জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নে দুঃস্থ নারীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভিজিডি চাল কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। লটারিতে নির্বাচিত হয়েও শতাধিক দুঃস্থ নারী চার মাস ধরে সরকারি চাল পাননি। অথচ সরকারি কাগজে তাদের নামেই চাল উত্তোলনের রেকর্ড রয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীরা জানান, চাল বিতরণের দিন তাদের ডাকা হয়নি। অনেকেই জানতেন না যে, তারা ভিজিডি কার্ডে নির্বাচিত হয়েছেন। পরে জানতে পারেন, তাদের নামে চার মাসে প্রায় ১২০ কেজি চাল বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে এক ছটাকও তারা পাননি। অভিযোগ রয়েছে, এসব চাল ইউনিয়ন পরিষদের একটি চক্র আত্মসাৎ করে বাজারে বিক্রি করেছে।
সরিষাবাড়ী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ও মহাদান ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক সালাহ উদ্দিন বলেন,
“বিতরণের দিন যারা উপস্থিত ছিলেন না, তাদের চাল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন।”
তবে কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আমিনুল ইসলাম দাবি করেন,
“উপকারভোগীরা না এলে চাল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই চাল সংরক্ষণ করা হয়েছে। কেউ বঞ্চিত হয়ে থাকলে পরে সমন্বয় করা হবে।”
এদিকে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর আলম বলেন,“বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভিজিডি কর্মসূচির সভাপতি ও মহাদান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তাসলিমুজ্জামান অভিযোগ আংশিক স্বীকার করে বলেন,“যেসব দুঃস্থ নারী বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের বকেয়া চাল একসঙ্গে পরবর্তী বিতরণে দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে বিতরণের সময় কেউ চাল না পেলে সঙ্গে সঙ্গে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, দুঃস্থ নারীদের নামে বরাদ্দ চাল উত্তোলনের পর তা কোথায় গেল? কারা লাভবান হলো? প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে না বলেই মনে করছেন সচেতন মহল। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শু/সবা

























