রংপুর ও সৈয়দপুর বিহারি ক্যাম্পে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া প্রায় ৭৭ কোটি টাকা » দৈনিক সবুজ বাংলা
০৬:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুর ও সৈয়দপুর বিহারি ক্যাম্পে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া প্রায় ৭৭ কোটি টাকা

রংপুর ও নীলফামারীর সৈয়দপুরের বিহারি ক্যাম্পগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহার চললেও দীর্ঘদিন ধরে বিল পরিশোধ না হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে বড় অঙ্কের বকেয়া। বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাবে বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (NESCO PLC) সূত্রে জানা যায়, রংপুর ও সৈয়দপুর এলাকায় মোট ২৬টি সরকারি মিটার রয়েছে বিহারি ক্যাম্পে। এর মধ্যে রংপুরে ২টি এবং সৈয়দপুরে ২৪টি মিটার। দীর্ঘদিন বিল পরিশোধ না হওয়ায় বকেয়া দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নেসকোর তথ্য অনুযায়ী, রংপুর অংশে বকেয়া প্রায় ১০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং সৈয়দপুর অংশে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। প্রতি মাসেই এই অঙ্ক আরও বাড়ছে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে ক্যাম্পগুলোতে দেখা যায়, সরকারি মিটার থাকা সত্ত্বেও বহু এলাকায় সরাসরি অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও একই লাইনে একাধিক পরিবার যুক্ত থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। অনেক ঘরে ফ্যান, টিভি, এমনকি ফ্রিজ ব্যবহারের চিত্রও দেখা গেছে।

ক্যাম্পবাসীরা জানান, বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও তারা সরাসরি বিদ্যুৎ বিভাগকে টাকা দেন না; বরং স্থানীয়ভাবে মাসিক ভিত্তিতে কিছু অর্থ আদায় করা হয়, যা কোথায় যায় তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, একসময় এসব ক্যাম্পের বিদ্যুৎ বিল ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় পরিশোধ করত। তবে নাগরিকত্ব স্বীকৃতির পর সেই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।

একাংশ ক্যাম্পবাসীর দাবি, তারা নিয়মিত বিল দিতে চান, কিন্তু নিজ নামে মিটার না থাকায় সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ মনে করছে, সমন্বিত নীতি ও পৃথক মিটার ব্যবস্থা না থাকায় সংকট দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।

২০০৮ সালের হাইকোর্টের এক রায়ে উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও এখনো অনেক ক্যাম্পে পুনর্বাসন ও মৌলিক সেবা নিয়ে জটিলতা রয়ে গেছে।

নেসকোর রংপুর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, নিয়মিতভাবে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর সমাধান আসেনি। এদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিবারভিত্তিক প্রিপেইড মিটার ও পুনর্বাসন প্রকল্প ছাড়া এই সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।

সার্বিকভাবে, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, অবৈধ সংযোগ ও নীতিগত জটিলতায় ক্যাম্পগুলোতে একদিকে আর্থিক সংকট, অন্যদিকে নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ছে।

শু/সবা
জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুর ও সৈয়দপুর বিহারি ক্যাম্পে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া প্রায় ৭৭ কোটি টাকা

আপডেট সময় : ০৬:২৯:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

রংপুর ও নীলফামারীর সৈয়দপুরের বিহারি ক্যাম্পগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহার চললেও দীর্ঘদিন ধরে বিল পরিশোধ না হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে বড় অঙ্কের বকেয়া। বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাবে বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (NESCO PLC) সূত্রে জানা যায়, রংপুর ও সৈয়দপুর এলাকায় মোট ২৬টি সরকারি মিটার রয়েছে বিহারি ক্যাম্পে। এর মধ্যে রংপুরে ২টি এবং সৈয়দপুরে ২৪টি মিটার। দীর্ঘদিন বিল পরিশোধ না হওয়ায় বকেয়া দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নেসকোর তথ্য অনুযায়ী, রংপুর অংশে বকেয়া প্রায় ১০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং সৈয়দপুর অংশে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। প্রতি মাসেই এই অঙ্ক আরও বাড়ছে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে ক্যাম্পগুলোতে দেখা যায়, সরকারি মিটার থাকা সত্ত্বেও বহু এলাকায় সরাসরি অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও একই লাইনে একাধিক পরিবার যুক্ত থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। অনেক ঘরে ফ্যান, টিভি, এমনকি ফ্রিজ ব্যবহারের চিত্রও দেখা গেছে।

ক্যাম্পবাসীরা জানান, বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও তারা সরাসরি বিদ্যুৎ বিভাগকে টাকা দেন না; বরং স্থানীয়ভাবে মাসিক ভিত্তিতে কিছু অর্থ আদায় করা হয়, যা কোথায় যায় তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, একসময় এসব ক্যাম্পের বিদ্যুৎ বিল ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় পরিশোধ করত। তবে নাগরিকত্ব স্বীকৃতির পর সেই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।

একাংশ ক্যাম্পবাসীর দাবি, তারা নিয়মিত বিল দিতে চান, কিন্তু নিজ নামে মিটার না থাকায় সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ মনে করছে, সমন্বিত নীতি ও পৃথক মিটার ব্যবস্থা না থাকায় সংকট দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।

২০০৮ সালের হাইকোর্টের এক রায়ে উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও এখনো অনেক ক্যাম্পে পুনর্বাসন ও মৌলিক সেবা নিয়ে জটিলতা রয়ে গেছে।

নেসকোর রংপুর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, নিয়মিতভাবে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর সমাধান আসেনি। এদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিবারভিত্তিক প্রিপেইড মিটার ও পুনর্বাসন প্রকল্প ছাড়া এই সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।

সার্বিকভাবে, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, অবৈধ সংযোগ ও নীতিগত জটিলতায় ক্যাম্পগুলোতে একদিকে আর্থিক সংকট, অন্যদিকে নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ছে।

শু/সবা