সরকারের প্রস্তাবিত সমন্বিত সার নীতিমালা ২০২৫ প্রত্যাহারের দাবিতে লালমনিরহাটে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন (বিএফএ) লালমনিরহাট জেলা ইউনিটের নেতারা। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় শহরের বিডিআর রোডস্থ বিএফএ জেলা কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএফএ লালমনিরহাট জেলা ইউনিটের সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল হাকিম। এতে তিনি বলেন, সরকারের প্রস্তাবিত সার নীতিমালা আপাতদৃষ্টিতে যুগোপযোগী মনে হলেও বাস্তব ক্ষেত্রে এর কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়নযোগ্য নয়। বিশেষ করে ইউনিয়নভিত্তিক একাধিক ডিলার নিয়োগ এবং খুচরা সার বিক্রেতাদের বাদ দেওয়ার প্রস্তাব সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি করবে এবং কৃষকের ভোগান্তি বাড়াবে।
তিনি জানান, গত ৩০ বছর ধরে বিসিআইসি ডিলাররা দেশের সার বিতরণ ব্যবস্থায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে আসছেন। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তদারকির মাধ্যমে এই ব্যবস্থায় কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এমন একটি দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর ব্যবস্থাকে হঠাৎ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হলে প্রান্তিক কৃষকরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। একইসঙ্গে দেশব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আলহাজ্ব আব্দুল হাকিম আরও বলেন, ডিলাররা শুধু সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিতরণ করে না, বরং অনেক সময় কৃষকের সুবিধার্থে নিজের লাভ কমিয়ে কম দামে সার সরবরাহ করে থাকেন। নন-ইউরিয়া সারের মূল্য ক্রমাগত বেড়ে চলেছে, এই বিষয়েও সরকারের মনোযোগ কামনা করেন তিনি।
তিনি সার ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধি, ইউনিয়ন পর্যায়ে সুষম সার বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং মোকাম থেকে সার উত্তোলনের ক্ষেত্রে ডিলারদের প্রতিনিধি নিয়োগের সুযোগ রাখার দাবি জানান। সেইসঙ্গে যেকোনো নতুন নীতিমালা প্রণয়নের আগে মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা ও বিএফএ প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে কৃষক ও কৃষিখাতের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএফএ-এর জেলা ও উপজেলা ইউনিটের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদনা: এমআর/সবা
























