কাপ্তাই বাঁধ থেকে হঠাৎ করে পানি ছেড়ে দেওয়ায় নদীতে প্রবল স্রোত সৃষ্টি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জোয়ারের প্রভাব। ফলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফেরী চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে নদীর দুই পাড়ে আটকা পড়েছেন অসংখ্য যাত্রী ও যানবাহন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেরীঘাটে সকাল থেকে দীর্ঘ লাইন ধরে অপেক্ষা করছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। জরুরি প্রয়োজনে অনেকেই নদী পার হওয়ার চেষ্টা করছেন সাম্পান দিয়ে। কিন্তু স্রোতের কারণে ঝুঁকি যেমন বেড়েছে, তেমনি সাম্পান চালকরা নিচ্ছেন দ্বিগুণ ভাড়া। সাধারণ যাত্রীদের পকেট থেকে অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হচ্ছে।
যাত্রীরা অভিযোগ করেন, প্রতিবারই বৃষ্টি ও জোয়ার-ভাটার মৌসুমে ফেরী চলাচল ব্যাহত হয়। এতে তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও অসুস্থ রোগী পরিবহনে সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দেয়। অনেকে সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেন না, কেউ কেউ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে বিলম্বিত হন।
অন্যদিকে ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এতে পণ্য পরিবহনেও সৃষ্টি হচ্ছে জটিলতা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফেরীঘাট নির্ভর এ অঞ্চলে প্রতিবার এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় যাত্রীরা দাবি জানিয়েছেন দ্রুত স্থায়ী সমাধানের। তাদের মতে, ফেরীঘাটে দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তি নিরসনে একমাত্র সমাধান হচ্ছে ব্রীজ নির্মাণ। বহুদিন ধরেই স্থানীয়রা এই দাবি জানিয়ে আসছেন, কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি।
জনস্বার্থে স্থানীয়রা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ব্রীজ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এমআর/সবা






















