ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করেই একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল, আর সেই ধারাবাহিকতায় জনগণের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
ইশরাক হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে যেমন প্রত্যাশা ছিল, এখনও তেমনই আছে। বিএনপি সবসময় একটি গণতান্ত্রিক, মুক্ত ও স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ার সংগ্রাম করে এসেছে। জনগণের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাই এই লড়াইয়ের মূল ভিত্তি।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে এবং গণতন্ত্রকে ভেঙে ফেলা হয়েছে। যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক বলে দাবি করত, তারাই প্রকৃতপক্ষে সেই চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দেশকে লুটপাট, গুম ও হত্যার রাজনীতির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ফিরে এসেছে এবং একটি নির্বাচিত সরকার পেয়েছে। এখন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব। বিভিন্ন অঞ্চল ও শ্রেণি-পেশার মানুষের আলাদা আলাদা চাহিদা রয়েছে, সেগুলো গুরুত্ব দিয়েই সরকার কাজ করবে।
ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকেই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। সেই আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল দল, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা। পাহাড়ি কিংবা সমতলের মানুষ—সবাই সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করবে, এমন একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়াই আমাদের লক্ষ্য।
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে বিএনপির মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। ফুলে ফুলে ভরে ওঠা শহীদ মিনারের প্রাঙ্গণে ভাষা শহীদদের স্মরণ করে তারা গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।
শু/সবা
সবুজ বাংলা ডিজিটাল রিপোর্ট 























