লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার দুর্গম চর-আবদুল্ল্যায় প্রায় ১২ হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রায় ২২ বর্গকিলোমিটারের এই চরে বসবাসকারীদের বেশিরভাগই জেলে ও কৃষিজীবী। নদীভাঙন, যোগাযোগ ব্যবস্থা সংকট, স্বাস্থ্যসেবার অভাব আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের নিত্যসঙ্গী। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবিকার নিশ্চয়তা না থাকায় দিন দিন জীবনযাপন হয়ে উঠছে আরও ঝুঁকিপূর্ণ।
পঞ্চাশের দশকে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া চরটি প্রায় ৩০ বছর পর পলি জমে আবার জেগে ওঠে। বর্তমানে এ চরে কয়েকটি গ্রাম থাকলেও ভাঙনে অনেক বসতি ও বাজার বিলীন হয়েছে। চরে বসবাস শুরুর প্রায় ৪৪ বছরেও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। কাদাময় পথ, দুর্বল যোগাযোগ আর চিকিৎসা সুবিধার অভাবে নিত্যদিন ভোগান্তিতে থাকতে হয়। ২০০০ সালে নির্মিত কমিউনিটি ক্লিনিক নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ছয় বছর আগে। এখন সপ্তাহে দুদিন স্বাস্থ্যকর্মীরা এসে সেবা দেন।
শিক্ষার ক্ষেত্রেও চরম দুরবস্থা। দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকলেও নানা প্রতিকূলতায় কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না, বরং মাছ শিকারেই ঝুঁকে যায়। অনেক সময় শিক্ষকরা ট্রলার বা নৌকা না পেয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারেন না।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ এ অঞ্চলের মানুষের জন্য বড় হুমকি। ২০০০ সালে নির্মিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আশ্রয়ণকেন্দ্র নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বহু আগেই। বর্তমানে ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের পানিতে মানুষ গবাদি পশুর কেলায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
চরের বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, জরুরি চিকিৎসা, প্রসূতি সেবা কিংবা শিশুর পড়াশোনা—কোনো ক্ষেত্রেই তারা পর্যাপ্ত সুবিধা পান না। একসময় এখানে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ থাকলেও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ১২ হাজারে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন স্বীকার করেছেন, দুর্গম চর হওয়ায় এখানে মৌলিক সেবার অভাব রয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এমআর/সবা

























