১২:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১০ লাখ টাকায় ভাড়াটে খুনি নিয়োগ, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে তিন আসামি গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে দীর্ঘদিনের ক্লুলেস দানিয়ুল ইসলাম হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করেছে জেলা পুলিশ। পরিকল্পিতভাবে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, পিপিএম-এর দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বীরগঞ্জ থানা পুলিশের যৌথ তদন্তে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়।

পুলিশ জানায়, প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের অবস্থান খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় শনাক্ত করা হয়। গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ র‌্যাব-৬ খুলনার সহায়তায় খুলনা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. আবু বক্কর ওরফে বাদশা (২৬) কে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুর শহরের উত্তর বালুবাড়ী এলাকা থেকে মো. শাহ আলম কল্লোল (৫৬) এবং বীরগঞ্জ উপজেলার আরাজি চৌপুকুরিয়া গ্রাম থেকে মোছা. সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি (৪১) কে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

১০ লাখ টাকায় হত্যার পরিকল্পনা

তদন্তে জানা যায়, শাহ আলম কল্লোল ও সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি পরস্পর যোগসাজশে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে পেশাদার খুনি ভাড়া করেন। বীরগঞ্জ উপজেলার আরাজি চৌপুকুরিয়া গ্রামে জিন্দাপীর মেলা চলাকালে মানুষের ভিড়কে সুযোগ হিসেবে বেছে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।

সুলতানা রাজিয়া নিহত দানিয়ুল ইসলামের বাড়ির নকশা, প্রবেশপথ ও হত্যার কৌশল সংক্রান্ত একটি ভিডিও ধারণ করে শাহ আলম কল্লোলের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান। পরে শাহ আলম কল্লোলের কাছ থেকে বাড়ির চাবি সংগ্রহ করে আবু বক্কর ও তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে যায়।

যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড

গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ভোররাতে দানিয়ুল ইসলামকে তার নিজ শয়নকক্ষে গলা কেটে হত্যা করা হয়। সকালে বিছানায় রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্বজনরা পুলিশে খবর দেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

নিহত দানিয়ুল ইসলাম পেশায় একজন স্বচ্ছল কৃষক ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

আলামত উদ্ধার

পুলিশ জানায়, আবু বক্করের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিহতের বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে একটি পুকুর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বাসার তালাচাবি উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহ আলম কল্লোল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

১০ লাখ টাকায় ভাড়াটে খুনি নিয়োগ, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে তিন আসামি গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৪:৪১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে দীর্ঘদিনের ক্লুলেস দানিয়ুল ইসলাম হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করেছে জেলা পুলিশ। পরিকল্পিতভাবে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, পিপিএম-এর দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বীরগঞ্জ থানা পুলিশের যৌথ তদন্তে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়।

পুলিশ জানায়, প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের অবস্থান খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় শনাক্ত করা হয়। গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ র‌্যাব-৬ খুলনার সহায়তায় খুলনা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. আবু বক্কর ওরফে বাদশা (২৬) কে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুর শহরের উত্তর বালুবাড়ী এলাকা থেকে মো. শাহ আলম কল্লোল (৫৬) এবং বীরগঞ্জ উপজেলার আরাজি চৌপুকুরিয়া গ্রাম থেকে মোছা. সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি (৪১) কে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

১০ লাখ টাকায় হত্যার পরিকল্পনা

তদন্তে জানা যায়, শাহ আলম কল্লোল ও সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি পরস্পর যোগসাজশে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে পেশাদার খুনি ভাড়া করেন। বীরগঞ্জ উপজেলার আরাজি চৌপুকুরিয়া গ্রামে জিন্দাপীর মেলা চলাকালে মানুষের ভিড়কে সুযোগ হিসেবে বেছে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।

সুলতানা রাজিয়া নিহত দানিয়ুল ইসলামের বাড়ির নকশা, প্রবেশপথ ও হত্যার কৌশল সংক্রান্ত একটি ভিডিও ধারণ করে শাহ আলম কল্লোলের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান। পরে শাহ আলম কল্লোলের কাছ থেকে বাড়ির চাবি সংগ্রহ করে আবু বক্কর ও তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে যায়।

যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড

গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ভোররাতে দানিয়ুল ইসলামকে তার নিজ শয়নকক্ষে গলা কেটে হত্যা করা হয়। সকালে বিছানায় রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্বজনরা পুলিশে খবর দেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

নিহত দানিয়ুল ইসলাম পেশায় একজন স্বচ্ছল কৃষক ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

আলামত উদ্ধার

পুলিশ জানায়, আবু বক্করের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিহতের বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে একটি পুকুর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বাসার তালাচাবি উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহ আলম কল্লোল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শু/সবা