11:30 pm, Monday, 6 July 2026

জাবিতে নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ, দায় স্বীকার ১২ শিক্ষার্থীর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের গভীর রাতে মাঠে ডেকে নিয়ে ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের (র‍্যাগিং) অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা লিখিতভাবে স্বীকার করেছেন একই বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের ১২ শিক্ষার্থী।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত ১১টা থেকে শনিবার দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল টিম ও জাকসুর অ্যান্টি-র‍্যাগিং সেলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের আটক করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মাঠে ডেকে নিয়ে কান ধরিয়ে দাঁড় করানো, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে এক নবীন শিক্ষার্থী গোপনে জাকসুর কার্যকরী সদস্যকে বিষয়টি জানালে প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের নিরাপত্তা কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের ভিডিও ও লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. এহসানুল হক অভিযোগ করেন, তাদের বাবা-মাকে নিয়ে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং কান ধরে দাঁড় করিয়ে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

আরেক শিক্ষার্থী রাজ খান বলেন, এর আগেও বিভিন্ন স্থানে তাদের র‍্যাগিংয়ের শিকার হতে হয়েছে। সেমিনার কক্ষ, ক্লাসরুমের করিডর, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও আবাসিক হলে চলাচল নিয়েও নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

এ ঘটনায় প্রথম বর্ষের ১৩ জন শিক্ষার্থী প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে দেওয়া লিখিত বিবৃতিতে স্বীকার করা হয়েছে যে, ৫৫তম ব্যাচের ১৩ জন শিক্ষার্থীকে ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে মাঠে ডেকে নিয়ে র‍্যাগিং করা হয়েছিল।

অভিযুক্ত ১২ শিক্ষার্থী হলেন সুভাশীষ রায়, নাছিম উদ্দিন মজুমদার, আবু আবতাহী অনিক, নাইমুল হাসান, আবদুল্লাহ মাহদী, ইসফাক হাদী, মো. রায়হান খান, কাজী শাহ জামসেদ আলম, সাইফুল্লাহ মানসুর আনান, মো. মাহফুজুর রহমান, কার্তিক চন্দ্র রায় ও নাইম আহমেদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্তদের হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। তাদের লিখিত ও ভিডিও বক্তব্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডির সভায় আলোচনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন আকারে জমা দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী এ ঘটনায় দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

12 − 2 =

About Author Information

Popular Post

প্রায় দুই দশক পর গাজায় শাসন কমিটি বিলুপ্ত করল হামাস

জাবিতে নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ, দায় স্বীকার ১২ শিক্ষার্থীর

Update Time : ০৪:৪৭:৪৬ pm, Saturday, ৪ জুলাই ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের গভীর রাতে মাঠে ডেকে নিয়ে ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের (র‍্যাগিং) অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা লিখিতভাবে স্বীকার করেছেন একই বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের ১২ শিক্ষার্থী।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত ১১টা থেকে শনিবার দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল টিম ও জাকসুর অ্যান্টি-র‍্যাগিং সেলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের আটক করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মাঠে ডেকে নিয়ে কান ধরিয়ে দাঁড় করানো, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে এক নবীন শিক্ষার্থী গোপনে জাকসুর কার্যকরী সদস্যকে বিষয়টি জানালে প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের নিরাপত্তা কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের ভিডিও ও লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. এহসানুল হক অভিযোগ করেন, তাদের বাবা-মাকে নিয়ে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং কান ধরে দাঁড় করিয়ে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

আরেক শিক্ষার্থী রাজ খান বলেন, এর আগেও বিভিন্ন স্থানে তাদের র‍্যাগিংয়ের শিকার হতে হয়েছে। সেমিনার কক্ষ, ক্লাসরুমের করিডর, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও আবাসিক হলে চলাচল নিয়েও নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

এ ঘটনায় প্রথম বর্ষের ১৩ জন শিক্ষার্থী প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে দেওয়া লিখিত বিবৃতিতে স্বীকার করা হয়েছে যে, ৫৫তম ব্যাচের ১৩ জন শিক্ষার্থীকে ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে মাঠে ডেকে নিয়ে র‍্যাগিং করা হয়েছিল।

অভিযুক্ত ১২ শিক্ষার্থী হলেন সুভাশীষ রায়, নাছিম উদ্দিন মজুমদার, আবু আবতাহী অনিক, নাইমুল হাসান, আবদুল্লাহ মাহদী, ইসফাক হাদী, মো. রায়হান খান, কাজী শাহ জামসেদ আলম, সাইফুল্লাহ মানসুর আনান, মো. মাহফুজুর রহমান, কার্তিক চন্দ্র রায় ও নাইম আহমেদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্তদের হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। তাদের লিখিত ও ভিডিও বক্তব্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডির সভায় আলোচনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন আকারে জমা দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী এ ঘটনায় দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শু/সবা