কাফি মাকুল গ্রামের ভ্যানচালক ও দিনমজুর মন্টু মিয়া এবং কোহিনুর বেগম দম্পতির সন্তান। জন্ম থেকেই তার দুই পা বাঁকা থাকায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারে না। কিন্তু শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতা তার শিক্ষাজীবনের পথে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
বর্তমানে কাফি বাড়ির পাশের শাইলট্টি রায়গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রতিদিন ধীরে ধীরে হেঁটে কিংবা মায়ের সহায়তায় বিদ্যালয় ও প্রাইভেট পড়তে যায়। প্রতিটি দিনই তার জন্য নতুন এক সংগ্রাম, আর প্রতিটি পদক্ষেপই যেন স্বপ্নপূরণের দিকে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সায়েলা বেগম চৌধুরী বলেন, কাফি অত্যন্ত মেধাবী, ভদ্র ও বিনয়ী। শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সহপাঠীরা তাকে কখনো অবহেলা করে না। সিঁড়িতে ওঠানামা থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজে সবাই তাকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করে।
শ্রেণি শিক্ষক বদিউজ্জামান আকন্দ বলেন, অন্য শিক্ষার্থীদের তুলনায় কাফির প্রতি আমাদের একটু বেশি নজর থাকে। আমরা সবসময় তার পাশে থাকার চেষ্টা করি। তার শেখার আগ্রহ ও অধ্যবসায় সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।
কাফির মা-বাবা ও স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য একটি হুইলচেয়ার পেলে তার কষ্ট অনেকটাই কমে যাবে। তারা চান, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেয়ে কাফি যেন একদিন লেখাপড়া শেষ করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
এ বিষয়ে পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন বলেন, কাফির বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। পড়াশোনার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ আমাদের অভিভূত করেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাফির জীবনসংগ্রাম প্রমাণ করে, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নয়—দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, সাহস এবং স্বপ্নই মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়। ছোট্ট কাফির এই লড়াই শুধু একটি শিশুর গল্প নয়, এটি হার না মানা এক অদম্য মানসিকতার প্রতিচ্ছবি।
শু/সবা
পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: 





















