বিএনপির ডাকা চলমান অবরোধ কর্মসূচিতে অনেকটা থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে নড়াইলে। চতুর্থ দফায় ডাকা অবরোধের শেষ দিনে বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা যায়, বাস কাউন্টারে নেই যাত্রীর ভিড়। তাই স্বল্প যাত্রী নিয়েই গাড়ি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন বাস মালিকেরা।
জানা যায়, সরকারের পদত্যাগ এবং নিরপেক্ষ-নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের এক দফা দাবি, বিএনপির মহাসমাবেশে হামলা ও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গত ২৯ অক্টোবর হরতালের ডাক দেয় বিএনপি। এরপর থেকে থেমে থেকে চলছে অবরোধ কর্মসূচি।
এই কর্মসূচি শেষে গত ২ নভেম্বর ফের দুদিনের অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেয় বিএনপি। গত ৮ নভেম্বর তৃতীয় দফার অবরোধ শুরু হয়ে শেষ হয় গত শুক্রবার। আর চতুর্থ দফার অবরোধ গতকাল শুরু হয়ে শেষ হবে আজ।
এদিকে বিএনপির ডাকা সারা দেশের অবরোধ কর্মসূচির কারণে খা খা করছে নড়াইলের বাস কাউন্টারগুলো। নেই তেমন কোনো যাত্রী। গুটিকয়েক যারা রয়েছেন তারাও এক প্রকার বাধ্য হয়েই জীবনের মায়া ত্যাগ করে ছুটছেন গন্তব্যে। এ সময়ে বাসে বসে থাকা যাত্রীদের সাথে কথা বললে যাত্রী প্রান্তিক মাহমুদ জানান, আগামীকাল সকালে পরীক্ষা। যে কারণে বাধ্য হয়েই যেতে হচ্ছে ঢাকাতে সকল বিপদ উপেক্ষা করে। এইরকম চলতে থাকলে জনজীবন হুমকির মুখেও পড়বে বলে জানান তিনি। বাসে থাকা অন্য এক যাত্রী বলেন, বাসায় এসেছিলাম ছুটিতে। ছুটি শেষ এখন ঢাকায় ফিরে যেতে হচ্ছে । পরিবার ছেড়ে দূরে থাকি। মাসে ২-১ বার ই পরিবারের কাছে আসার সুযোগ পায়। তাই তো অবরোধ থাকা সত্বেও পরিবারের সাথে দেখা করতে এসেছিলাম। আজ আবার ফিরে যাচ্ছি। জানিনা ভাগ্যে কি আছে।
অবরোধ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে বাস কাউন্টারে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা বলেন, বাসে কোনো যাত্রীর দেখা নাই। অবরোধের দিনগুলোতে ২-৫ জন করে যাত্রী হচ্ছে যা দিয়ে সর্বোচ্চ গাড়ির তেলের খরচ ও টোল খরচ টা মেটানো সম্ভব ।
অবরোধ সম্পর্কে জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা লিটন বলেন, আমাদের অবরোধে সারা বাংলাদেশের মানুষ যে স্বতঃস্ফূ্তভাবে সাড়া দিচ্ছে তার প্রমাণ কাউন্টারে গেলেই দেখা যাচ্ছে। সেখানে কোনো যাত্রী নেই। আমরা জনগণ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি না করে আমাদের অবরোধ চালিয়ে যাবো। জনগণকে সাথে নিয়েই আমরা এই অবৈধ ফ্যাসিস্ট সরকারকে উৎখাত করেই ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।
অবরোধে যাত্রীরা কি ভয়ে বের হতে পারছে এমন প্রশ্নের জবাবে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুর রহমান বলেন, নড়াইলে এমন কোনো ঘটনা ঘটছে না। সব কিছুই স্বাভাবিক । আমাদের মাননীয় পুলিশ সুপার সাদিরা খাতুনের নেতৃত্বে আমরা সব সময় সজাগ আছি।





















