০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সৈকতে বালিয়াড়ি দখল করে শতাধিক দোকান নির্মাণ

৩ দিনের মধ্যে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ টুরিস্ট পুলিশের

কক্সবাজারের সমুদ্রেরের বালিয়াড়ি দখল করে দোকান নির্মাণ সরিয়ে নিতে ৩দিন সময় দিয়ে উচ্ছেদ না করে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজিম খান ও কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান টিম।

২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে সমুদ্র বালিয়াড়িে রাতারাতি গডে ওঠা অস্থায়ী বা সমান দোকান পরিদর্শন শেষে কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সৌন্দর্য রক্ষার্থে বালিয়াড়ির সকল দোকান উচ্ছেদ করা হবে। আমরা দোকান নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনদের সাথে কথা বলেছি তাদেরকে তিন দিনের সময় দিয়েছি তিন দিনের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে না নিলে আমরা এই সকল স্থাপনা উচ্ছেদ করতে বাধ্য হব।

 

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ধ্বংস করে একের পর এক নতুন দোকান ও হকার বসছে বালিয়াড়ির বুকে। কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্টে রাতারাতি শতাধিক দোকান ও হকারের ভিড় তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবি ও ভিডিওতে ইতোমধ্যে জনমনে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। জেলা প্রশাসকের বদলির পর এ কার্যক্রম আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

স্থানীয়রা বলছেন, এই দখল ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন আলোচিত দুই ব্যক্তি। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, পতিতাবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ দোকান নির্মাণ থেকে শুরু করে নানা অপরাধের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মামলা ও কারাভোগের ইতিহাস থাকলেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ফের সক্রিয় হয়েছেন তারা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সম্প্রতি তারা নতুন করে ৭৪টি কার্ড কিনেছেন এবং রাতের আঁধারে অন্তত ৩৪টি দোকান বসানোর চেষ্টা চলছে। বালিয়াড়ি দখল, হকারদের কাছ থেকে দৈনিক চাঁদাবাজি, কটেজ জোনে মাসোহারা আদায়, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ- সবকিছুই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলছে প্রকাশ্যে।

সুগন্ধা ঝিনুক মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জয়নাল উদ্দিন বলেন, প্রশাসন থেকে টাকা নিয়ে যেসব বৈধ কার্ড নিয়েছেন তাদের গুলো যাচাই-বাছাই করে আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিব। আমাদের সাথে প্রশাসনের সাথে কথা হয়েছে।

অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিন্ডিকেটের দাপটে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। প্রতিবাদ করলে হুমকি আসে। আর রাজনৈতিক শো-ডাউনে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটান।

এ ব্যাপারে পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজিম খান বলেন, আমরা সরজমিন পরিদর্শন করে মাইকে ঘোষণা দিয়েছি বালিয়াড়ির স্থাপনা সরিয়ে নিতে। তাদের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা হয়েছে। ৩ দিনের মধ্যে তারা দোকান সরিয়ে নেবে অন্যতায় আমরা উচ্ছেদ করবো।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ আরো বলেন, বীচ দখল করে দোকান বসানো কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা করা পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদান কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশ অঙ্গীকার বন্ধ।

এদিকে পরিবেশবিদেরা বলছেন, সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে দোকান বসানো সরাসরি পরিবেশ আইন ভঙ্গ। এতে সৈকতের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন- প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন নিষ্ক্রিয় কেন?

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ডাকাতি মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

সৈকতে বালিয়াড়ি দখল করে শতাধিক দোকান নির্মাণ

আপডেট সময় : ০৫:৪৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের সমুদ্রেরের বালিয়াড়ি দখল করে দোকান নির্মাণ সরিয়ে নিতে ৩দিন সময় দিয়ে উচ্ছেদ না করে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজিম খান ও কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান টিম।

২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে সমুদ্র বালিয়াড়িে রাতারাতি গডে ওঠা অস্থায়ী বা সমান দোকান পরিদর্শন শেষে কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সৌন্দর্য রক্ষার্থে বালিয়াড়ির সকল দোকান উচ্ছেদ করা হবে। আমরা দোকান নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনদের সাথে কথা বলেছি তাদেরকে তিন দিনের সময় দিয়েছি তিন দিনের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে না নিলে আমরা এই সকল স্থাপনা উচ্ছেদ করতে বাধ্য হব।

 

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ধ্বংস করে একের পর এক নতুন দোকান ও হকার বসছে বালিয়াড়ির বুকে। কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্টে রাতারাতি শতাধিক দোকান ও হকারের ভিড় তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবি ও ভিডিওতে ইতোমধ্যে জনমনে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। জেলা প্রশাসকের বদলির পর এ কার্যক্রম আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

স্থানীয়রা বলছেন, এই দখল ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন আলোচিত দুই ব্যক্তি। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, পতিতাবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ দোকান নির্মাণ থেকে শুরু করে নানা অপরাধের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মামলা ও কারাভোগের ইতিহাস থাকলেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ফের সক্রিয় হয়েছেন তারা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সম্প্রতি তারা নতুন করে ৭৪টি কার্ড কিনেছেন এবং রাতের আঁধারে অন্তত ৩৪টি দোকান বসানোর চেষ্টা চলছে। বালিয়াড়ি দখল, হকারদের কাছ থেকে দৈনিক চাঁদাবাজি, কটেজ জোনে মাসোহারা আদায়, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ- সবকিছুই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলছে প্রকাশ্যে।

সুগন্ধা ঝিনুক মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জয়নাল উদ্দিন বলেন, প্রশাসন থেকে টাকা নিয়ে যেসব বৈধ কার্ড নিয়েছেন তাদের গুলো যাচাই-বাছাই করে আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিব। আমাদের সাথে প্রশাসনের সাথে কথা হয়েছে।

অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিন্ডিকেটের দাপটে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। প্রতিবাদ করলে হুমকি আসে। আর রাজনৈতিক শো-ডাউনে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটান।

এ ব্যাপারে পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজিম খান বলেন, আমরা সরজমিন পরিদর্শন করে মাইকে ঘোষণা দিয়েছি বালিয়াড়ির স্থাপনা সরিয়ে নিতে। তাদের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা হয়েছে। ৩ দিনের মধ্যে তারা দোকান সরিয়ে নেবে অন্যতায় আমরা উচ্ছেদ করবো।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ আরো বলেন, বীচ দখল করে দোকান বসানো কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা করা পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদান কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশ অঙ্গীকার বন্ধ।

এদিকে পরিবেশবিদেরা বলছেন, সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে দোকান বসানো সরাসরি পরিবেশ আইন ভঙ্গ। এতে সৈকতের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন- প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন নিষ্ক্রিয় কেন?

এমআর/সবা