আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করায় দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গের অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা সদস্য ডা. মো. আক্কাস আলী সরকারকে বহিষ্কার করেছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) দলটির আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই এ সিদ্ধান্ত দেয়। দলটির প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক আহমদ আবদুল কাইয়মের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে প্রফেসর ডা. আক্কাস আলী কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করেছেন। বর্তমান সরকারের পাতানো নির্বাচনে অংশগ্রহণ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী।
এছাড়াও প্রফেসর ডা. আক্কাস আলী সরকারকে সংগঠনের নীতিমালা ও শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের দায়ে তাকে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, এজন্য ৭ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, বহিষ্কার হওয়ার বিষয়ে আক্কাস আলী সরকার বলেন, আমি এখনও কিছু জানি না। তবে হতেই পারে। এটা আমি জানি। সব রাজনৈতিক দল এটা করে। নিবাচিত হলে আবার দলে টেনে নেয়।
তিনি আরো বলেন, দল ভাবে জাতীয় রাজনীতি নিয়ে। আমাকে ভাবতে হয় স্থানীয় রাজনীতি নিয়ে। উলিপুর অবহেলিত এলাকা। এখানে কয়েকমাস আমি এমপি ছিলাম। তেমন কাজ করার সুযোগ ছিল না। এবার এলাকার জনগণই আমাকে ভোটে নিয়ে আসছে। আশা করছি, জয়ী হয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবো। দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, আমাকে ভোট করতে হবে
কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ডা. আক্কাস আলী সরকার। গত দশম সংসদ নির্বাচনে ওই আসনের মহাজোটের (জাতীয় পার্টি) সংসদ সদস্য মাইদুল ইসলাম মারা গেলে উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নিবাচিত হন। কয়েকমাস পর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পেলেও ওই আসন মহাজোটের প্রধান দল আওয়ামী লীগকে ছেড়ে দেন। এরপর তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগ দেন অন্যতম নেতা হিসেবে।
এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না চরমোনাই পীরের দলটি। কিন্তু স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ডা. আক্কাস। আজ বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন।




















