9:58 pm, Saturday, 4 July 2026

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক তৎপরতা নিয়ে যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সকে ইরানের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতার পরও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। শনিবার (৪ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে তারা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করতে প্রস্তুত। এ ঘোষণার পর ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, দায়িত্বশীল আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে এবং সেখানে যেকোনো বিদেশি সামরিক তৎপরতার বিরুদ্ধে সতর্ক রয়েছে।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর। পোস্টের সঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগসংক্রান্ত একটি ঘোষণার স্ক্রিনশটও সংযুক্ত করেন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন ও নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স তাদের তৎপরতা জোরদার করেছে। এ লক্ষ্যে গত এপ্রিলে ৫১টি দেশের অংশগ্রহণে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়।

এর আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে ফ্রান্স, ওমান ও অন্যান্য দেশের সহযোগিতার কথা বলেছিলেন। এ বক্তব্যের জবাবে গরিবাবাদী বলেন, প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের দায়িত্ব একমাত্র ইরানের।

এদিকে খামেনির দাফন প্রক্রিয়া শুরুর আগে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। বাহিনীটি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ভুল পদক্ষেপের জবাব আগের চেয়ে আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে।

এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে সম্ভাব্য পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ বক্তব্যের পরই আইআরজিসির পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে ইরান সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি অতিথি ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতির সম্ভাবনা থাকায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই কারণে আগামী সোমবার তেহরানের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

রয়টার্স প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, দাফন অনুষ্ঠান শুরুর আগে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সূত্র: সিএনএন।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

3 + 14 =

About Author Information

Popular Post

যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক তৎপরতা নিয়ে যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সকে ইরানের হুঁশিয়ারি

Update Time : ০৪:৪০:৫২ pm, Saturday, ৪ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতার পরও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। শনিবার (৪ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে তারা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করতে প্রস্তুত। এ ঘোষণার পর ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, দায়িত্বশীল আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে এবং সেখানে যেকোনো বিদেশি সামরিক তৎপরতার বিরুদ্ধে সতর্ক রয়েছে।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর। পোস্টের সঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগসংক্রান্ত একটি ঘোষণার স্ক্রিনশটও সংযুক্ত করেন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন ও নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স তাদের তৎপরতা জোরদার করেছে। এ লক্ষ্যে গত এপ্রিলে ৫১টি দেশের অংশগ্রহণে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়।

এর আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে ফ্রান্স, ওমান ও অন্যান্য দেশের সহযোগিতার কথা বলেছিলেন। এ বক্তব্যের জবাবে গরিবাবাদী বলেন, প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের দায়িত্ব একমাত্র ইরানের।

এদিকে খামেনির দাফন প্রক্রিয়া শুরুর আগে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। বাহিনীটি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ভুল পদক্ষেপের জবাব আগের চেয়ে আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে।

এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে সম্ভাব্য পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ বক্তব্যের পরই আইআরজিসির পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে ইরান সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি অতিথি ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতির সম্ভাবনা থাকায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই কারণে আগামী সোমবার তেহরানের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

রয়টার্স প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, দাফন অনুষ্ঠান শুরুর আগে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সূত্র: সিএনএন।

শু/সবা