০১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
(পর্ব-১) আনসার ও ভিডিপি

নানা জটিলতায় উপজেলা কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা

দেশের উপজেলা পর্যায়ের প্রায় সকল দপ্তরের দপ্তর প্রধান হিসেবে ৯ম গ্রেড বা তদোর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তা কর্মরত থাকলেও ব্যতিক্রম রয়ে গেছে আনসার ও ভিডিপি অধিদপ্তরে। এই অধিদপ্তরের উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা এখনো ১০ম গ্রেডেই রয়ে গেছেন। অথচ উপজেলা পর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা কমিটি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেয়া প্রতিটি দপ্তরের প্রধানগণ ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা। মাঠপর্যায়ে আনসার ও ভিডিপি উপজেলা কার্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে পদের ‘আপগ্রেডেশন’ বা পদমর্যাদা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা এখনও ফাইলবন্দী। এমন পরিস্থিতিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বাহিনীটিতে ভেঙে পড়ছে চেইন অব কমান্ড। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদমর্যাদার বিষয়টি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব পালনে প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে। তারা বলছেন, গত এক বছর ধরে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি’র পদমর্যাদার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। এটা মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। তবে এসব বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কেউই মুখ খুলতে রাজি হচ্ছেন না।
পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) তথ্য অনুযায়ি, আনসারের বিদ্যমান সাংগঠনিক কাঠামোতে ১৮৯টি সহকারী পরিচালক বা সমমান পদ রয়েছে যার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৬৩টি পদে ৮১৯টি উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা বা সমমান পদ হতে পূরণ করতে হবে। এই ৬৩টি পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। বাকি উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তারা পদোন্নতি ছাড়াই বাকি চাকরি জীবন শেষ করে অবসরে চলে যান। ৬৩টি পদে ‘শূন্য’ সাপেক্ষে উপজেলার আনসার ভিডিপি কর্মকর্তারা পদোন্নতি পেয়ে থাকেন।
অন্যদিকে, উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা বা সমমান পদের কর্মকর্তারা প্রেষণে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে উপ-সহকারী পরিচালক পদে যুক্ত হন। অথচ অন্যান্য বাহিনী থেকে আগত সকল সহকারী পরিচালকগণ ৯ম গ্রেডের হওয়ায় মাঠপর্যায়ের সমন্বয় সাধনে জটিলতা সৃষ্টি হয়। আবার উপ-সহকারী পরিচালকের অধীনে সাব-ইন্সপেক্টর বা সমমান পর্যায়ের ১০ গ্রেডের হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ভেঙে পড়ছে চেইন অব কমান্ড।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১০ সালে পুলিশের ইন্সপেক্টর পদ এবং আনসারের থানা/উপজেলা পদের আপগ্রেডেশন প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রস্তাবনা অনুযায়ি এই দুই বাহিনীর দুইটি পদকে দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করার বিষয়ে বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালে পুলিশের ইন্সপেক্টর পদ দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে প্রথম শ্রেণী (পরবর্তীতে ৯ম গ্রেড) এবং সাব-ইন্সপেক্টর পদ তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে (পরবর্তীতে ১২তম গ্রেড) উন্নীত করা হয়। উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাদের পদের আপগ্রেডশন করা হয়নি। এ নিয়ে উপজেলার আনসার ভিডিপি কর্মকর্তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাদের পদের আপগ্রেডশনের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টাও যাচাই-বাছাই করে তাদের যৌক্তিক দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা কাজ শুরু করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, পদমর্যাদা নিয়ে বাহিনীর ভেতর কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এর ফলে বাহিনীটিতে ভেঙে পড়ছে চেইন অব কমান্ড। নির্বাচনের আগে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বিবেচনায় ১০ম গ্রেড থেকে ৯ম গ্রেডে উন্নীতকরণ করা না হলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে এর প্রভাবও পড়তে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা আনসার ও ভিডিপি’র একাধিক কর্মকর্তা বলেন, আমরা বঞ্চিতরা আমাদের দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনসার শাখায় স্মারকলিপি দিয়েছি। এর মধ্যে ২০২৩ সালে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা ১০ম গ্রেড হতে ৯ম গ্রেডে (নন-ক্যাডার) উন্নীত হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে ওই বছরের ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি’র (বিএভি) সদর দপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) জাহানারা আক্তার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে একটি স্মারকপত্র পাঠান।
ওই স্মারকপত্রে বলা হয়, বাহিনীর ১০ম গ্রেডের প্রাধিকৃত ৮১৯টি সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট/ উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা/সহকারী অ্যাডজুট্যান্ট পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত অনেকের বেতনস্কেল ইতোমধ্যে ৯ম গ্রেড (নন-ক্যাডার) এর বেতন স্কেলের নিম্নধাপ অতিক্রম করেছে এবং যাদের বেতন ৯ম গ্রেড (নন-ক্যাডার) অতিক্রম করেনি, তাদের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে সরকারের বার্ষিক অতিরিক্ত ৫ কোটি ২২ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে। এমতাবস্থায়, সূত্রপত্র ‘ঘ’ মূলে প্রেরিত প্রস্তাবটি বাতিলপূর্বক অত্র বাহিনীর সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট/ উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা/সহকারী অ্যাডজুট্যান্ট পদকে ১০ম গ্রেড হতে ৯ম গ্রেডে উন্নীতকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে প্রেরণ করা হলো।
এরপর ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনসার শাখায় অতিরিক্ত সচিবের (আনসার ও সীমান্ত অনুবিভাগ) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো- আনসার ও ভিডিপিতে ১০ম গ্রেডের সার্কেল অ্যাডজুটেন্ট/উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা/সহকারী অ্যাডজুটেন্ট পদটি ৯ম গ্রেডে উন্নীতকরণের ক্ষেত্রে আনসার ক্যাডার বর্হিভূত নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা ২০১০ (সংশোধিত) নিয়োগ বিধিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে সে অনুযায়ি বিধিমালা সংশোধন প্রস্তাব প্রেরণ করতে হবে।
এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের আনসার শাখা-১ এর দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাদের পদের আপগ্রেডেশনের বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো অগ্রগতি নেই। গত এক বছর ধরে কেন ফাইলবন্দী হয়ে আছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। এরপর বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলনে নামে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি। গত বছরের ২৫ আগস্ট বাহিনীর একদল উচ্ছৃঙ্খল সদস্য সচিবালয়ে হামলা ভাঙচুর চালায়। তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা বাধা দিতে গেলে সচিবালয় এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সেনাবাহিনী পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে আনসার ও ভিডিপি’র সদস্যদের হামলায় কয়েকজন সেনা সদস্যও আহত হন। তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে সরকার। পরবর্তীতে আনসার সদস্যরা দাবিসম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করে। ওই ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের আনসার শাখা-২ এর অধীনে এবং বাহিনীর সদর দপ্তরে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত তদন্ত কমিটিও আনসারদের আন্দোলনে বহিরাগতদের উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্র সংসদে ভোটের ফল জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: মির্জা ফখরুল

(পর্ব-১) আনসার ও ভিডিপি

নানা জটিলতায় উপজেলা কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা

আপডেট সময় : ০৬:৪৪:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দেশের উপজেলা পর্যায়ের প্রায় সকল দপ্তরের দপ্তর প্রধান হিসেবে ৯ম গ্রেড বা তদোর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তা কর্মরত থাকলেও ব্যতিক্রম রয়ে গেছে আনসার ও ভিডিপি অধিদপ্তরে। এই অধিদপ্তরের উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা এখনো ১০ম গ্রেডেই রয়ে গেছেন। অথচ উপজেলা পর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা কমিটি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেয়া প্রতিটি দপ্তরের প্রধানগণ ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা। মাঠপর্যায়ে আনসার ও ভিডিপি উপজেলা কার্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে পদের ‘আপগ্রেডেশন’ বা পদমর্যাদা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা এখনও ফাইলবন্দী। এমন পরিস্থিতিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বাহিনীটিতে ভেঙে পড়ছে চেইন অব কমান্ড। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদমর্যাদার বিষয়টি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব পালনে প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে। তারা বলছেন, গত এক বছর ধরে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি’র পদমর্যাদার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। এটা মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। তবে এসব বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কেউই মুখ খুলতে রাজি হচ্ছেন না।
পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) তথ্য অনুযায়ি, আনসারের বিদ্যমান সাংগঠনিক কাঠামোতে ১৮৯টি সহকারী পরিচালক বা সমমান পদ রয়েছে যার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৬৩টি পদে ৮১৯টি উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা বা সমমান পদ হতে পূরণ করতে হবে। এই ৬৩টি পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। বাকি উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তারা পদোন্নতি ছাড়াই বাকি চাকরি জীবন শেষ করে অবসরে চলে যান। ৬৩টি পদে ‘শূন্য’ সাপেক্ষে উপজেলার আনসার ভিডিপি কর্মকর্তারা পদোন্নতি পেয়ে থাকেন।
অন্যদিকে, উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা বা সমমান পদের কর্মকর্তারা প্রেষণে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে উপ-সহকারী পরিচালক পদে যুক্ত হন। অথচ অন্যান্য বাহিনী থেকে আগত সকল সহকারী পরিচালকগণ ৯ম গ্রেডের হওয়ায় মাঠপর্যায়ের সমন্বয় সাধনে জটিলতা সৃষ্টি হয়। আবার উপ-সহকারী পরিচালকের অধীনে সাব-ইন্সপেক্টর বা সমমান পর্যায়ের ১০ গ্রেডের হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ভেঙে পড়ছে চেইন অব কমান্ড।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১০ সালে পুলিশের ইন্সপেক্টর পদ এবং আনসারের থানা/উপজেলা পদের আপগ্রেডেশন প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রস্তাবনা অনুযায়ি এই দুই বাহিনীর দুইটি পদকে দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করার বিষয়ে বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালে পুলিশের ইন্সপেক্টর পদ দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে প্রথম শ্রেণী (পরবর্তীতে ৯ম গ্রেড) এবং সাব-ইন্সপেক্টর পদ তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে (পরবর্তীতে ১২তম গ্রেড) উন্নীত করা হয়। উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাদের পদের আপগ্রেডশন করা হয়নি। এ নিয়ে উপজেলার আনসার ভিডিপি কর্মকর্তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাদের পদের আপগ্রেডশনের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টাও যাচাই-বাছাই করে তাদের যৌক্তিক দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা কাজ শুরু করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, পদমর্যাদা নিয়ে বাহিনীর ভেতর কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এর ফলে বাহিনীটিতে ভেঙে পড়ছে চেইন অব কমান্ড। নির্বাচনের আগে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বিবেচনায় ১০ম গ্রেড থেকে ৯ম গ্রেডে উন্নীতকরণ করা না হলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে এর প্রভাবও পড়তে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা আনসার ও ভিডিপি’র একাধিক কর্মকর্তা বলেন, আমরা বঞ্চিতরা আমাদের দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনসার শাখায় স্মারকলিপি দিয়েছি। এর মধ্যে ২০২৩ সালে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা ১০ম গ্রেড হতে ৯ম গ্রেডে (নন-ক্যাডার) উন্নীত হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে ওই বছরের ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি’র (বিএভি) সদর দপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) জাহানারা আক্তার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে একটি স্মারকপত্র পাঠান।
ওই স্মারকপত্রে বলা হয়, বাহিনীর ১০ম গ্রেডের প্রাধিকৃত ৮১৯টি সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট/ উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা/সহকারী অ্যাডজুট্যান্ট পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত অনেকের বেতনস্কেল ইতোমধ্যে ৯ম গ্রেড (নন-ক্যাডার) এর বেতন স্কেলের নিম্নধাপ অতিক্রম করেছে এবং যাদের বেতন ৯ম গ্রেড (নন-ক্যাডার) অতিক্রম করেনি, তাদের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে সরকারের বার্ষিক অতিরিক্ত ৫ কোটি ২২ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে। এমতাবস্থায়, সূত্রপত্র ‘ঘ’ মূলে প্রেরিত প্রস্তাবটি বাতিলপূর্বক অত্র বাহিনীর সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট/ উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা/সহকারী অ্যাডজুট্যান্ট পদকে ১০ম গ্রেড হতে ৯ম গ্রেডে উন্নীতকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে প্রেরণ করা হলো।
এরপর ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনসার শাখায় অতিরিক্ত সচিবের (আনসার ও সীমান্ত অনুবিভাগ) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো- আনসার ও ভিডিপিতে ১০ম গ্রেডের সার্কেল অ্যাডজুটেন্ট/উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা/সহকারী অ্যাডজুটেন্ট পদটি ৯ম গ্রেডে উন্নীতকরণের ক্ষেত্রে আনসার ক্যাডার বর্হিভূত নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা ২০১০ (সংশোধিত) নিয়োগ বিধিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে সে অনুযায়ি বিধিমালা সংশোধন প্রস্তাব প্রেরণ করতে হবে।
এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের আনসার শাখা-১ এর দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাদের পদের আপগ্রেডেশনের বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো অগ্রগতি নেই। গত এক বছর ধরে কেন ফাইলবন্দী হয়ে আছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। এরপর বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলনে নামে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি। গত বছরের ২৫ আগস্ট বাহিনীর একদল উচ্ছৃঙ্খল সদস্য সচিবালয়ে হামলা ভাঙচুর চালায়। তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা বাধা দিতে গেলে সচিবালয় এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সেনাবাহিনী পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে আনসার ও ভিডিপি’র সদস্যদের হামলায় কয়েকজন সেনা সদস্যও আহত হন। তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে সরকার। পরবর্তীতে আনসার সদস্যরা দাবিসম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করে। ওই ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের আনসার শাখা-২ এর অধীনে এবং বাহিনীর সদর দপ্তরে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত তদন্ত কমিটিও আনসারদের আন্দোলনে বহিরাগতদের উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করে।