশী মদ, ১৬৭ লিটার বাংলা মদ, ৫৭৭ ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ৫৪৮ কেজি গাঁজা, ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৯৮ প্যাকেট বিড়ি ও সিগারেট, ২০২ কেজি তামাক পাতা, ২০ বোতল এলএসডি, ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭১৫টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট/ইনজেকশন, ৪ হাজার ১৪৫ বোতল ইস্কাফ সিরাপ, ২০ হাজার ৭২০টি এ্যানেগ্রা/সেনেগ্রা ট্যাবলেট এবং ১৮ লাখ ৭ হাজার ৪৯০টি বিভিন্ন প্রকার ঔষধ ও অন্যান্য ট্যাবলেট। সীমান্তসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান বিজিবি’র এই কর্মকর্তা।
এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটগুলো এখন বাংলাদেশকে ‘নিরাপদ রুট’ ভাবছে। কেননা, সীমান্ত পাহারা দুর্বল, আধুনিক প্রযুক্তি নেই, আবার পণ্য চলাচলের উপর নজরদারিও সীমিত। বাংলাদেশ যদি আন্তর্জাতিক নিরাপদ মাদক রুটে পরিণত হয়, তাহলে শুধু দেশ নয়, সারা বিশ্বে মাদকের প্রবাহ বাড়বে। এই রুট ব্যবহার করে ভয়ংকর সব মাদক পৌঁছে যাবে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকায়। একে থামাতে না পারলে, দেশের অভ্যন্তরীন ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক সমন্বয়, এবং সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে হবে। না হলে বাংলাদেশ একসময় আন্তর্জাতিক অপরাধীদের ‘সেফ জোন’ হয়ে উঠবে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) মহাপরিচালক (ডিজি) হাসান মাহমুদ বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে মাদক ঠেকানো যাবে না। অভিভাবকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। সন্তানরা কার সঙ্গে মিশছে, কী করছে, অনলাইন বা বন্ধুদের সঙ্গে কী ধরনের সময় কাটাচ্ছে, এগুলো পর্যবেক্ষণ করাও জরুরি। সমন্বিত উদ্যোগই সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে।
এমআর/সবা


























