কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
মহালয়ার মধ্য দিয়ে আজ শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এবছর কুষ্টিয়া জেলা জুড়ে ২৫৮ টি মন্ডপে উদযাপন হবে শারদীয় দুর্গোৎসব, যা গেল বছরের চেয়ে ৬টি বেশি ।
২০ অক্টোবর ষষ্ঠী এবং ২৪ অক্টোবর দশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই উৎসব। এখন মন্ডপে মন্ডপে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি কোথাও চলছে শেষ রংতুলির কাজ আবার কোথাও চলছে সাজসজ্জা।
এদিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদারে সব ধরনের ব্যবস্থা হাতে নিয়েছে জেলা পুলিশ।
তবে জেলার ভেড়ামারা উপজেলার মন্দির কমিটির দ্বন্দের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হত্যার ঘটনায় উপজেলাটির জগৎ জননী মাতৃ মন্দিরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের সুপারিশ করেছে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের দেওয়া তথ্যমতে, এবছর কুষ্টিয়া জেলা জুড়ে ২৫৮ টি মন্ডপে উদযাপন হবে শারদীয় দুর্গোৎসব, যা গেল বছরের চেয়ে ৬টি বেশি। এবছর সদর উপজেলার ৮৩টি, দৌলতপুর উপজেলার ১৪টি, ভেড়ামারা উপজেলার ১১টি, মিরপুর উপজেলার ২৬টি,কুমারখালী উপজেলার ৬০টি ও খোকসা উপজেলার ৬৪ টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
আরো জানানো হয়, প্রতি মন্ডপে কমিটির পক্ষ হতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করার পাশা পাশি জেলা পুলিশ পূজা মন্ডপে আইনশৃঙ্খলা সুরক্ষায় ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে।
এদিকে জেলার বিভিন্ন মন্ডপ ঘুরে দেখা যায়, প্রত্যেকটি মন্ডপে পূজার সাজ সজ্জা চলছে। এ নিয়ে মৃৎ শিল্পের কারিগরদের মাঝে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
কথা হয় শিল্পী সাধন কুমার পালের সাথে তিনি জানিয়েছেন, মনের ভিতর যে দেবীকে দেখি তা যখন নিজের হাতে সামনে তৈরি করি তখন এটি এক অন্যরকম অনুভূতি লাগে।
কথা হয় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের তারাগুনিয়া কর্মকার পাড়া দূর্গা মন্দিরের ভক্ত চিত্র রনজন কর্মকারের সাথে তিনি জানিয়েছেন, এবার তাদের প্রতিমা তৈরিতে খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। তারা মন্দিরের সব কাজ শেষকরে এখন মাকে বরনের৷ অপেক্ষায় আছে বলে জানান তিনি।
জেলা পুরোহিত ও সেবাইত প্রশিক্ষক বাপ্পি বাগচী জানান, ১৪ অক্টোবর ভোর ৬টায় শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার আড়ম্বর। ২০ অক্টোবর দেবী মায়ের বোধনের মধ্য দিয়ে ও ২৪ অক্টোবর বিসর্জনে শেষ হবে ৫ দিন ব্যাপী এ উৎসব। এবারে দেবী দুর্গার মর্তলোকে আগমন হবে ঘোড়ায় চড়ে। আবার ফিরে যাবেন ঘোড়ায় চড়ে।
জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড.জয়দেব বিশ্বাস বলেন, প্রতি মন্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করার পাশাপাশি আমরা স্বেচ্ছাসেবক রাখার ব্যবস্থা করেছি। তাছাড়া সম্প্রতি ভেড়ামারায় মন্দির কমিটির দ্বন্দ্বের জেরে পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক সঞ্জয় প্রামাণিক হত্যার ঘটনা বিবেচনা করে জগৎ জননী মাতৃ মন্দিরকে রেড জোন চিহিৃত করা হয়েছে।
ঐ এলাকায় অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর জন্য পুলিশ প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তি নাথ(ক্রাইম এন্ড অপস্) জানান, ভেড়ামারার জগৎ জননী মাতৃ মন্দির এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদারে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। শারদীয় দুর্গোৎসবকে নিরাপদ করতে জেলা পুলিশ প্রয়োজনীয় সব ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।


























