১১:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খুলনায় অবাধ ‘এলপিজি’ বাণিজ্য

  • কর্তৃপক্ষের নিরবতায় রহস্য
খুলনা নগরীতে নিয়ম বর্হিভূতভাবে যত্রতত্র চলছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রির মহোৎসব। অনুমোদন ছাড়া এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির বিধান না থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে নগরীর বিভিন্ন স্থানে, পাড়া-মহল্লার অলিগতিতে, স্থানীয় বাজারের বিভিন্ন মনোহরি দোকানে, অবাধে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার, লাগছেনা অনুমোদন।
এদিকে, এ সকল দাহ্য পদার্থ অনুমোদনহীনভাবে বিক্রির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নামমাত্র অভিযান অব্যহত থাকলেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ এ বাণিজ্য।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিধি মোতাবেক গ্যাস সিলিন্ডার বা দাহ্য পদার্থ বিক্রির জন্য কমপক্ষে পাকা মেঝেসহ আধাপাকা ঘর, অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার মজবুত ও ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার থাকতে হবে। একই সঙ্গে একজন ব্যবসায়ী এই শর্তগুলো পূরণ করলেই কেবল দাহ্য পদার্থ বিক্রির নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন। তাছাড়া তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রির জন্য বিস্ফোরক লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, নো অবজেকশন সার্টিফিকেট, টিআইএন, ট্রেড লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা অদৃশ্যমান। তাই যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা, এমনই ধারণা সচেতন সমাজের ব্যক্তিবর্গের।
খুলনা বিভাগীয় বিস্ফোরক পরিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, খুচরা বিক্রির ক্ষেত্রে একজন বিক্রেতা সর্বোচ্চ ১০টি পর্যন্ত এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার মুজদ করতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই কমপক্ষে পাকা মেঝেসহ আধাপাকা ঘর, অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার এবং মজবুত ও ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার থাকতে হবে। পাশাপাশি আবসিক এলাকায় মুজদ সম্পূর্ন নিষিদ্ধ।
এদিকে, খুলনা জেলায় বিস্ফোরক লাইসেন্স গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের ছাড়াও সম্প্রতি নগরীতে অনুমোদনহীন গ্যাস সরবরাহকারী খুচরা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ক্রমশঃই বৃদ্ধি পেয়েছে। সল্প বিনিয়োগে দিনশেষে লাভের অংঙ্কটা সন্তোষজনক হওয়ায় নগরীর অধিকাংশ এলাকায় লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়াই দৌঁড়-ঝাঁপ করে অনেকেই নেে ছেন সহজলভ্য এ ব্যবসায়।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খুলনার বিভিন্ন এলাকায়, সোনাডাঙ্গা, পৈ-পাড়া, গল্লামারী, নিরালা, রুপসা, বয়রা, বাস্তহারা, বৈকালি, খালিশপুর, দৌলতপুর, মানিকতলা, ফুলবাড়ীগেট, শিরোমনি, আটরা, ফুলতলা এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজারঘাট, মুদির দোকান, ফ্লাক্সিলোডের দোকান, ফটোকপিয়ার দোকান, চায়ের দোকানসহ গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অলিগলি, পাড়া-মহল্লার নিয়মবর্হিভূতভাবে চলছে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রির রমরমা ব্যবসা।
গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা শাহাদাত হোসেন জানান, আমরা ছোট ব্যবসায়ী। সারা দিনে দু-একটা গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করি। এলাকার মধ্যে চাহিদা থাকায় দোকানে গ্যাস উঠিয়েছে এবং চাহিদা থাকায় ডিলারদের কাছ থেকে গ্যাস সিলিন্ডার কিনে এনে বিক্রি করছি।
খুলনা বিভাগীয় বিস্ফোরক পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদন বিহীন এলপিজি সিলিন্ডার ও দাহ্য পদার্থ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে, আমাদের এই কার্যক্রম নিয়মিত চলমান আছে।
দৌলতপুর ফায়ার স্টেশন ওয়ার হাউজ ইন্সপেক্টর মোঃ কায়ূমুজ্জামান জানান, দাহ্য পদার্থ, গ্যাসের সিলিন্ডারের ব্যবসা, পেট্্েরাল ডিজেলের ব্যবসার ক্ষেত্রে অবশ্যই ফায়ার ও বিস্ফোরক লাইসেন্স থাকতে হবে। ফায়ার ও বিস্ফোরক অনুমোদনহীন দাহ্য পদার্থ বিক্রি দন্ডনীয় অপরাধ বলে বিবেচিত। এছাড়া যত্রতত্র এলপি গ্যাস পেট্্েরাল বা দাহ্য পদার্থ বিক্রির কারণে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডসহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। যে সকল প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট লাইসেন্স নেই তাদের বিরুদ্ধে অগ্নিপ্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন (২০০৩) অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিধান আছে, সেঅনুনারে বিভিন্ন সময়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে, এ কার্যক্রম নিয়মিত অব্যহত আছে।
জনপ্রিয় সংবাদ

মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ক্যামিওতে রংপুরের দারুণ জয়

খুলনায় অবাধ ‘এলপিজি’ বাণিজ্য

আপডেট সময় : ১১:৪৭:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৩
  • কর্তৃপক্ষের নিরবতায় রহস্য
খুলনা নগরীতে নিয়ম বর্হিভূতভাবে যত্রতত্র চলছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রির মহোৎসব। অনুমোদন ছাড়া এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির বিধান না থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে নগরীর বিভিন্ন স্থানে, পাড়া-মহল্লার অলিগতিতে, স্থানীয় বাজারের বিভিন্ন মনোহরি দোকানে, অবাধে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার, লাগছেনা অনুমোদন।
এদিকে, এ সকল দাহ্য পদার্থ অনুমোদনহীনভাবে বিক্রির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নামমাত্র অভিযান অব্যহত থাকলেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ এ বাণিজ্য।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিধি মোতাবেক গ্যাস সিলিন্ডার বা দাহ্য পদার্থ বিক্রির জন্য কমপক্ষে পাকা মেঝেসহ আধাপাকা ঘর, অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার মজবুত ও ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার থাকতে হবে। একই সঙ্গে একজন ব্যবসায়ী এই শর্তগুলো পূরণ করলেই কেবল দাহ্য পদার্থ বিক্রির নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন। তাছাড়া তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রির জন্য বিস্ফোরক লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, নো অবজেকশন সার্টিফিকেট, টিআইএন, ট্রেড লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা অদৃশ্যমান। তাই যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা, এমনই ধারণা সচেতন সমাজের ব্যক্তিবর্গের।
খুলনা বিভাগীয় বিস্ফোরক পরিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, খুচরা বিক্রির ক্ষেত্রে একজন বিক্রেতা সর্বোচ্চ ১০টি পর্যন্ত এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার মুজদ করতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই কমপক্ষে পাকা মেঝেসহ আধাপাকা ঘর, অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার এবং মজবুত ও ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার থাকতে হবে। পাশাপাশি আবসিক এলাকায় মুজদ সম্পূর্ন নিষিদ্ধ।
এদিকে, খুলনা জেলায় বিস্ফোরক লাইসেন্স গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের ছাড়াও সম্প্রতি নগরীতে অনুমোদনহীন গ্যাস সরবরাহকারী খুচরা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ক্রমশঃই বৃদ্ধি পেয়েছে। সল্প বিনিয়োগে দিনশেষে লাভের অংঙ্কটা সন্তোষজনক হওয়ায় নগরীর অধিকাংশ এলাকায় লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়াই দৌঁড়-ঝাঁপ করে অনেকেই নেে ছেন সহজলভ্য এ ব্যবসায়।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খুলনার বিভিন্ন এলাকায়, সোনাডাঙ্গা, পৈ-পাড়া, গল্লামারী, নিরালা, রুপসা, বয়রা, বাস্তহারা, বৈকালি, খালিশপুর, দৌলতপুর, মানিকতলা, ফুলবাড়ীগেট, শিরোমনি, আটরা, ফুলতলা এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজারঘাট, মুদির দোকান, ফ্লাক্সিলোডের দোকান, ফটোকপিয়ার দোকান, চায়ের দোকানসহ গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অলিগলি, পাড়া-মহল্লার নিয়মবর্হিভূতভাবে চলছে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রির রমরমা ব্যবসা।
গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা শাহাদাত হোসেন জানান, আমরা ছোট ব্যবসায়ী। সারা দিনে দু-একটা গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করি। এলাকার মধ্যে চাহিদা থাকায় দোকানে গ্যাস উঠিয়েছে এবং চাহিদা থাকায় ডিলারদের কাছ থেকে গ্যাস সিলিন্ডার কিনে এনে বিক্রি করছি।
খুলনা বিভাগীয় বিস্ফোরক পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদন বিহীন এলপিজি সিলিন্ডার ও দাহ্য পদার্থ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে, আমাদের এই কার্যক্রম নিয়মিত চলমান আছে।
দৌলতপুর ফায়ার স্টেশন ওয়ার হাউজ ইন্সপেক্টর মোঃ কায়ূমুজ্জামান জানান, দাহ্য পদার্থ, গ্যাসের সিলিন্ডারের ব্যবসা, পেট্্েরাল ডিজেলের ব্যবসার ক্ষেত্রে অবশ্যই ফায়ার ও বিস্ফোরক লাইসেন্স থাকতে হবে। ফায়ার ও বিস্ফোরক অনুমোদনহীন দাহ্য পদার্থ বিক্রি দন্ডনীয় অপরাধ বলে বিবেচিত। এছাড়া যত্রতত্র এলপি গ্যাস পেট্্েরাল বা দাহ্য পদার্থ বিক্রির কারণে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডসহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। যে সকল প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট লাইসেন্স নেই তাদের বিরুদ্ধে অগ্নিপ্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন (২০০৩) অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিধান আছে, সেঅনুনারে বিভিন্ন সময়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে, এ কার্যক্রম নিয়মিত অব্যহত আছে।