- ভ্রমণ পরিকল্পনায় দরকারি কিছু টিপস
- ভোরে বের হলে যানজট এড়ানো যায়
- ছুটির দিনে ভিড়ের বিষয়টি মাথায় রাখুন
- পানির বোতল ও হালকা খাবার সঙ্গে নিলে খরচ কমবে
- দল বেঁধে গেলে যাতায়াত খরচ ভাগ হয়ে যায়
ভ্রমণ মানেই দূরে কোথাও চলে যাওয়া নয়। ঢাকার আশেপাশেই ছড়িয়ে আছে এমন অনেক জায়গা, যেগুলো একদিনেই মনকে করে তোলে হালকা ও সতেজ। মাত্র ৫০০ থেকে দেড় হাজার টাকার মধ্যেই কাটিয়ে আসা যায় এমন একটি দিন, যা আবার নতুন করে শক্তি জোগাবে ব্যস্ত শহুরে জীবনে।
ঢাকা শহর যেন কখনোই থামে না। সকাল থেকে রাত—গাড়ির হর্ন, মানুষের ভিড়, কাজের চাপ আর সময়ের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার অদৃশ্য লড়াইয়ে কেটে যায় দিন। এমন এক শহরে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হয়, যদি কোথাও একটু হারিয়ে যাওয়া যেত—যেখানে ফোনের নোটিফিকেশন নেই, সময়ের তাড়া নেই, আছে শুধু নিঃশ্বাস নেওয়ার অবকাশ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সবার পক্ষে দূরে কোথাও যাওয়ার সময় বা খরচ জোগানো সম্ভব হয় না।
ঠিক তখনই চোখে পড়ে ঢাকার আশেপাশে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট ভ্রমণ ঠিকানাগুলো। একদিনের ছুটিতে, অল্প বাজেটে, কোনো ঝামেলা ছাড়াই যেখানে পৌঁছে যাওয়া যায়। ইতিহাস, নদী, বন কিংবা নিস্তব্ধ প্রকৃতি—সবই আছে ঢাকার একেবারে কাছেই। চাই শুধু একটু পরিকল্পনা আর বেরিয়ে পড়ার মানসিকতা।
চলুন, জেনে নেওয়া যাক ঢাকার আশেপাশে এমন কিছু জায়গার কথা, যেগুলো একদিনেই আপনাকে ফিরিয়ে দেবে হারিয়ে যাওয়া প্রশান্তি।

সোনারগাঁও ও পানাম নগর
- ইতিহাসের অলিগলিতে একদিন
ঢাকা থেকে সবচেয়ে পরিচিত ও সহজ ভ্রমণ গন্তব্য সোনারগাঁও। একসময় বাংলার রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই জনপদ আজও বয়ে বেড়াচ্ছে ইতিহাসের ভার। পানাম নগরের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শতবর্ষী দালানগুলো যেন নীরবে গল্প বলে যায় অতীতের। ইট-পাথরের দেয়ালে জমে থাকা স্মৃতি আর ফাঁকা রাস্তার নির্জনতা ইতিহাসপ্রেমীদের মুগ্ধ করে।
পাশেই বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর—যেখানে গ্রামীণ বাংলার জীবনধারা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
যাতায়াত সময়: ১–১.৫ ঘণ্টা
খরচ (প্রতি জন): যাতায়াত ২০০–৪০০ টাকা, প্রবেশ ফি ৫০–১০০ টাকা, খাবার ৩০০–৫০০ টাকা
জিন্দা পার্ক, নারায়ণগঞ্জ
- সবুজের ভেতর একটু নিঃশ্বাস
কোলাহল থেকে দূরে, কিন্তু খুব বেশি দূরে নয়—জিন্দা পার্ক ঠিক তেমনই একটি জায়গা। লেকের ধারে বসে থাকা, খোলা মাঠে হাঁটা কিংবা সবুজের মাঝে চুপচাপ সময় কাটানো—সবই সম্ভব এখানে। পরিবার নিয়ে বা বন্ধুদের সঙ্গে একদিনের জন্য আরাম করতে চাইলে জিন্দা পার্ক নিঃসন্দেহে ভালো পছন্দ।

যাতায়াত সময়: প্রায় ১ ঘণ্টা
খরচ (প্রতি জন): যাতায়াত ৩০০–৫০০ টাকা, প্রবেশ ফি ৫০–১০০ টাকা, খাবার ৩০০–৬০০ টাকা
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান, গাজীপুর
- শালবনের ছায়ায় শহর ভুলে থাকা
ঢাকার পাশেই আছে এমন একটি জায়গা, যেখানে ঢুকলেই শহরের শব্দ মিলিয়ে যায়। ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের শালবন, পাখির ডাক আর খোলা পরিবেশ মনকে নিয়ে যায় একেবারে ভিন্ন জগতে। সকালের দিকে গেলে হাঁটা বা হালকা ট্রেকিংয়ের মজাও নেওয়া যায়।

যাতায়াত সময়: ১–১.৫ ঘণ্টা
খরচ (প্রতি জন): যাতায়াত ২০০–৪০০ টাকা, প্রবেশ ফি ৩০–৫০ টাকা, খাবার ৩০০–৫০০ টাকা
নুহাশ পল্লী, গাজীপুর
- নীরবতার ভেতরে গল্পের ছায়া
নুহাশ পল্লী কেবল একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়—এটি এক ধরনের আবেগ। লেখক হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতি আর প্রকৃতির মেলবন্ধনে তৈরি এই জায়গাটি যেন ধীরে হাঁটার জন্যই বানানো। জলাশয়ের ধারে বসে থাকা কিংবা গাছের ছায়ায় সময় কাটাতে কাটাতে মন নিজেই হালকা হয়ে আসে।

যাতায়াত সময়: ১–১.৫ ঘণ্টা
খরচ (প্রতি জন): যাতায়াত ৩০০–৫০০ টাকা, প্রবেশ ফি ১০০–২০০ টাকা, খাবার ৩০০–৫০০ টাকা
মাওয়া ও পদ্মা নদীর পাড়
- নদীর হাওয়ায় একটুকরো মুক্তি
নদী মানেই প্রশান্তি। মাওয়ায় পদ্মার পাড়ে বসে বাতাসে ভেসে আসে ভিন্ন এক স্বস্তি। পদ্মা সেতুর দৃশ্য, নদীর পাড়ে হাঁটা আর তাজা ইলিশ—সব মিলিয়ে একদিনের ভ্রমণ হয়ে ওঠে পরিপূর্ণ।

যাতায়াত সময়: ১.৫–২ ঘণ্টা
খরচ (প্রতি জন): যাতায়াত ৩০০–৬০০ টাকা, খাবার ৫০০–১,০০০ টাকা
আশুলিয়া লেক এলাকা
- অল্প সময়ে ছোট ছুটি
সময় কম, কিন্তু মনটা ঘুরতে চায়—তখন আশুলিয়া লেক এলাকা হতে পারে আদর্শ সমাধান। বিকেলের আলো, লেকের ধারে চা আর আড্ডা—এই ছোট আনন্দই অনেক সময় যথেষ্ট হয়ে ওঠে।

খরচ (প্রতি জন): যাতায়াত ২০০–৩০০ টাকা, খাবার ২০০–৪০০ টাকা।
এমআর/সবা


























