০৪:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যমুনা সার কারখানায় দৈনিক হাজিরা শ্রমিকদের কর্মবিরতি

যমুনা সার কারখানায় দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক কর্মরত ২৩৯ জন শ্রমিকের ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার ২৫৭ টাকা বেতন আত্মসাৎ করে পালিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষের নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল-মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিমিটেড।

বেতন না পেয়ে ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে চার ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন।

যমুনা সার কারখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেডে (জেএফসিএল) দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে নিয়োজিত ২৩৯ জন শ্রমিক নভেম্বর মাসজুড়ে উৎপাদন ও সহায়ক কাজে দায়িত্ব পালন করেন। শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আল-মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিমিটেডের কাছে অর্থ ছাড় করে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ না করে টাকা নিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।

 

এ বিষয়ে যমুনা সার কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি পত্রে দেখা যায়, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রথম চিঠিতে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আরেকটি পত্রে শ্রমিকদের বেতন বাবদ অর্থ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিশোধের জটিলতা এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার তথ্য দেওয়া হয়।

এদিকে বেতন না পেয়ে শ্রমিকেরা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, জামালপুরে অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) স্বাক্ষরিত এক নোটিশে যমুনা সার কারখানা কর্তৃপক্ষকে নভেম্বর ২০২৫ মাসের বকেয়া মজুরি অবিলম্বে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশে বলা হয়, মজুরি পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিন্তু নির্দেশনার পরও বেতন না পাওয়ায় শনিবার সকালে শ্রমিকেরা কারখানার প্রধান ফটকে জড়ো হয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মবিরতি শুরু করেন। এ সময় শ্রমিকেরা বলেন, “আমরা কাজ করেছি, হাজিরা দিয়েছি, কিন্তু বেতন পাইনি। ঠিকাদার টাকা নিয়ে পালিয়েছে, অথচ দায় আমাদের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি আমরা।”

শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে কয়েক ঘণ্টা কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়।

এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়েছে।

এমআর/সবা

চরম লজ্জার রেকর্ড নোয়াখালীর, ৫ উইকেট নাসুমের

যমুনা সার কারখানায় দৈনিক হাজিরা শ্রমিকদের কর্মবিরতি

আপডেট সময় : ০৫:২৮:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

যমুনা সার কারখানায় দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক কর্মরত ২৩৯ জন শ্রমিকের ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার ২৫৭ টাকা বেতন আত্মসাৎ করে পালিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষের নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল-মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিমিটেড।

বেতন না পেয়ে ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে চার ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন।

যমুনা সার কারখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেডে (জেএফসিএল) দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে নিয়োজিত ২৩৯ জন শ্রমিক নভেম্বর মাসজুড়ে উৎপাদন ও সহায়ক কাজে দায়িত্ব পালন করেন। শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আল-মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিমিটেডের কাছে অর্থ ছাড় করে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ না করে টাকা নিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।

 

এ বিষয়ে যমুনা সার কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি পত্রে দেখা যায়, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রথম চিঠিতে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আরেকটি পত্রে শ্রমিকদের বেতন বাবদ অর্থ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিশোধের জটিলতা এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার তথ্য দেওয়া হয়।

এদিকে বেতন না পেয়ে শ্রমিকেরা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, জামালপুরে অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) স্বাক্ষরিত এক নোটিশে যমুনা সার কারখানা কর্তৃপক্ষকে নভেম্বর ২০২৫ মাসের বকেয়া মজুরি অবিলম্বে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশে বলা হয়, মজুরি পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিন্তু নির্দেশনার পরও বেতন না পাওয়ায় শনিবার সকালে শ্রমিকেরা কারখানার প্রধান ফটকে জড়ো হয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মবিরতি শুরু করেন। এ সময় শ্রমিকেরা বলেন, “আমরা কাজ করেছি, হাজিরা দিয়েছি, কিন্তু বেতন পাইনি। ঠিকাদার টাকা নিয়ে পালিয়েছে, অথচ দায় আমাদের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি আমরা।”

শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে কয়েক ঘণ্টা কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়।

এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়েছে।

এমআর/সবা