লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি সোমবার (৬ অক্টোবর) সকাল থেকে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। এর আগে রোববার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে নদীর পানি বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
ফলে তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় জারি করা হয় রেড অ্যালার্ট এবং মাইকিং করে স্থানীয়দের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়। জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকাগুলোতে পানি ঢুকে পড়েছে। ডুবে গেছে ঘরবাড়ি, রাস্তা-ঘাট ও আবাদি জমি। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়া ও টানা বৃষ্টির কারণে নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যায়। এতে ফসলহানি ও খাদ্য সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে, কেউ কেউ ভেলা বানিয়ে নিরাপদ জায়গায় সরে যাচ্ছেন।
তিস্তা ব্যারাজ কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ নুরুল ইসলাম বলেন, “রোববার রাতে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সোমবার সকাল থেকে তা নিচে নেমে এসেছে। তবে যেকোনো সময় আবারও পানি বৃদ্ধি পেতে পারে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার রায় জানান, “বন্যা ভাঙন রোধে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি।”
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, “জেলার পাঁচ উপজেলায় কর্মকর্তাদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাদুর্গতদের জন্য শুকনা খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।”
এমআর/সবা



















