ময়মনসিংহের ত্রিশালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কোকারিজ ও স্টিলের বিভিন্ন সামগ্রির গোডাউনসহ চারটি পরিবারের বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে ত্রিশাল পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড নওধার ভাংতি এলাকার সেকান্দর আলী রোডে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুহুল আমীন, লোকমান হোসেন ও জামাল উদ্দিন—তিন ভাইয়ের যৌথ মালিকানাধীন কোকারিজ পণ্য, স্টিল সামগ্রী ও বিভিন্ন গৃহস্থালি মালামালের গোডাউনটি মুহূর্তেই আগুনে পুড়ে যায়। পাশাপাশি তাদের তিন ভাইয়ের বসতঘর এবং আরেক ভাই আব্দুল্লাহর বাড়িসহ মোট চারটি পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। ভুক্তভোগীরা ফায়ারসার্ভিস দেরিতে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে সহায়তার আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে।
গোডাউন ও ঘরমালিক লোকমান হোসেন বলেন,
“আমাদের চার ভাইয়ের বিশ বছরের অর্জিত সম্পদ সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের পরনে পোশাক পর্যন্ত নেই। অন্যের দেয়া জামা পরে ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে। ঠিক কত ক্ষতি হয়েছে বলা যাচ্ছে না, তবে কয়েক কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছি। সরকার সাহায্যে এগিয়ে না এলে আমাদের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে।”
ময়মনসিংহ ফায়ারসার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোঃ আতিকুর রহমান দেরিতে পৌঁছানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। আগুনের তীব্রতা ও এলাকা ঘনবসতি হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সময় লেগেছে। তবুও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি যেন ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ত্রিশাল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারি বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তা ও চার পরিবারকে বিশ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তাদের বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিবেদন পেলে সরকারি সহযোগিতা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




















