০২:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আমন চাষ

চলতি মৌসুমে দিনাজপুরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে
অতিরিক্ত ৫ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। ফলে এবার ৯
লাখ টন আমন ধান বেশি উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি অফিস জানায়, আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮
লাখ ৭৪ হাজার ৯৫১ টন। এরমধ্যে উপশী জাত প্রতি হেক্টরে ৩ দশমিক ৩৩
টন, স্থানীয় জাতের ১ দশমিক ৯৬ টন ও হাইব্রিড ৪ দশমিক ০১ টন চাল
উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। অতিরিক্ত আমন চাষ হওয়ায় ৯ লাখ টন
চাল উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি মৌসুমে প্রথম পর্যায়ে বৃষ্টিপাত তুলনামূলক কম হয়েছিল।
কিন্তু আগস্ট মাসের শুরু থেকেই বৃষ্টিপাত হওয়ায় আমন চাষের উপযোগী
হয়েছে। ফলে কৃষকেরা উঁচু জমিগুলোতে আমন চাষ করতে সক্ষম
হয়েছেন।
প্রত্যেক উপজেলায় উপশী জাতের আমন ধান অতিরিক্ত ৫ হাজার ৫০ হেক্টর
জমিতে চাষ হয়েছে। জেলায় চলতি মৌসুমে রোপা আমন চাষ সফল করতে
১১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছিল। ফলে অতিরিক্ত
আমন ধান চাষে বীজের সংকট হয়নি।
অধিক আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত করার লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্ততি রেখে
কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। এ জন্য বিএডিসি
বিভাগ পর্যাপ্ত পরিমাণ কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী রাসায়নিক সার
তাদের গুদামে আগাম মজুত রাখা হয়েছিল বলে দিনাজপুর কৃষি অফিস
জানিয়েছে।
কৃষকেরা বলছেন, রোপা আমন চাষে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা
হয়নি। এবার মৌসুমে গত ৬ জুলাই থেকে ১৫ আগষ্ট পর্যন্ত জেলায়
আমন ধানের চারা রোপণ নির্বিঘ্নে করা গেছে।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আফজাল
হোসেন বলেন, এবারে আমন মৌসুমে ২ লাখ ৬০ হাজার ৮৬০ হেক্টর

জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে উপশী
জাতের ধান ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৩০ হেক্টর, স্থানীয় জাত ৯৯০ হেক্টর ও
হাইব্রিড ১১ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু
এবারে অনুকূল আবহাওয়া ও আমন চাষে সঠিক সময়ে বৃষ্টির পানি
সমস্যা না থাকায় এবং কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় কৃষকেরা
অতিরিক্ত ৫ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন।
তিনি জানান,
কৃষি কর্মকর্তা আফজাল হোসেন জানান, রোপা আমন চাষের জন্য
উপজেলা ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। দিনাজপুর সদর
উপজেলায় ২২ হাজার ১৯০ হেক্টর, বিরলে ২১ হাজার ৫০০ হেক্টর, বোচাগঞ্জে
১৬ হাজার ৬০০ হেক্টর, কাহারোলে ১৩ হাজার ৭০০ হেক্টর, বীরগঞ্জে ২৩ হাজার
৩৫০ হেক্টর, খানসামায় ১৩ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ
নির্ধারণ করা হয়।
এছাড়া চিরিরবন্দর উপজেলায় ২৪ হাজার ৪০০ হেক্টর, পার্বতীপুরে ২২
হাজার ৭৫০ হেক্টর, ফুলবাড়ীতে ২৪ হাজার ৫৫০ হেক্টর, বিরামপুরে ২৪ হাজার
৫৫০ হেক্টর, নবাবগঞ্জে ২৪ হাজার ৪৬০ হেক্টর, হাকিমপুরে ১২ হাজার ২৬০
হেক্টর ও ঘোড়াঘাটে ১৭ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ নির্ধারণ
করা হয়েছিল।
গত বছর জেলায় ২ লাখ ৬০ হাজার ৮৫৬ হেক্টর জমিতে আমন চাষ লক্ষ্যমাত্রা
অর্জিত হয়েছিল। অর্জিত ধান থেকে ফলন উৎপাদন হয়েছিল ৮ লাখ ৭৩
হাজার ৪৬০ মেট্রিক টন চাল।
জেলায় এবার আগাম জাতের আমন ধান বেশি রোপণ করা হয়েছে।
কৃষকরা বাম্পার ফলনের আশায় আমন ধানের জমিতে পরিচর্যায় ব্যস্ত
সময় পার করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

দিনাজপুরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আমন চাষ

আপডেট সময় : ০৩:২৮:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চলতি মৌসুমে দিনাজপুরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে
অতিরিক্ত ৫ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। ফলে এবার ৯
লাখ টন আমন ধান বেশি উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি অফিস জানায়, আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮
লাখ ৭৪ হাজার ৯৫১ টন। এরমধ্যে উপশী জাত প্রতি হেক্টরে ৩ দশমিক ৩৩
টন, স্থানীয় জাতের ১ দশমিক ৯৬ টন ও হাইব্রিড ৪ দশমিক ০১ টন চাল
উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। অতিরিক্ত আমন চাষ হওয়ায় ৯ লাখ টন
চাল উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি মৌসুমে প্রথম পর্যায়ে বৃষ্টিপাত তুলনামূলক কম হয়েছিল।
কিন্তু আগস্ট মাসের শুরু থেকেই বৃষ্টিপাত হওয়ায় আমন চাষের উপযোগী
হয়েছে। ফলে কৃষকেরা উঁচু জমিগুলোতে আমন চাষ করতে সক্ষম
হয়েছেন।
প্রত্যেক উপজেলায় উপশী জাতের আমন ধান অতিরিক্ত ৫ হাজার ৫০ হেক্টর
জমিতে চাষ হয়েছে। জেলায় চলতি মৌসুমে রোপা আমন চাষ সফল করতে
১১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছিল। ফলে অতিরিক্ত
আমন ধান চাষে বীজের সংকট হয়নি।
অধিক আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত করার লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্ততি রেখে
কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। এ জন্য বিএডিসি
বিভাগ পর্যাপ্ত পরিমাণ কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী রাসায়নিক সার
তাদের গুদামে আগাম মজুত রাখা হয়েছিল বলে দিনাজপুর কৃষি অফিস
জানিয়েছে।
কৃষকেরা বলছেন, রোপা আমন চাষে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা
হয়নি। এবার মৌসুমে গত ৬ জুলাই থেকে ১৫ আগষ্ট পর্যন্ত জেলায়
আমন ধানের চারা রোপণ নির্বিঘ্নে করা গেছে।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আফজাল
হোসেন বলেন, এবারে আমন মৌসুমে ২ লাখ ৬০ হাজার ৮৬০ হেক্টর

জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে উপশী
জাতের ধান ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৩০ হেক্টর, স্থানীয় জাত ৯৯০ হেক্টর ও
হাইব্রিড ১১ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু
এবারে অনুকূল আবহাওয়া ও আমন চাষে সঠিক সময়ে বৃষ্টির পানি
সমস্যা না থাকায় এবং কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় কৃষকেরা
অতিরিক্ত ৫ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন।
তিনি জানান,
কৃষি কর্মকর্তা আফজাল হোসেন জানান, রোপা আমন চাষের জন্য
উপজেলা ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। দিনাজপুর সদর
উপজেলায় ২২ হাজার ১৯০ হেক্টর, বিরলে ২১ হাজার ৫০০ হেক্টর, বোচাগঞ্জে
১৬ হাজার ৬০০ হেক্টর, কাহারোলে ১৩ হাজার ৭০০ হেক্টর, বীরগঞ্জে ২৩ হাজার
৩৫০ হেক্টর, খানসামায় ১৩ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ
নির্ধারণ করা হয়।
এছাড়া চিরিরবন্দর উপজেলায় ২৪ হাজার ৪০০ হেক্টর, পার্বতীপুরে ২২
হাজার ৭৫০ হেক্টর, ফুলবাড়ীতে ২৪ হাজার ৫৫০ হেক্টর, বিরামপুরে ২৪ হাজার
৫৫০ হেক্টর, নবাবগঞ্জে ২৪ হাজার ৪৬০ হেক্টর, হাকিমপুরে ১২ হাজার ২৬০
হেক্টর ও ঘোড়াঘাটে ১৭ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ নির্ধারণ
করা হয়েছিল।
গত বছর জেলায় ২ লাখ ৬০ হাজার ৮৫৬ হেক্টর জমিতে আমন চাষ লক্ষ্যমাত্রা
অর্জিত হয়েছিল। অর্জিত ধান থেকে ফলন উৎপাদন হয়েছিল ৮ লাখ ৭৩
হাজার ৪৬০ মেট্রিক টন চাল।
জেলায় এবার আগাম জাতের আমন ধান বেশি রোপণ করা হয়েছে।
কৃষকরা বাম্পার ফলনের আশায় আমন ধানের জমিতে পরিচর্যায় ব্যস্ত
সময় পার করছেন।