7:56 pm, Wednesday, 20 May 2026

রোহিঙ্গাদের জন্য ৭১ কোটি ডলার সহায়তার আহ্বান

বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য এ বছর ৭১ দশমিক ০৫ কোটি ডলার সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা, সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানসহ আটটি খাতে কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দাসহ মোট প্রায় ১৫ লাখ মানুষের সহায়তায় এই তহবিল চাওয়া হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) ঢাকার জাতিসংঘ ভবনে তহবিলের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে এই আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতিসংঘ ও এর অংশীদাররা জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের আওতায় এই সহায়তার আবেদন জানায়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইউএনএইচসিআর’র কেলি ক্লেমেন্টস, ডব্লিউএফপি’র রানিয়া দাগাশ-কামারা, ইউএন উইমেন’র নিয়ারাদজাই গুম্বনজভান্দা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব এম. ফরহাদুল ইসলাম এবং জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর। ৫২টি বাংলাদেশি সংস্থাসহ মোট ৯৮টি মানবিক অংশীদার এই উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে।

জাতিসংঘ জানায়, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী অস্থিতিশীলতা ও মানবিক সংকটের কারণে তহবিল সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সহায়তার দাবি রাখে।

চার দিনের একটি যৌথ উচ্চপর্যায়ের দাতা আলোচনা শেষে এই আবেদন জানানো হয়। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী পরিদর্শন করেন আন্তর্জাতিক দাতা প্রতিনিধিরা। সফরে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

জাতিসংঘ আবারও বলেছে, রোহিঙ্গা সংকটের সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই সমাধান হলো স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। ২০২৪ সালের শুরু থেকে নতুন করে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এতে মানবিক সহায়তা ও ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় চাপ আরও বেড়েছে।

ইউএনএইচসিআর জানায়, ২০২৬ সালের জন্য হালনাগাদ পরিকল্পনায় প্রায় ১৫ দশমিক ৬ লাখ মানুষের জন্য সহায়তা রাখা হয়েছে। ৭১ দশমিক ০৫ কোটি ডলারের এই আবেদন ২০২৫ সালের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম হলেও এটি জীবনরক্ষাকারী ন্যূনতম সহায়তা নিশ্চিত করবে।

প্রস্তাবিত তহবিলের মধ্যে খাদ্যের জন্য ২৪ দশমিক ৭৩ কোটি, বাসস্থানের জন্য ১২ দশমিক ৮ কোটি, পানি ও স্বাস্থ্যবিধির জন্য ৬ দশমিক ১২ কোটি, শিক্ষার জন্য ৫ দশমিক ২৭ কোটি, স্বাস্থ্যসেবার জন্য ৪ দশমিক ৯৯ কোটি এবং জীবিকা ও দক্ষতা উন্নয়নে ৩ দশমিক ৫১ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য ৩ দশমিক ৬২ কোটি ডলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

২০১৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা সংকটে প্রায় ৫ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দাতা যুক্তরাষ্ট্র।

কেলি টি. ক্লেমেন্টস বলেন, সম্পদ কমে যাওয়ায় রোহিঙ্গাদের আরও স্বনির্ভর করে তুলতে হবে, যাতে তারা নিজেদের জীবন নতুন করে গড়ে তুলতে পারে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরতে না পারা পর্যন্ত তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সহায়তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব।

রানিয়া দাগাশ-কামারা বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ অসাধারণ উদারতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি দাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তাদের সহায়তা শরণার্থীদের জন্য জীবনরেখা হিসেবে কাজ করছে।

নিয়ারাদজাই গুম্বনজভান্দা বলেন, বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের চাহিদা এখনও অত্যন্ত বেশি। তহবিল কমে যাওয়ার প্রভাব ইতোমধ্যেই ক্যাম্পের দৈনন্দিন জীবনে পড়তে শুরু করেছে।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

four + 3 =

About Author Information

Popular Post

রোহিঙ্গাদের জন্য ৭১ কোটি ডলার সহায়তার আহ্বান

Update Time : ০৬:৪৫:০৪ pm, Wednesday, ২০ মে ২০২৬

বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য এ বছর ৭১ দশমিক ০৫ কোটি ডলার সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা, সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানসহ আটটি খাতে কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দাসহ মোট প্রায় ১৫ লাখ মানুষের সহায়তায় এই তহবিল চাওয়া হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) ঢাকার জাতিসংঘ ভবনে তহবিলের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে এই আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতিসংঘ ও এর অংশীদাররা জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের আওতায় এই সহায়তার আবেদন জানায়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইউএনএইচসিআর’র কেলি ক্লেমেন্টস, ডব্লিউএফপি’র রানিয়া দাগাশ-কামারা, ইউএন উইমেন’র নিয়ারাদজাই গুম্বনজভান্দা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব এম. ফরহাদুল ইসলাম এবং জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর। ৫২টি বাংলাদেশি সংস্থাসহ মোট ৯৮টি মানবিক অংশীদার এই উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে।

জাতিসংঘ জানায়, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী অস্থিতিশীলতা ও মানবিক সংকটের কারণে তহবিল সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সহায়তার দাবি রাখে।

চার দিনের একটি যৌথ উচ্চপর্যায়ের দাতা আলোচনা শেষে এই আবেদন জানানো হয়। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী পরিদর্শন করেন আন্তর্জাতিক দাতা প্রতিনিধিরা। সফরে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

জাতিসংঘ আবারও বলেছে, রোহিঙ্গা সংকটের সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই সমাধান হলো স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। ২০২৪ সালের শুরু থেকে নতুন করে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এতে মানবিক সহায়তা ও ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় চাপ আরও বেড়েছে।

ইউএনএইচসিআর জানায়, ২০২৬ সালের জন্য হালনাগাদ পরিকল্পনায় প্রায় ১৫ দশমিক ৬ লাখ মানুষের জন্য সহায়তা রাখা হয়েছে। ৭১ দশমিক ০৫ কোটি ডলারের এই আবেদন ২০২৫ সালের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম হলেও এটি জীবনরক্ষাকারী ন্যূনতম সহায়তা নিশ্চিত করবে।

প্রস্তাবিত তহবিলের মধ্যে খাদ্যের জন্য ২৪ দশমিক ৭৩ কোটি, বাসস্থানের জন্য ১২ দশমিক ৮ কোটি, পানি ও স্বাস্থ্যবিধির জন্য ৬ দশমিক ১২ কোটি, শিক্ষার জন্য ৫ দশমিক ২৭ কোটি, স্বাস্থ্যসেবার জন্য ৪ দশমিক ৯৯ কোটি এবং জীবিকা ও দক্ষতা উন্নয়নে ৩ দশমিক ৫১ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য ৩ দশমিক ৬২ কোটি ডলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

২০১৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা সংকটে প্রায় ৫ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দাতা যুক্তরাষ্ট্র।

কেলি টি. ক্লেমেন্টস বলেন, সম্পদ কমে যাওয়ায় রোহিঙ্গাদের আরও স্বনির্ভর করে তুলতে হবে, যাতে তারা নিজেদের জীবন নতুন করে গড়ে তুলতে পারে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরতে না পারা পর্যন্ত তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সহায়তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব।

রানিয়া দাগাশ-কামারা বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ অসাধারণ উদারতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি দাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তাদের সহায়তা শরণার্থীদের জন্য জীবনরেখা হিসেবে কাজ করছে।

নিয়ারাদজাই গুম্বনজভান্দা বলেন, বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের চাহিদা এখনও অত্যন্ত বেশি। তহবিল কমে যাওয়ার প্রভাব ইতোমধ্যেই ক্যাম্পের দৈনন্দিন জীবনে পড়তে শুরু করেছে।

শু/সবা