হৃদয় সরকার, বশেমুরবিপ্রবি সংবাদদাতা
গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েও হইল না শেষ। ম্যুরাল নির্মাণের জন্য ২০১৪ সালে প্রকল্পের অনুমোদন হলেও এখনো তার শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। আদৌ এটি হবে কি না, হলে কবে নাগাদ শেষ হবেÑতা নিয়ে রয়েছে সংশয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২০১৪ সালে অনুমোদনপ্রাপ্ত বশেমুরবিপ্রবি অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে ১৩টি টেন্ডারের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের জন্য বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ সময় প্রকল্পগুলো শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়িত হয়েছিল। ২৪০ বর্গমিটার জায়গায় ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে ম্যুরালটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু ২০১৭ সাল পর্যন্ত ম্যুরালটির কাজ শুরুই করেনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। সে সময় কয়েক দফায় বশেমুরবিপ্রবি অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
পরে ২০১৮ সালে প্রকল্পটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা উন্নয়ন এবং ওয়ার্কস দপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় পরিকল্পনা উন্নয়ন এবং ওয়ার্কস দপ্তর প্রকল্পটি প্রথম রিভাইজড করে। রিভাইজড বাজেটে ২৪০ বর্গমিটার স্থানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু এর প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয়েছিল ১৫ কোটি ৮৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা।

পরিকল্পনা দপ্তর জানায়, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ বাস্তবায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান PFC & TBL (JV) ১৪ কোটি ২৭ লাখ ৩২ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তি অনুযায়ী ম্যুরাল নির্মাণের কার্যাদেশ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। সেই সময় প্রায় ১ বছর আগে শেষ হয়ে গেলেও এখনো ম্যুরাল নির্মাণ শেষ হয়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা উন্নয়ন এবং ওয়ার্কস দপ্তর জানায়, ২০১৮ সালে শিক্ষা ও প্রকৌশল দপ্তর থেকে আমাদের কাছে প্রকল্পটি হস্তান্তরিত হয়। বঙ্গবন্ধুর নামে কোনো প্রকল্প বা ম্যুরাল নির্মাণ করতে হলে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সে জন্য প্রকল্পটি আমাদের কাছে হস্তান্তরের পর আমরা কনসালট্যান্ট নিয়োগ দিই। আমরা চেয়েছি বঙ্গবন্ধুর নামের বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ম্যুরালরটি ইউনিক হবে। সে জন্য আমরা পরিকল্পনা কমিশনের মাধ্যমে এটির ডিজাইনে একাধিক পরিবর্তন এনেছি। এরপর বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল কমপ্লেক্স বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের কাছে প্রকল্পটি পাঠাই। কিন্তু তারপরই দেশে করোনা চলে আসে। ফলে দীর্ঘদিন এটি বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের কাছেই ছিল। যার কারণে তখন পর্যন্ত আমরা প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারিনি। এরপর করোনার প্রকোপ কমে আসলে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদকে সামনে রেখে ২০২১ সালে আমরা এর কাজ শুরু করি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২০২২-এর ডিসেম্বর পেরিয়ে ২০২৩-এর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি চলে আসলেও প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। প্রায় ২-৩ মাস যাবৎ ম্যুরাল নির্মাণের কাজসহ অন্যান্য টেন্ডারের কাজ সম্পূর্র্ণ বন্ধ ছিল। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এর শতভাগ বাস্তবায়নে ব্যর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন এবং ওয়ার্কস দপ্তর ও প্রকৌশল দপ্তর। ফলে সরকার থেকে টাকা পাওয়া যায়নি। তাই যথাসময়ে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে পারেনি তারা। তবে গত সপ্তাহ থেকে এর কাজ নতুন করে শুরু হতে দেখা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের সর্বশেষ জরিপের তথ্য মতে, সেপ্টেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত ম্যুরাল কমপ্লেক্স নির্মাণে আর্থিক ব্যয় হয়েছে ৪০.০৮ শতাংশ। যার ভৌত অবকাঠামো হয়েছে ৮০ শতাংশ।
পরিকল্পনা দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ‘আশা করি ২০২৪ সালের ১৭ মার্চের মধ্যে ম্যুরাল নির্মাণের কাজ শেষ করতে পারব।’
প্রসঙ্গত, এর আগে বশেমুরবিপ্রবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের কোনো ধরনের নির্মাণকাজ শুরু না করেই দীর্ঘদিন যাবৎ নির্মাণাধীন দেখানো হয়েছিল। এমনকি কাগজে-কলমে নির্মাণকাজের অগ্রগতি দেখানো হয়েছিল ১৬.১৯ শতাংশ এবং ব্যয় দেখানো হয়েছিল আড়াই কোটি টাকা।




















