০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুওলজি ক্লাব অব তিতুমীরের উদ্যোগে ‘অ্যাস্ট্রোনমি টু প্যালিওন্টোলজি’ সেমিনার অনুষ্ঠিত

বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞানচর্চা, গবেষণামূলক চিন্তাভাবনা এবং প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবী সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক সেমিনার ‘অ্যাস্ট্রোনমি টু প্যালিওন্টোলজি’।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) জুওলজি ক্লাব অব তিতুমীরের উদ্যোগে কলেজের পুরাতন বিজ্ঞান ভবনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে মহাবিশ্বের বিস্ময়কর জগৎ থেকে শুরু করে কোটি কোটি বছর আগের পৃথিবীর প্রাণিজগত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক হাতে-কলমে শেখার অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রদর্শনী ও ডেমোনস্ট্রেশন সংযোজন করা হয়।

এর মধ্যে ছিল উল্কাপিণ্ড পর্যবেক্ষণ, ডাইনোসরের ফসিল প্রদর্শনী, ইনফ্রারেড ইমেজিং প্রযুক্তি এবং স্পেকট্রোস্কোপি-ভিত্তিক এলিমেন্ট বিশ্লেষণ। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীরা টেলিস্কোপ এবং বিভিন্ন প্রাগৈতিহাসিক জীবাশ্ম (ফসিল) সরাসরি হাতে নিয়ে দেখার সুযোগ পান।

আলোচনায় জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জীবাশ্মবিদ্যার আন্তঃসম্পর্ক, সমসাময়িক বৈজ্ঞানিক গবেষণার ধারা এবং আধুনিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করা হয়। এ সময় ভেরা সি. রুবিন অবজারভেটরি এর ক্যামেরা সেন্সর প্রযুক্তি এবং জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের নিকট-ইনফ্রারেড (NIR) ক্যামেরা সিস্টেমের গাঠনিক বৈশিষ্ট্য শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া ইনফ্রারেড ক্যামেরার লাইভ ডেমোনস্ট্রেশনের মাধ্যমে আধুনিক ইমেজিং প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ দেখানো হয়।

সেমিনারের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রায় ৪৫০ কোটি বছর পুরনো আলতাই উল্কাপিণ্ড প্রদর্শন, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি উইডম্যানস্টেটেন প্যাটার্ন পর্যবেক্ষণের সুযোগ পান। এর মাধ্যমে মহাকাশীয় বস্তুর অভ্যন্তরীণ গঠন ও গঠনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হয়।

এছাড়াও অংশগ্রহণকারীদের জন্য বাস্তব ডাইনোসর ও প্রাগৈতিহাসিক সামুদ্রিক প্রাণীর ফসিল প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ছিল ট্রাইসেরাটপস, মোসাসরাস, প্লেসিওসরাস এবং উলফ ফিন ফিশের জীবাশ্ম। এসব প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রাকৃতিক ইতিহাস ও বিবর্তনবিষয়ক জ্ঞানের পরিধি আরও সমৃদ্ধ হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির প্রাক্তন ক্যাডেট এবং মিকবি সায়েন্টিফিকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাফায়েত আহমেদ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিজ্ঞানভিত্তিক সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও সায়েন্টিফিক এক্সিবিশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে আসছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে চিন্তা ও গবেষণার জগতে প্রবেশ করুক। মহাকাশ গবেষণা ও প্রত্নতত্ত্ববিদ্যায় অসংখ্য অজানা বিষয় রয়েছে, যা তরুণদের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। নিজের পেশাগত জীবনের বাইরেও কীভাবে শখ ও আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু শেখা যায়, সেটিই আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করছি।’

জুওলজি ক্লাব অব তিতুমীরের সাধারণ সম্পাদক শুভ সাহা বলেন, ‘এই সেমিনারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হাতে ধরে উল্কাপিণ্ড, ডাইনোসরের ফসিল এবং বিভিন্ন প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর জীবাশ্ম দেখার সুযোগ পেয়েছে। এতে তাদের মাঝে বিজ্ঞান ও গবেষণা বিষয়ে নতুন চিন্তার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।’

ক্লাবের মডারেটর অধ্যাপক শাফিনাজ সুলতানা বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আজ শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শেখার সুযোগ পেয়েছে। বিশেষ করে জীবাশ্ম, ভূতত্ত্ব এবং মহাকাশ গবেষণার বিভিন্ন বিষয় হাতে-কলমে দেখার মাধ্যমে তাদের শেখার আগ্রহ আরও বেড়েছে।’

শু/সবা

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

20 − seven =

About Author Information

Popular Post

সংগঠনের আদর্শ রক্ষায় যুবদলের ৩০০ নেতা–কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে: যুবদল সভাপতি

জুওলজি ক্লাব অব তিতুমীরের উদ্যোগে ‘অ্যাস্ট্রোনমি টু প্যালিওন্টোলজি’ সেমিনার অনুষ্ঠিত

Update Time : ০৯:২০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞানচর্চা, গবেষণামূলক চিন্তাভাবনা এবং প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবী সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক সেমিনার ‘অ্যাস্ট্রোনমি টু প্যালিওন্টোলজি’।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) জুওলজি ক্লাব অব তিতুমীরের উদ্যোগে কলেজের পুরাতন বিজ্ঞান ভবনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে মহাবিশ্বের বিস্ময়কর জগৎ থেকে শুরু করে কোটি কোটি বছর আগের পৃথিবীর প্রাণিজগত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক হাতে-কলমে শেখার অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রদর্শনী ও ডেমোনস্ট্রেশন সংযোজন করা হয়।

এর মধ্যে ছিল উল্কাপিণ্ড পর্যবেক্ষণ, ডাইনোসরের ফসিল প্রদর্শনী, ইনফ্রারেড ইমেজিং প্রযুক্তি এবং স্পেকট্রোস্কোপি-ভিত্তিক এলিমেন্ট বিশ্লেষণ। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীরা টেলিস্কোপ এবং বিভিন্ন প্রাগৈতিহাসিক জীবাশ্ম (ফসিল) সরাসরি হাতে নিয়ে দেখার সুযোগ পান।

আলোচনায় জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জীবাশ্মবিদ্যার আন্তঃসম্পর্ক, সমসাময়িক বৈজ্ঞানিক গবেষণার ধারা এবং আধুনিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করা হয়। এ সময় ভেরা সি. রুবিন অবজারভেটরি এর ক্যামেরা সেন্সর প্রযুক্তি এবং জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের নিকট-ইনফ্রারেড (NIR) ক্যামেরা সিস্টেমের গাঠনিক বৈশিষ্ট্য শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া ইনফ্রারেড ক্যামেরার লাইভ ডেমোনস্ট্রেশনের মাধ্যমে আধুনিক ইমেজিং প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ দেখানো হয়।

সেমিনারের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রায় ৪৫০ কোটি বছর পুরনো আলতাই উল্কাপিণ্ড প্রদর্শন, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি উইডম্যানস্টেটেন প্যাটার্ন পর্যবেক্ষণের সুযোগ পান। এর মাধ্যমে মহাকাশীয় বস্তুর অভ্যন্তরীণ গঠন ও গঠনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হয়।

এছাড়াও অংশগ্রহণকারীদের জন্য বাস্তব ডাইনোসর ও প্রাগৈতিহাসিক সামুদ্রিক প্রাণীর ফসিল প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ছিল ট্রাইসেরাটপস, মোসাসরাস, প্লেসিওসরাস এবং উলফ ফিন ফিশের জীবাশ্ম। এসব প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রাকৃতিক ইতিহাস ও বিবর্তনবিষয়ক জ্ঞানের পরিধি আরও সমৃদ্ধ হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির প্রাক্তন ক্যাডেট এবং মিকবি সায়েন্টিফিকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাফায়েত আহমেদ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিজ্ঞানভিত্তিক সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও সায়েন্টিফিক এক্সিবিশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে আসছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে চিন্তা ও গবেষণার জগতে প্রবেশ করুক। মহাকাশ গবেষণা ও প্রত্নতত্ত্ববিদ্যায় অসংখ্য অজানা বিষয় রয়েছে, যা তরুণদের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। নিজের পেশাগত জীবনের বাইরেও কীভাবে শখ ও আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু শেখা যায়, সেটিই আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করছি।’

জুওলজি ক্লাব অব তিতুমীরের সাধারণ সম্পাদক শুভ সাহা বলেন, ‘এই সেমিনারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হাতে ধরে উল্কাপিণ্ড, ডাইনোসরের ফসিল এবং বিভিন্ন প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর জীবাশ্ম দেখার সুযোগ পেয়েছে। এতে তাদের মাঝে বিজ্ঞান ও গবেষণা বিষয়ে নতুন চিন্তার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।’

ক্লাবের মডারেটর অধ্যাপক শাফিনাজ সুলতানা বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আজ শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শেখার সুযোগ পেয়েছে। বিশেষ করে জীবাশ্ম, ভূতত্ত্ব এবং মহাকাশ গবেষণার বিভিন্ন বিষয় হাতে-কলমে দেখার মাধ্যমে তাদের শেখার আগ্রহ আরও বেড়েছে।’

শু/সবা