1:00 am, Wednesday, 8 July 2026

নিরাপত্তাকৌশল যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না সরায়: প্রধানমন্ত্রী

নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত নয়, যাতে সরকারপ্রধান জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে তিনি জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর আস্থা রাখতে চান। তাই নিরাপত্তাকৌশল এমনভাবে প্রণয়ন করতে হবে, যাতে সরকারপ্রধান জনগণের কাছ থেকে দূরে সরে না যান এবং সাধারণ মানুষও নিজেদের সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যদের নিয়েই পিজিআর গঠিত। তাদের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই বাহিনীর দক্ষতা, বিশ্বস্ততা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় ফুটে ওঠে।

পিজিআরের দায়িত্বকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের দায়িত্বও এ বাহিনী পালন করে। এসব দায়িত্ব পালনে বিশ্বস্ততা, কর্তব্যপরায়ণতা ও শৃঙ্খলার কারণে পিজিআর একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

তিনি জানান, সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতিস্বরূপ চলতি বছর পিজিআর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে এবং এ অর্জনের জন্য বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানান।

সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের গৌরবের প্রতীক উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব ও কঠোর শৃঙ্খলা বজায় থাকলে দেশের সার্বভৌমত্ব কখনো হুমকির মুখে পড়বে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন প্রযুক্তি ও তথ্যযুদ্ধের মতো নতুন নিরাপত্তা-চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পিজিআরসহ সব বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত থাকতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার পিজিআর ও এসএসএফসহ বিশেষায়িত বাহিনীগুলোকে আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

বক্তব্যের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গঠিত ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’ নাম লাভ করে, যা বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে।

তিনি ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিহত পাঁচ পিজিআর সদস্যকেও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কেক কেটে পিজিআরের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন, বাহিনীর সদর দপ্তরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং চট্টগ্রামে শহীদ হওয়া পাঁচ পিজিআর সদস্যের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন ও তাঁদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

16 + 14 =

About Author Information

Popular Post

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে ন্যাটোর হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি ঘোষণা

নিরাপত্তাকৌশল যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না সরায়: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ০৪:৪০:২১ pm, Sunday, ৫ জুলাই ২০২৬

নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত নয়, যাতে সরকারপ্রধান জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে তিনি জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর আস্থা রাখতে চান। তাই নিরাপত্তাকৌশল এমনভাবে প্রণয়ন করতে হবে, যাতে সরকারপ্রধান জনগণের কাছ থেকে দূরে সরে না যান এবং সাধারণ মানুষও নিজেদের সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যদের নিয়েই পিজিআর গঠিত। তাদের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই বাহিনীর দক্ষতা, বিশ্বস্ততা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় ফুটে ওঠে।

পিজিআরের দায়িত্বকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের দায়িত্বও এ বাহিনী পালন করে। এসব দায়িত্ব পালনে বিশ্বস্ততা, কর্তব্যপরায়ণতা ও শৃঙ্খলার কারণে পিজিআর একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

তিনি জানান, সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতিস্বরূপ চলতি বছর পিজিআর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে এবং এ অর্জনের জন্য বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানান।

সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের গৌরবের প্রতীক উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব ও কঠোর শৃঙ্খলা বজায় থাকলে দেশের সার্বভৌমত্ব কখনো হুমকির মুখে পড়বে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন প্রযুক্তি ও তথ্যযুদ্ধের মতো নতুন নিরাপত্তা-চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পিজিআরসহ সব বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত থাকতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার পিজিআর ও এসএসএফসহ বিশেষায়িত বাহিনীগুলোকে আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

বক্তব্যের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গঠিত ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’ নাম লাভ করে, যা বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে।

তিনি ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিহত পাঁচ পিজিআর সদস্যকেও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কেক কেটে পিজিআরের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন, বাহিনীর সদর দপ্তরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং চট্টগ্রামে শহীদ হওয়া পাঁচ পিজিআর সদস্যের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন ও তাঁদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

শু/সবা