জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে জ্বালানি খাতকে মুনাফাভোগী নয়, বরং সেবাখাত হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম।
শনিবার (৯ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স আয়োজিত ‘জ্বালানি সংকটের কারণ ও প্রভাব এবং সমাধান’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, বিগত সরকারের আমলে বিশেষ আইন ও বিইআরসি আইনের সংশোধনীর মাধ্যমে জ্বালানি খাতে অলিগার্ক বা অসাধু ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে। রাষ্ট্র এই খাতকে সেবাখাত থেকে বাণিজ্যিক খাতে রূপান্তর করায় এটি এখন লুণ্ঠন ও দুর্নীতির চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকার নানা সংস্কারের কথা বললেও জ্বালানি খাতের এই লুণ্ঠনমূলক কাঠামো এখনো অক্ষত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের জ্বালানি সার্বভৌমত্ব আজ বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠিত জ্বালানি ব্যবস্থা ভেঙে নতুন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ পার্শ্ববর্তী ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বেশি ব্যয় করেও প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে না। তাই তেল-গ্যাসের পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানির উৎস নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সেমিনারে বক্তব্য দেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. আবদুল মোমেন।
ড. মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, সরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করলে জ্বালানি সংকট অনেকাংশে সমাধান করা সম্ভব। কুইক রেন্টালে দেওয়া ভর্তুকি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ করলে বিকল্প জ্বালানির প্রসার ঘটবে। দেশের মসজিদ, স্কুল ও সরকারি ভবনগুলোকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা গেলে বিদ্যুতের বড় একটি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বাপেক্সকে শক্তিশালী করা, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং সমন্বিত জ্বালানি নীতি প্রণয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ আহমেদ বলেন, দেশের মাত্র ১ শতাংশ কৃষিজমি সৌরবিদ্যুতের জন্য ব্যবহার করা গেলে বছরে প্রায় ৫০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এজন্য সরকারকে বিকল্প জ্বালানির পাশাপাশি বর্তমান জ্বালানি ব্যবস্থারও সংস্কার করতে হবে।
সেমিনারে জ্বালানি খাতকে পুনরায় সেবাখাত হিসেবে ঘোষণা, লুণ্ঠনমূলক ব্যয় ও অযৌক্তিক মুনাফা কমিয়ে ভর্তুকি সমন্বয়, বিইআরসিকে শক্তিশালী ও কার্যকর করা, জ্বালানি অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, মন্ত্রণালয়কে কোম্পানির পরিচালনা বোর্ড থেকে সরিয়ে আনা এবং বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী করার সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
শু/সবা
সবুজ বাংলা ডিজিটাল রিপোর্ট 
























