চট্টগ্রামে জ্বালানি ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় নগরজুড়ে লোডশেডিং বেড়ে ২৫০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে, যা জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চট্টগ্রাম জোনের ১৫ এপ্রিলের হিসাব অনুযায়ী, বিদ্যুতের চাহিদা ১ হাজার ৩৮৪ থেকে ১ হাজার ১ হাজার ৪৩২ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াটের মধ্যে ওঠানামা করছে। তবে সরবরাহ সেই চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় গড়ে ২৫০ থেকে ২৮০ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল সকাল ১১টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৩৮৪ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১ হাজার ৯৫ দশমিক ৯৬ মেগাওয়াট। সন্ধ্যা ৭টায় চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৩২ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াট, আর সরবরাহ হয় ১ হাজার ৪৭০ মেগাওয়াট। সার্বিক হিসাবে দিনে গড়ে লোডশেডিং দাঁড়িয়েছে ২৮১ দশমিক ৮২ মেগাওয়াট।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তা ফিরতে সময় লাগছে ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা, কোথাও কোথাও ২ থেকে ৩ ঘণ্টাও অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
চাঁন্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা রিনা আক্তার বলেন, “রাতে বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানোই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গরমে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। বিদ্যুৎ গেলে ২-৩ ঘণ্টা থাকে না। এভাবে চললে বাসায় থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
বহদ্দারহাট এলাকার চাকরিজীবী নুর নবী বলেন, “দিনে অফিস, রাতে বাসায় এসেও শান্তি নেই। বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো বিশ্রাম নিতে পারি না। এর প্রভাব পরের দিনের কাজেও পড়ছে।”
চট্টগ্রাম পিডিবির সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডাটা অ্যাকুইজিশন (স্কাডা) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে গ্যাসচালিত বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় উৎপাদন কমে গেছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এবং জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, “সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই লোডশেডিংয়ের মাত্রা নির্ধারিত হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংকট পুরোপুরি কাটানো সম্ভব নয়।
শু/সবা






















