8:45 pm, Tuesday, 23 June 2026

রোনালদোর কাছে আজ এক ধরনের আত্মপরীক্ষা

ফুটবল মূলত তরুণদের খেলা। আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বয়স এখন ৪১।  একসময় মাঠ কাঁপানো এই কিংবদন্তি আজ যেন নিজের ফেলে আসা যৌবনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। হিউস্টনে বিশ্বকাপের ‘কে’ গ্রুপে পর্তুগাল-উজবেকিস্তান ম্যাচকে ঘিরে তাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে শুধুই রোনালদো।

প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে হতাশ করেছে পর্তুগাল। প্রত্যাশার ভারে থাকা দলটির নিষ্প্রভ শুরুর দায় এসে পড়েছে অধিনায়ক রোনালদোর কাঁধে। পুরো ম্যাচে মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করেন তিনি, যা মাঠের অন্য সবার চেয়ে কম। আক্রমণে তেমন কোনো হুমকি সৃষ্টি করতে পারেননি। বড় টুর্নামেন্টে (বিশ্বকাপ ও ইউরো) টানা ১০ ম্যাচে গোলশূন্য থাকার পরিসংখ্যানও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে তাঁর কার্যকারিতা নিয়ে।

পর্তুগালের রাস্তাঘাট, ক্যাফে কিংবা সামাজিক মাধ্যমে এখন একটাই আলোচনা—রোনালদো কি এখনো শুরুর একাদশে থাকার যোগ্য? কয়েক বছর আগেও এমন প্রশ্ন কল্পনাতীত ছিল। কিন্তু সময় বদলেছে, বদলেছে বাস্তবতাও।

তবুও কোচ এখনো রোনালদোর ওপর আস্থা রেখে তাকে পুরো ম্যাচ খেলাচ্ছেন। যেন সময়কে পেছনে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। অথচ ভিতিনিয়া, ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও জোয়াও নেভেসদের নিয়ে বর্তমান পর্তুগাল দলে সৃজনশীলতা ও গতি—দুটোরই অভাব নেই।

রোনালদো শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি পর্তুগালের পরিচয়ের অংশ। তাঁর নামেই বিশ্বজুড়ে দেশটিকে চিনে মানুষ। তাই তাঁকে ঘিরে আবেগও স্বাভাবিকভাবেই অন্য মাত্রার। তবে সেই আবেগের মধ্যেই এখন প্রশ্ন উঠে আসছে।

ডিআর কঙ্গোর মিডফিল্ডার এনগাল’আয়েল মুকাউ ম্যাচ শেষে বলেছিলেন, “তিনি আগের মতো নেই, বয়স হয়েছে।” একসময় এমন মন্তব্য করার সাহস খুব কম মানুষেরই ছিল।

বিশ্বকাপ ২০২২-এ তৎকালীন কোচ ফার্নান্দো সান্তোস রোনালদোকে বেঞ্চে বসিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেটাই ছিল পরিবর্তনের প্রথম ইঙ্গিত। কিন্তু নতুন কোচের অধীনে আবারও পুরোনো নির্ভরতায় ফিরে গেছে পর্তুগাল।

আজ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, এটি রোনালদোর জন্যও এক ধরনের আত্মপরীক্ষা। নকআউট পর্বের আশা বাঁচিয়ে রাখতে পর্তুগালের জয়ের বিকল্প নেই। আর রোনালদোর সামনে রয়েছে নিজের সামর্থ্য আবারও প্রমাণ করার সুযোগ।

তিনি এখনও এমন একজন ফুটবলার, যিনি অসম্ভবকে সম্ভব করে দিতে পারেন। কিন্তু যদি তা না-ও হয়, তবে হয়তো সামনে আসবে আরও কঠিন এক প্রশ্ন—সময়কে অস্বীকার করে এগিয়ে যাওয়া, নাকি সময়কে মেনে নিয়ে নিজের ভূমিকাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা।

হিউস্টনের আলোয় আজ শুধু একটি ম্যাচ হবে না। দেখা যাবে এক কিংবদন্তির নিজের সঙ্গেই লড়াই।

শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

14 + 15 =

About Author Information

বিএনপির সুর পাল্টে গেছে, আরেকটি বিপ্লব অনিবার্য হয়ে উঠেছে: জামায়াত আমির

রোনালদোর কাছে আজ এক ধরনের আত্মপরীক্ষা

Update Time : ০৭:৪৩:৩৭ pm, Tuesday, ২৩ জুন ২০২৬

ফুটবল মূলত তরুণদের খেলা। আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বয়স এখন ৪১।  একসময় মাঠ কাঁপানো এই কিংবদন্তি আজ যেন নিজের ফেলে আসা যৌবনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। হিউস্টনে বিশ্বকাপের ‘কে’ গ্রুপে পর্তুগাল-উজবেকিস্তান ম্যাচকে ঘিরে তাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে শুধুই রোনালদো।

প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে হতাশ করেছে পর্তুগাল। প্রত্যাশার ভারে থাকা দলটির নিষ্প্রভ শুরুর দায় এসে পড়েছে অধিনায়ক রোনালদোর কাঁধে। পুরো ম্যাচে মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করেন তিনি, যা মাঠের অন্য সবার চেয়ে কম। আক্রমণে তেমন কোনো হুমকি সৃষ্টি করতে পারেননি। বড় টুর্নামেন্টে (বিশ্বকাপ ও ইউরো) টানা ১০ ম্যাচে গোলশূন্য থাকার পরিসংখ্যানও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে তাঁর কার্যকারিতা নিয়ে।

পর্তুগালের রাস্তাঘাট, ক্যাফে কিংবা সামাজিক মাধ্যমে এখন একটাই আলোচনা—রোনালদো কি এখনো শুরুর একাদশে থাকার যোগ্য? কয়েক বছর আগেও এমন প্রশ্ন কল্পনাতীত ছিল। কিন্তু সময় বদলেছে, বদলেছে বাস্তবতাও।

তবুও কোচ এখনো রোনালদোর ওপর আস্থা রেখে তাকে পুরো ম্যাচ খেলাচ্ছেন। যেন সময়কে পেছনে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। অথচ ভিতিনিয়া, ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও জোয়াও নেভেসদের নিয়ে বর্তমান পর্তুগাল দলে সৃজনশীলতা ও গতি—দুটোরই অভাব নেই।

রোনালদো শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি পর্তুগালের পরিচয়ের অংশ। তাঁর নামেই বিশ্বজুড়ে দেশটিকে চিনে মানুষ। তাই তাঁকে ঘিরে আবেগও স্বাভাবিকভাবেই অন্য মাত্রার। তবে সেই আবেগের মধ্যেই এখন প্রশ্ন উঠে আসছে।

ডিআর কঙ্গোর মিডফিল্ডার এনগাল’আয়েল মুকাউ ম্যাচ শেষে বলেছিলেন, “তিনি আগের মতো নেই, বয়স হয়েছে।” একসময় এমন মন্তব্য করার সাহস খুব কম মানুষেরই ছিল।

বিশ্বকাপ ২০২২-এ তৎকালীন কোচ ফার্নান্দো সান্তোস রোনালদোকে বেঞ্চে বসিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেটাই ছিল পরিবর্তনের প্রথম ইঙ্গিত। কিন্তু নতুন কোচের অধীনে আবারও পুরোনো নির্ভরতায় ফিরে গেছে পর্তুগাল।

আজ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, এটি রোনালদোর জন্যও এক ধরনের আত্মপরীক্ষা। নকআউট পর্বের আশা বাঁচিয়ে রাখতে পর্তুগালের জয়ের বিকল্প নেই। আর রোনালদোর সামনে রয়েছে নিজের সামর্থ্য আবারও প্রমাণ করার সুযোগ।

তিনি এখনও এমন একজন ফুটবলার, যিনি অসম্ভবকে সম্ভব করে দিতে পারেন। কিন্তু যদি তা না-ও হয়, তবে হয়তো সামনে আসবে আরও কঠিন এক প্রশ্ন—সময়কে অস্বীকার করে এগিয়ে যাওয়া, নাকি সময়কে মেনে নিয়ে নিজের ভূমিকাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা।

হিউস্টনের আলোয় আজ শুধু একটি ম্যাচ হবে না। দেখা যাবে এক কিংবদন্তির নিজের সঙ্গেই লড়াই।

শু/সবা